Author: ডেস্ক রিপোর্ট

নির্বাচন মানেই শুধু ব্যালটে প্রতীক থাকা–না থাকা নয়, নির্বাচন আসলে সমাজের ভেতরে জমে থাকা রাজনৈতিক স্মৃতি, ভয়, অভ্যাস, স্বার্থ আর কৌশলের বহিঃপ্রকাশ। সেই জায়গা থেকেই এবারের নির্বাচনকে দেখলে স্পষ্ট হয়—আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বাইরে থেকেও আওয়ামী লীগ বাস্তবে ভোটের মাঠে প্রবলভাবে উপস্থিত থাকবে। প্রশ্নটা তাই আওয়ামী লীগ থাকবে কি না, বরং থাকবে কীভাবে। জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। একটি দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা দল, যার শিকড় প্রশাসন থেকে শুরু করে গ্রাম–পাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত, হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ। দলীয় কার্যালয় বন্ধ, প্রতীক বাতিল, শীর্ষ নেতারা বিদেশে, মাঠের নেতা-কর্মীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু রাজনীতি…

Read More

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি প্রস্তাব বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing–এর কাছ থেকে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো এককালীন লেনদেন নয়; বরং ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধ কাঠামোর আওতায় এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। হিসাব অনুযায়ী, বছরে আনুমানিক ১,৫০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতে পারে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি…

Read More

বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড আদৌ সম্ভব কি না—এই প্রশ্নটা আবেগের না, একেবারেই অর্থনীতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা আর রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন। সংক্ষেপে বললে, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব, কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। অর্থনীতি আছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরও হ্যাঁ, তবে সেটি টেকসই হবে কি না, সেটা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ধরন ও কাঠামোর ওপর। প্রথমে অর্থনীতির কথাই বলা যাক। বাংলাদেশে বর্তমানে জিডিপির আকার ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকার ইতোমধ্যেই বছরে জিডিপির প্রায় ২–২.৫ শতাংশ ব্যয় করে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিসিবির পণ্য বিতরণ—এসব মিলিয়ে একটি বড় অঙ্কের টাকা ইতোমধ্যেই খরচ হচ্ছে, কিন্তু সমস্যাটি হলো এই খরচ খণ্ডিত, অসংহত এবং অদক্ষ। একই পরিবার কখনো তিনটি…

Read More

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলো আবার কথা বলছে। রঙিন গ্রাফিতিতে লেখা ক্ষোভ, ব্যঙ্গ আর কবিতার মতো বাক্যগুলো যেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি টেনে আনে—যে আন্দোলন টানা পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। একসময়ের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী, যাকে বহু মানুষ স্বাধীনতার চেতনার ধারক মনে করতেন, শেষ দিকে এসে তিনি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছিলেন—এমন অভিযোগ ছিল প্রবল। ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি আশ্রয় নেন ভারতে, আর সেই সিদ্ধান্তই আজ বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনমনে গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দল বেঁধে বসে থাকা তরুণদের চোখে-মুখে এখন প্রশ্ন আর তর্ক। কেউ বলছে নির্বাচন নিয়ে, কেউ বলছে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে। মাঠের এক পাশে দুলছে লাল…

Read More

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল এক ধরনের অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। আগের সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রত্যক্ষ অভিঘাত পড়েছিল অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দাম, ডলারের তীব্র সংকট, বৈদেশিক ঋণের চাপ, ব্যাংকখাতের নাজুক অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অর্থপাচারের ক্ষত—সব মিলিয়ে অর্থনীতির সামনে তখন বড় প্রশ্ন ছিল, এটি আদৌ ভেঙে পড়বে কি না। সেই বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের পথচলা শেষে আজ মূল্যায়নের প্রশ্ন উঠছে—অর্থনীতি কতটা পাল্টেছে, আর কতটাই বা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ক্ষমতা গ্রহণের সময় সরকারের প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া।…

Read More

ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয়ে শনিবার রাতে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি এবং সেখান থেকে সাংবাদিকদের ক্যাম্পে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে সশস্ত্র সেনাসদস্যদের একটি দলকে সংবাদকক্ষের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যা সাংবাদিক সমাজ ও নাগরিক পরিসরে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ টাইমস কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই রাতে সেনাসদস্যরা অফিসে প্রবেশ করে কর্মরত সাংবাদিকদের দ্রুত প্রস্তুত হতে বলেন এবং মোট ২১ জন সাংবাদিককে গাড়িতে করে উত্তরা সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সংবাদমাধ্যমের অফিসে এভাবে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি এবং সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে যাওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি এবং দেশে আগে এমন…

Read More

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং অনেকটাই অপ্রত্যাশিত যে রাজনৈতিক পরিবর্তনটি ঘটেছে, তা হলো গত দেড় বছরে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনসমর্থনের দ্রুত বৃদ্ধি। এই উত্থান এতটাই নাটকীয় যে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে যদিও ফেব্রুয়ারি ১২–এর নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে দেখা যাচ্ছে, তবুও কিছু বিশ্লেষকের মতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারে। এই পরিবর্তনের ব্যাপকতা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের শেষ কয়েক বছরে জামায়াত এতটাই প্রান্তিক ও দমনমূলক অবস্থার মধ্যে ছিল যে দলটি কার্যত একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বাভাবিকভাবে কাজই করতে পারেনি। তাদের বহু শীর্ষ নেতা কারাবন্দি ছিলেন এবং দলটি প্রায় গোপন অবস্থায় কার্যক্রম…

Read More

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একাধিক নারী নেত্রী। রোববার নির্বাচন ভবনে গিয়ে তারা সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের আপত্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন। এই আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি মন্তব্যে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যা অবমাননাকর,…

Read More

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে ততই রাজনৈতিক কথাবার্তায় একটি শব্দ ঘুরেফিরে সামনে আসে—ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে কোনো না কোনো পক্ষ আগেভাগেই নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই শব্দটি এখন এতটাই পরিচিত যে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও এটি জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও স্পষ্টভাবে জানে না ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে ঠিক কী বোঝানো হয় এবং বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই অভিযোগের শিকড় কোথায়। রাজনীতি ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নির্বাচনের নিয়মকানুন ভোটগ্রহণের পরিবেশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ক্ষমতার কাঠামোকে এমনভাবে প্রভাবিত…

Read More

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকী সিদ্ধান্ত বরাবরই বাস্তবতার চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। খুলনা–১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যখন একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেয়, তখন সেটিও ঠিক তেমনই একটি প্রতীকী ঘটনা হয়ে ওঠে। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থী দাঁড় করানো নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ। কিন্তু এই চমকের আড়ালে যে প্রশ্নটি ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে, তা হলো—এই সিদ্ধান্ত কি জামায়াতের দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়? বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছে ইসলামকে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দলটির ঘোষণাপত্র, রাজনৈতিক ভাষ্য এবং অতীত কর্মকাণ্ডে বারবার উঠে এসেছে শরিয়াভিত্তিক…

Read More