Author: ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রভাব পড়বে—এটা এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সাম্প্রতিক সময়ে আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেই সম্ভাবনা নিয়ে সমাজে যেমন আগ্রহ, তেমনি উদ্বেগও বেড়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে চললেও, জামায়াতের ক্ষমতায় আসা মানে রাজনীতির ধারায় এক বড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তন যেমন নতুন চিন্তার দ্বার খুলতে পারে, তেমনি তা আবার দেশের সামাজিক ও কূটনৈতিক কাঠামোতে গভীর সমস্যার জন্মও দিতে পারে। প্রথমত, দেশের অভ্যন্তরীণ সমাজব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ নীতিকে স্বীকৃতি দিলেও জামায়াতে ইসলামী অতীতে এই নীতির…

Read More

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে এক অনন্য রাজনৈতিক দৃশ্যপটের উদ্ভব ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ পেশাজীবী, এবং অনলাইন-সচেতন নাগরিক সমাজের তরুণ অংশ—সবাই যেন এক নতুন রাজনৈতিক জাগরণের দিকে ধাবিত হয়। এটি ছিল এমন এক সময় যখন বহু বছরের রাজনৈতিক স্থবিরতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতি জনরোষ নতুন আকারে প্রকাশ পায়। “জেনারেশন জেড রেভলিউশন” নামে পরিচিত এই আন্দোলন কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল এক যুগান্তকারী সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার স্ফুরণ, যেখানে তরুণরা প্রথমবারের মতো বিশ্বাস করেছিল যে পরিবর্তন সম্ভব। তারা মনে করেছিল, পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দলীয় স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজই হবে বাংলাদেশের নতুন ভোরের সূচনা।…

Read More

আজকের পৃথিবীতে মানুষ যতই বাড়ছে, ততই বাড়ছে খাবারের চাহিদা। কৃষিজমি কমছে, জলবায়ু পরিবর্তন ফসলের ক্ষতি করছে, পশু পালন ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন নতুন এক সমাধান—কৃত্রিম খাদ্য বা ল্যাব–তৈরি খাবার। ভবিষ্যতে আমাদের পাতে হয়তো মুরগি, গরুর মাংস বা মাছ থাকবে, কিন্তু সেগুলো আসবে কোনো খামার থেকে নয়, বরং ল্যাবরেটরি থেকে। কৃত্রিম খাদ্য বলতে বোঝায় এমন খাবার যা প্রকৃতভাবে জন্মানো নয়, বরং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় ল্যাব–গ্রো মাংস বা সিন্থেটিক মাংস। বিজ্ঞানীরা প্রাণীর শরীর থেকে অল্প কিছু কোষ সংগ্রহ করেন, তারপর সেগুলোকে পুষ্টিকর দ্রবণে বাড়িয়ে তোলেন। কিছু সময় পর সেই কোষগুলো আস্ত মাংসের টুকরোয়…

Read More

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়টিকে অনেকেই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির স্বর্ণযুগ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সংখ্যার পেছনের বাস্তবতাটি কতটা টেকসই, কতটা প্রতারণামূলক—এ প্রশ্নটাই এখন নতুন করে উঠে আসছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর একাধিক গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা যে চিত্র তুলে ধরছেন, তা উন্নয়নের প্রচলিত ধারণাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলামের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ সেই প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে—বাংলাদেশ কি প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন করেছিল, নাকি ঋণের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম প্রবৃদ্ধির কাহিনি রচনা করেছিল? লেখায় উপস্থাপিত তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। ২০২৪…

Read More

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে যে উত্তেজনা ও বদল ঘেরা আছে—চলমান ছাত্র আন্দোলন, বিরোধীদলীয় তৎপরতা, নির্বাচনী-প্রস্তুতির প্রশ্ন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনঃসংਰক্ষণ—সবকিছুর মাঝেও গত অক্টোবরের শেষ দিকে এক আন্তর্জাতিক দল ঢাকায় আসে। এই দল ছিল আন্তর্জাতিক নীতি ও নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত, মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা রূপায়ন করা। তারা একটি প্রাক-নির্বাচনী মূল্যায়ন মিশন পরিচালনা করে এবং ৫ নভেম্বর তারিখে একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রকাশ করে। মিশন এবং রিপোর্ট উভয়ে দৃষ্টিগোচর হয় একটি বড় প্রশ্নের: একটি মধ্য-আন্তরিক সরকারের অধীনে, উন্নত নির্বাচনী প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কার কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হতে পারে? এই মিশনের সূচনা হয় ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর…

