Author: ডেস্ক রিপোর্ট

ঢাকা শহর একসময় শুধু ইট-পাথরের নগরী ছিল না, ছিল শব্দের শহর, মানুষের শহর, পরিচিত মুখের শহর। ভোরবেলা ঘুম ভাঙত হকারের ডাকে, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামত ফেরিওয়ালাদের হাঁকে, আর রাত নামার আগেই অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ত ছোট ছোট জীবিকার ব্যস্ততা। সেই ঢাকা আজও আছে, কিন্তু কোথাও যেন তার প্রাণের অনেকটা হারিয়ে গেছে। আধুনিকতার দৌড়ে আমরা হয়তো অনেক কিছু পেয়েছি, কিন্তু হারিয়েছি এমন কিছু পেশা, কিছু মানুষ আর কিছু স্মৃতি, যেগুলো একসময় এই শহরের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। একটা সময় ছিল, যখন সকালে দূর থেকে ভেসে আসত “চাই লইবোওও চাই…” কিংবা “লেস-ফিতা হরেক মাল…”—এই টানটান সুরের ডাক। ছোটবেলায় এসব ডাক শুনলেই মানুষ…

Read More

দেশজুড়ে শিশুদের ওপর সহিংসতা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনাগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং সমাজের মানবিক ও নৈতিক অবস্থান নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা শিশুদের পরিচিত মানুষ—প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ। ফলে অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। আইন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে উঠে এসেছে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন,…

Read More

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচার মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা। দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনা সরাসরি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান এবং ইতোমধ্যে তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই খবর নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা আত্মগোপনে বা নির্বাসনে থাকতে চান না। বরং তিনি দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাব দিতে আগ্রহী। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান এবং তার ফেরাকে ঘিরে বড়…

Read More

একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি বাক্য ছিল, যা হাজারো দম্পতির স্বপ্নকে মুহূর্তেই ভেঙে দিত— “আপনার কোনো শুক্রাণু নেই।” এই একটি বাক্যের ভেতর লুকিয়ে থাকত হতাশা, মানসিক ভেঙে পড়া, পারিবারিক চাপ এবং অপূর্ণ থেকে যাওয়া পিতৃত্ব–মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে সেই অসম্ভবকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, যাদের একসময় সম্পূর্ণ বন্ধ্যা মনে করা হতো, তাদের শরীরেও হয়তো লুকিয়ে আছে একটি বা দুটি শুক্রাণু— আর সেই শুক্রাণুকেই খুঁজে বের করতে সক্ষম হচ্ছে এআই। বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মদানের বয়সে থাকা প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন…

Read More

চায়ের কাপ হাতে নেওয়ার আগে একবার চাঁদপুর ১৯২১-এর কথা মনে করুন। মনে করুন সেই হাজারো চা-শ্রমিকের কথা, যারা এক শতাব্দীরও বেশি আগে ঘর ফেরার স্বপ্নে পথে নেমেছিল। তারা বিদ্রোহ করতে চায়নি, রাষ্ট্র উল্টে দিতে চায়নি, কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধও ঘোষণা করেনি। তারা শুধু বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসক তাদের সেই মানবিক আকাঙ্ক্ষাকেও ভয় পেয়েছিল। তাই চাঁদপুর স্টিমারঘাটে গুলি চালানো হয়েছিল নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর। রক্তে লাল হয়েছিল নদীর পানি। ইতিহাস একে মনে রাখেনি যতটা রাখা উচিত ছিল, কিন্তু চা-বাগানের মানুষের স্মৃতিতে সেই ক্ষত আজও জীবন্ত। ১৯২১ সালের ২০ মে। ব্রিটিশ ভারতের শাসন চলছে তখন। সিলেট ও চট্টগ্রামের চা-বাগান থেকে হাজার হাজার…

Read More

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন এক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকর এবং ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ ফেরত পাঠানোর ঘোষণা। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে একটি রাজ্যের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা নির্বাচনী কৌশল মনে হলেও এর গভীরে রয়েছে বহুস্তরীয় রাজনৈতিক, কৌশলগত ও আদর্শিক হিসাব। সীমান্ত রাজনীতি, নাগরিকত্ব সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বাংলাদেশকে ঘিরে কূটনৈতিক সমীকরণ— সবকিছু মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়; বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভবিষ্যতের অংশ হয়ে উঠছে। ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রথম থেকেই বিতর্কিত। কারণ এই আইন ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি করেছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিমদের জন্য নাগরিকত্বের পথ সহজ…

Read More

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। শুধু গত দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার মাসে ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে প্রতিবেশী সোহেল রানা। গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ১০ বছরের…

Read More

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা নামটি শুধু একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং কয়েক দশকের ক্ষমতা, আন্দোলন, সংঘাত, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এক সময়ের টানা ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নিবন্ধন স্থগিত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, দুর্নীতির মামলাও চলছে। এমন বাস্তবতায় সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার “শিগগিরই দেশে ফেরার” ইঙ্গিত নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। প্রশ্ন উঠেছে—আসলে কি শেখ হাসিনা ফিরতে পারবেন? আওয়ামী লীগ কি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবে? নাকি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে? ২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট বাংলাদেশের…

Read More

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসার মরদেহ যেদিন উদ্ধার করা হলো, সেদিন পুরো দেশ আবারও এক ভয়ংকর বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে গেল। একটি শিশুর জুতা দরজার বাইরে পড়ে ছিল, আর ঘরের ভেতরে পড়ে ছিল তার নিথর দেহ। এই নির্মমতা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার গভীর সংকটকেও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ এ দেশে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা যতটা ভয়াবহ, তার চেয়েও ভয়াবহ হলো বিচার না পাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিটি আলোচিত ঘটনার পর মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ওঠে, প্রশাসন দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেয়, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ মামলাই হারিয়ে যায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও…

Read More

ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা এক পরিচিতি বহন করে আসছে। প্রশস্ত রাস্তা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা, নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে অনেকের কাছে এটি রাজধানীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবাসন প্রকল্পগুলোর একটি। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে জমেছে আরেক বাস্তবতা—একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প কীভাবে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমান্তরাল এক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, সেই প্রশ্ন এখন প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। সম্প্রতি সরকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাকে পুরোপুরি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকের ভাষায়, এটি শুধু একটি আবাসিক প্রকল্প নয়, বরং “রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র” হয়ে…

Read More