Author: ডেস্ক রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল ভূরাজনীতির ভেতরে এমন এক নীরব সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে বাংলাদেশ। যুদ্ধের আগুন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং শক্তির হিসাব-নিকাশের মাঝখানে আটকে পড়েছে একটি জাহাজ—‘বাংলার জয়যাত্রা’। নামের মধ্যে যেমন অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত, বাস্তবে তার পথ আজ থমকে গেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির মুখে। এই প্রণালি শুধু একটি ভৌগোলিক পথ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির এক ধমনী। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে যে দেশ এই প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শক্তির এক বড় অংশ নিজের হাতে ধরে রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সেই শক্তিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।…

Read More

আধুনিক যুদ্ধের মানচিত্রে এমন এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে, যার শব্দ আমরা শুনি না, কিন্তু যার প্রভাব গভীরভাবে অনুভব করি। এই বিপ্লবের নাম ড্রোন প্রযুক্তি। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি দেশ—ইরান—যে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও যুদ্ধের প্রচলিত নিয়মকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সক্ষম হয়েছে। আজকের বিশ্বে শক্তির ধারণা আর শুধু ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা পরমাণু অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না; বরং ছোট, তুলনামূলক সস্তা কিন্তু কৌশলগতভাবে কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তিই হয়ে উঠেছে নতুন ক্ষমতার প্রতীক। এই গল্পের শুরুটা একেবারেই সহজ ছিল না। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যখন ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে, তখন তাদের সামরিক…

Read More

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের ভিড়ের ভেতরেও এখন এক ধরনের অদৃশ্য আতঙ্ক ঘুরে বেড়ায়। দিনের আলোয় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নামলেই যেন আরেকটি বাস্তবতা সামনে আসে—একটি ভয়, একটি চাপা উদ্বেগ, যা মানুষের চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ভয় কেবল ছিনতাই বা ছোটখাটো অপরাধের নয়; এটি সংগঠিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং ক্ষমতার অন্ধ লড়াইয়ের ভয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা সেই অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। অপরাধ জগতের এই পুনরুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি জটিল নেটওয়ার্কের ফল। একসময় যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল, তারা…

Read More

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যেগুলো শুধু একটি জাতি বা অঞ্চলের নয়, বরং পুরো পৃথিবীর চিন্তা, জ্ঞান ও ভবিষ্যৎকে নতুন পথে চালিত করে। মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ ছিল ঠিক তেমনই এক সময়—একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’, যেখানে অন্ধকারের ভেতর থেকে আলো উঠে এসে শুধু একটি সভ্যতাকেই নয়, বরং বিশ্বমানবতার বৌদ্ধিক মানচিত্রকেই পাল্টে দেয়। অষ্টম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সময়টি ছিল এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের যুগ, যেখানে জ্ঞানকে শুধু সংগ্রহ করা হয়নি, বরং তা নতুনভাবে সৃষ্টি, বিশ্লেষণ এবং প্রয়োগ করা হয়েছে। এই স্বর্ণযুগের শিকড় নিহিত ছিল সপ্তম শতকে ইসলামের আবির্ভাবে। মোহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে যে বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, তা শুধু আধ্যাত্মিক…

Read More

সারা দেশ থেকে স্বাধীনভাবে সংগ্রহ করা প্রায় এক হাজার ভোটকেন্দ্রের ট্যালি শিট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলের সঙ্গে মাত্র চারটি সামান্য অমিল রয়েছে। এই ফলাফলটি সাম্প্রতিক ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে পরাজিত কয়েকজন প্রার্থীর উত্থাপিত “ইঞ্জিনিয়ারিং” অভিযোগকে দুর্বল করে দেয়। নেত্র নিউজের সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর প্রকাশিত ফলাফল তুলনা করে দেখা গেছে, প্রায় কোনো পার্থক্যই নেই। অথচ জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল দাবি করেছিল, তাদের পরাজয় হয়েছে “অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর মাধ্যমে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার স্বীকার করেন যে ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য—যা অতীতের তুলনায় একটি পরিবর্তন। তবে তার দাবি, কারচুপি হয়ে থাকলে তা ঘটেছে ভোট…

Read More

যুদ্ধ কখনোই শুধু সীমান্তে থেমে থাকে না; এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে অর্থনীতি, সমাজ, এমনকি একটি সাধারণ পরিবারের ভাতের থালাতেও। সাম্প্রতিক ইরানকে ঘিরে সংঘাত সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কর্মরত লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিক—যাদের ঘামে গড়ে ওঠে গালফ অর্থনীতি—আজ অনিশ্চয়তার মুখে। কেউ চাকরি হারাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছেন, আবার কেউ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অজানার পথে হাঁটছেন। এই পুরো চিত্রটি শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রবাসী আয় শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। গ্রামবাংলার অসংখ্য ঘরে ঘরে যে…

Read More

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে যে অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এসেছে, তার ভেতরেই হঠাৎ এক ছোট্ট তথ্য বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা হয়েছে। কথাটি শুনতে যতটা সাধারণ, এর ভেতরের অর্থ ততটাই জটিল। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যোগাযোগ মানেই শুধু সৌজন্য নয়; অনেক সময় তা হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত, কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণের সূচনা কিংবা নীরব বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম। জিএম কাদের নিজেই বলেছেন, এই কথোপকথন ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক—কুশল বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শেখ হাসিনা কেমন আছেন, ভালো আছেন কি না—এই ধরনের সাধারণ কথাবার্তাই হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি,…

Read More

যুদ্ধ শুধু বন্দুক, ক্ষেপণাস্ত্র আর সীমান্তের লড়াই নয়—এটি আসলে অর্থনীতির এক নির্মম হিসাব, যেখানে প্রতিটি বিস্ফোরণের পেছনে থাকে কোটি কোটি ডলারের মূল্য। সাম্প্রতিক সংঘাতে সেই বাস্তবতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় শত কোটি ডলার ব্যয় করছে, আর অপরদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য হাজার হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি তুলেছে। এই দুই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির রাজনীতি, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিকনির্দেশনা বহন করছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেছে, এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে অর্থনীতির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশও যখন প্রতিদিন বিপুল অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়, তখন…

Read More

এশিয়ার ভূরাজনীতির মানচিত্রে একটি নীরব কিন্তু গভীর পরিবর্তন ঘটছে—যেখানে বহুদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা যুক্তরাষ্ট্র এখন ধীরে ধীরে তার অবস্থান হারাতে বসেছে, আর সেই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছে রাশিয়া ও ইরান। সাম্প্রতিক সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং তার জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিপর্যয়, এশিয়ার দেশগুলোর সামনে এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে পুরোনো মিত্রতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই বড় হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্য বরাবরই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু, আর সেই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছায়। কিন্তু ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এই পথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে…

Read More

তারা ফিরে এসেছিল নিঃশব্দে। কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল না কোনো স্বাভাবিক ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাস। ছিল শুধু এক ধরনের নীরবতা, ভারী আর অদৃশ্য, যা তাদের ছোট ছোট কাঁধে চেপে বসেছিল। একটি গ্রামের ঘরে ফিরে আসা দুই ভাইকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন খুব অল্প সময়ে অনেক বড় হয়ে গেছে। বড় ভাইটি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলছিল, প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল থেমে থেমে। ছোট ভাইটি তার গা ঘেঁষে ছিল সবসময়, যেন আর কাউকে হারাতে চায় না। তাদের চোখে ছিল অদ্ভুত এক শূন্যতা। প্রায় এক মাস হয়ে গেছে তারা তাদের বাবা-মাকে দেখেনি। এরা একা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত শিশু সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফিরে…

Read More