Author: ডেস্ক রিপোর্ট

এক প্রান্তে হরমুজ প্রণালি, অন্য প্রান্তে পানামা খাল। ভৌগোলিকভাবে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত এই দুই জলপথের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পানামা খালকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পুরোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ফলে একটি জলপথকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট এখন অন্য একটি কৌশলগত নৌপথের ওপরও চাপ তৈরি করছে। পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম নৌসংযোগগুলোর একটি। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল দিয়ে জাহাজকে দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি…

Read More

নিজভূমিতে ফেরার অপেক্ষায় কেটে গেছে নয় বছর। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ আজও কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশা নিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও তারা নিজেদের দেশে ফেরার বাস্তব সুযোগ দেখতে পাচ্ছে না। বরং মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ…

Read More

বাংলাদেশে আত্মহত্যা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক ঘটনা নয়; এটি ক্রমেই বড় একটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও একজন মানুষ চরম মানসিক সংকটের মধ্যে নিজের জীবন শেষ করে দিচ্ছেন। পেছনে থেকে যাচ্ছে পরিবার, স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও একটি সমাজের জন্য অসংখ্য প্রশ্ন। কেন একজন মানুষ এমন সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যান? কেন তাঁর সংকটটি সময়মতো শনাক্ত করা যায় না? আর কেন সংকটে থাকা একজন মানুষকে সহায়তা করার বদলে অনেক সময় সামাজিক stigma, ভয় কিংবা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়? পুলিশের নথি বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে আত্মহত্যা করেছেন ৭৬ হাজার ৩৬১ জন।…

Read More

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ যেন দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে আসছে হত্যাকাণ্ডের খবর। কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও রাজনৈতিক আধিপত্য, কোথাও মাদক ও অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব—আবার কোথাও তুচ্ছ ঘটনাও গড়াচ্ছে প্রাণহানিতে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে ভাবার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ সাত মাসে…

Read More

রংপুরে একটি শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নয়, এটি দেশের সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ একই বাড়ি থেকে উদ্ধারের ঘটনায় রংপুরসহ সারা দেশে নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ। চারজন মানুষকে একই পরিবারের ভেতর এমন নির্মমতার শিকার হতে হলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন তদন্তের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকেও তাকাতে হচ্ছে। রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে শনিবার রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের…

Read More

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এর নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই ভারতের বিহার রাজ্য ফারাক্কা ব্যারাজ ও পানি বণ্টনে নিজেদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছে। আর এই দাবিকে বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে সামনে আসছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের পানি সমস্যার সমাধান কি এবার নতুন কোনো সমঝোতার পথে এগোতে পারে, নাকি ফারাক্কাকে ঘিরে পুরোনো বিরোধই নতুনভাবে সামনে আসবে? সাম্প্রতিক বৈঠকের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী…

Read More

বিদেশে বিয়ে, নতুন জীবন, স্বচ্ছল ভবিষ্যৎ—এমন স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশের নারীদের একটি অংশকে চীনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তথ্য এই প্রবণতার ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২২৬ বাংলাদেশি নারী পারিবারিক বা কিউ-১ ভিসায় চীনে গেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংখ্যা কয়েক বছরের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে ৬৯ নারী এই ভিসায় চীনে গিয়েছিলেন, ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ জনে। ২০২২ সালে সংখ্যা ছিল ৩৫। এরপরই শুরু হয় বড় ধরনের উল্লম্ফন। ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৬ জন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩৭৮…

Read More

মুঠোফোনে কয়েকটি ক্লিক, তারপরই হাতে টাকা—জরুরি সময়ে এমন সহজ ঋণের প্রলোভন অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সহজ ঋণই কখনো কখনো হয়ে উঠছে ভয়ংকর ফাঁদ। প্রয়োজনের সময় কয়েক হাজার টাকা নিতে গিয়ে কেউ পরিশোধ করছেন তার কয়েক গুণ, কেউ পড়ছেন অব্যাহত হুমকি ও হয়রানির মধ্যে, আবার কারও ব্যক্তিগত ছবি, ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশে অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপের বিস্তার এখনো হয়তো খুব বড় আকার নেয়নি, কিন্তু এর পদ্ধতি ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বলছে, সময় থাকতে সতর্ক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি এমনই একটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী শাহীন হোসেন। গত…

Read More

মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা একটি কবর। জীবনের সব পরিচয়, ব্যস্ততা, স্বপ্ন আর সংগ্রামের শেষে মানুষ যেখানে শুয়ে থাকে, সেই জায়গাটুকুকেই পৃথিবীর সবচেয়ে মৌলিক মানবিক অধিকারগুলোর একটি মনে করা হয়। কিন্তু গাজায় এখন সেই শেষ আশ্রয়টুকুও ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ শুধু মানুষের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা রাস্তাঘাট ধ্বংস করেনি; ধ্বংস করেছে কবরস্থানও। ফলে যারা বেঁচে আছেন, তাঁদের জন্য যেমন নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট, মৃতদের জন্যও তেমনি নেই পর্যাপ্ত জায়গা। ২০ বছরের তরুণ ওমর আল-সাওহির কাছে বাবাকে হারানোর বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নির্মম বাস্তবতা—বাবাকে কোথায় দাফন করবেন? তাঁর বাবা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গাজা সিটির জেইতুন এলাকার একটি ছোট…

Read More

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতার ঘোষণা নয়; এর ভেতরে রয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি পথ, সমুদ্রপথ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি হিসাব। বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। কিন্তু এর তাৎপর্য বুঝতে হলে দেখতে হবে—কেন ঠিক এই সময়ে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ একসঙ্গে বসার প্রয়োজন অনুভব করল। চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি। এই ধারণা বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা…

Read More