Read More

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থি দলগুলোর অবস্থান সবসময়ই একধরনের বিতর্ক ও কৌতূহলের জন্ম দেয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী—যে দলটি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে দেশের রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী হলেও বিতর্কিত ভূমিকা রেখে এসেছে—তাদের প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সম্প্রতি দলটি নির্বাচনী জোট না করে “আসনভিত্তিক সমঝোতা”র পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিসহ সমমনাদের নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের যে প্রচেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছিল, সেটি থেকে হঠাৎ সরে এসে এভাবে সমঝোতার কথা বলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এটি কি কেবল বাস্তবতার চাপ, না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গোপন কৌশল? জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলগত ইতিহাস বলছে, দলটি সবসময়ই বাস্তবতার সঙ্গে আপস…

Read More

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক মহড়া — একে অপরের পাশেই, একই সময়ে — দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন: বিধ্বংসী সংঘাত হবে কি না, নাকি দুই দেশের সামরিক কূটকৌশলই চলছে? গত কয়েক দিনে উপকূল ও সীমান্তভিত্তিক বড়—বড় অনুশীলন দেখে এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। ভারতের ‘ত্রিশূল’ নামক তিন বাহিনী সম্মিলিত মহড়া গুজরাট—রাজস্থান সীমান্ত ও আরব সাগরের উপকূলে শুরু হয়েছে; একই সময়ে পাকিস্তানও উত্তর আরব সাগরে নৌ মহড়া চালু করেছে — সময়গত ও ভৌগোলিক মিল যে উদ্বেগে বাড়িয়েছে, সেটা অস্বীকার করা যায় না। এই দুই মহড়া একেবারে নতুন নয়; প্রতিবেশী দুই সামরিক শক্তিই নিয়মিতভাবে নিজেদের সক্ষমতা পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চলতি বার যে এক সঙ্গে —…

Read More

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের আগমন মানেই এক অস্থিরতা, উত্তেজনা ও নানা রকম আলোচনার জন্ম। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি যখন তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তখন সেই তালিকার কয়েকজনের নাম ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক—ঋণখেলাপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে। নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অন্তত সাত দিন আগে কোনো প্রার্থী যদি নিজের ঋণ নিয়মিত করতে না পারেন, তবে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। এই আইনি বাস্তবতা সামনে রেখেই এখন বিএনপির কিছু প্রার্থী ঋণ নিয়মিত করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। কিন্তু…

Read More

ভারতের আতিথ্যে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে গত এক বছরে যে ধীরে-ধীরে বদল এসেছে, তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রশ্ন—দিল্লি কি তাকে ক্রমান্বয়ে “আনলক” করছে? প্রশ্নটি নিছক কৌতূহল নয়; এতে জড়িয়ে আছে দিল্লি-ঢাকার টানাপোড়েন, বাংলাদেশের ভেতরকার রাজনৈতিক সমীকরণ, এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সূক্ষ্ম বার্তা-রাজনীতি। গত অগাস্টে ভারতে পা রাখার পর প্রথম কয়েক মাস যে কঠোর নীরবতা ও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে: অনলাইনে বক্তব্য, বিদেশে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে লাইভ সংযোগ, এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক লিখিত সাক্ষাৎকার। বিশেষ করে ২৯ অক্টোবর একসঙ্গে রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত লিখিত প্রশ্নোত্তর—যা ভারতীয়…

Read More

ভারতের আদানি পাওয়ার কোম্পানি ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে বকেয়া অর্থ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ৩১শে অক্টোবর পাঠানো এক চিঠিতে আদানি পাওয়ার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চলতি মাসের ১০ই নভেম্বরের মধ্যে ৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ না করলে ১১ই নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান অবিনাশ অনুরাগ চিঠিতে বলেন, বহুবার অনুরোধের পরও পাওনা মেটানো হয়নি, অথচ এর মধ্যে ২৬২ মিলিয়ন ডলারকে পিডিবি নিজেই বিরোধহীন পাওনা হিসেবে স্বীকার করেছে। পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদানির দাবিকৃত অর্থের পুরোটা তারা মেনে নিচ্ছে না। মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে কয়লার দাম নির্ধারণ নিয়ে। পিডিবির অভিযোগ, চুক্তির শর্তের…

Read More