Author: সরকার শুভ্র

মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় গতির র‌্যাংকিংয়ে শেষ থেকে তৃতীয় বাংলাদেশ। ‘স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স’ মতে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫ নম্বরে (জুন ২০২১)। বাংলাদেশের নিচে আছে শুধু ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও উগান্ডার মতো দেশও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের চেয়ে। অথচ বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরগুলো অনেকদিন ধরেই ৪জি গতির ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে বলে দাবি করে। এমনকি খুব শিগগিরই তারা ইন্টারনেটের নবতম প্রযুক্তি ৫জি সেবা দেবে এমন কথাবার্তাও শোনা গেছে। এদিকে আবার চলতি বছরেই সৌদিতে সাড়ে ৩০ কোটি টাকায় ৬ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানির চুক্তি করেছি আমরা। সূত্র মতে, সৌদি আরব ছাড়াও ভারত,…

Read More

চীন আর যাই হোক, সমাজতান্ত্রিক নয়। বরং পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী ফ্রন্টকে ভেঙে নিপীড়িত চীনকে নতুন পথে নিয়ে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টিই জন্ম দিয়েছে নয়া সাম্রাজ্যবাদের। তবে চীনের এই সাম্রাজ্যবাদ মূলত পুঁজিবাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে তাকালে এই অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।  সার্বিয়ান-মার্কিন অর্থনীতিবিদ ব্লাঙ্কো মিলানোভিচ ‘ক্যাপিটালিজম, অ্যালোন’ গ্রন্থে এ বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, চীন মূলত পুঁজিবাদী এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হলেও তার বেলায় মুনাফা নয়, জাতীয় স্বার্থই প্রধান। রাষ্ট্রই এখানে সর্বেসর্বা। পুঁজিবাদ এইখানে ফাঁদ; যার জাল গুটিয়ে নিতে প্রস্তুত হয়ে আছে সাম্রাজ্যবাদ। চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভেটো ক্ষমতা, বৈশ্বিক প্রভাবে অনেক আগে রাশিয়াকে…

Read More

আমাদের হাতে নাকি আর মাত্র ৬০০ বছর সময় আছে! নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে হলে তার আগেই নাকি পাড়ি দিতে হবে অন্য কোনো সৌরজগতে, অন্য কোনো গ্রহের সন্ধানে! না হলে মানব জাতির ধ্বংস অনিবার্য। প্রয়াত বিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিভেন হকিং-এর এই বক্তব্য যেন অল্প অল্প করে সত্য হয়ে উঠছে প্রতিদিন। সেই ১৯৭০ সালের ২২শে এপ্রিল আমেরিকায় প্রায় ২ কোটি মানুষ পথে নেমেছিলেন পৃথিবী ধ্বংসে মেতে ওঠাদের বিরুদ্ধে। এরপর পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, পৃথিবীতে তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব, তার প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে নানা আলাপ আলোচনা করতে করতে আমরা কয়েক দশক পার করে দিয়েছি; লাভ বলতে ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর আরও বেশি পুঁজিবাদী হয়ে ওঠা। তবে ধীরে…

Read More

দেশভাগের বেশ আগে থেকেই অখন্ড ভারতের রাজনীতির গদিতে জাঁকিয়ে বসে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। এই সাম্প্রদায়িকতা ব্রিটিশদের কলোনিয়াল এজেন্ডার ফুলেফেঁপে ওঠা চেহারা। ১৯৪০ এর দশকেই দেশভাগের নামে ভারতবর্ষকে ধর্মের মাপকাঠিতে ভাগ করতে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে হিন্দু নির্মূলীকরণের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে। যার প্রমাণ মেলে নোয়াখালী দাঙ্গায়। নোয়াখালী দাঙ্গার ইতিহাস হয়তো আজকের অসাম্প্রদায়িক তকমা নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজেকে জাহির করা বাংলাদেশ ভুলে যেতে চাইবে। হয়তো স্বীকার করবে না। দেশ ভাগের দোরগোড়ায় যখন ভারতবর্ষ, তখন একে ধর্মীয় চেহারা দিতে অনেকটাই সাহায্য করেছিল ‘নোয়াখালী দাঙ্গা’। সালটা ছিল ১৯৪৬। হিন্দুদের উপর নোয়াখালী গণহত্যার শুরু হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ১০…

Read More

পবিত্র শহর মক্কার পথে আলখাল্লা পোশাকে মোড়া শরীরটা অন্যান্য হজযাত্রীদের মধ্যে মিশে যায়। পোশাকের নিচে দলের অন্যান্য মুসলিমদের মতোই তার ছিল মুণ্ডিত মাথা এবং কোনরকমে রাখা দাড়ি। আরবিতে অনর্গল কথা বলতে পারতেন, আর মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতিটাও আয়ত্ত্ব করেছিলেন দারুণভাবে। এই যাত্রায় তিনি মুসলিমদের মতো প্রার্থনা করেছেন। কুরআন রাখার একটি সোনাখচিত হামাইলও ছিল তার সাথে। যদিও হামাইলের মধ্যে কোন পবিত্র গ্রন্থ ছিল না। তার বদলে হামাইলটিতে ঘড়ি, কম্পাস, অর্থ, ছুরি, পেন্সিল ও কাগজ ছিল। তবে কেউ এই য়ুরোপীয় চেহারার মানুষটাকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করেনি। এই সময় তিনি নিজের নাম বলেন ‘মির্জা আবদুল্লাহ্‌ বাশরি’। এক সুফি দরবেশের ছদ্মবেশে তিনি আরবের ইয়াম্বুতে পৌঁছান। তার পরে…

Read More

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কই ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া তুরস্ক দীর্ঘ ছয় দশক দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে। এরদোগান ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের উষ্ণ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এরপর কেন এই বৈরিতা। ফিলিস্তিনের প্রতি ইসরায়েলের অমানবিক নীতিই কি এর একমাত্র কারণ। নাকি অন্য কিছু!  দেশ দুটির ৬০ বছরের সুসম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয় বছর দশেক আগে। নথি ঘেঁটে দেখায় যায়, তুরস্কের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক ছিন্ন হবার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ২০১০ সালে গাজা অভিমুখে তুরস্কের ত্রানবাহি ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি সৈন্যদের হামলা। এই হামলায় তুরস্কের ১০ জন নাগরিক…

Read More

১৯৫৩ সালে জিনজিয়াংকে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশ ছিল হান আর ৭৫ শতাংশ ছিল উইঘুর মুসলিম। আজ এই উইঘুরেরাই দেশটিতে ‘ধর্মীয় চরমপন্থী’। এমনকি পাকিস্তানেও তারা উপেক্ষিত, নির্যাতিত। অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রতিপত্তিই এর পেছনের কারণ। পাকিস্তান এখানে অনেকটাই রুটির সামনে লেজ নেড়ে ডান বাম হেলতে থাকা পোষ্য। তবে হাতবদল হচ্ছে রুটিটা। এটা কখনও যুক্তরাষ্ট্রের হতে, কখনও চীনের। এখন চীনের।  জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অভিযোগমতে, চীন প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে রি-এডুকেশন সেন্টার নামের বন্দিশালায় আটকে রেখেছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস ও আচরণ বদলে দিয়ে চীনাকরণ চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যেমন আফগান নারীদের মুক্তির জন্য যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, চীন বলছে, তারা উইঘুর নারীদের কেবল সন্তান জন্ম…

Read More

দেশের বিভিন্ন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প, গার্মেন্টস, আইটিসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে বিদেশি কর্মীরা। এদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি। অনেকেই আছে অবৈধভাবে। তাদের উপার্জিত বিশাল পরিমাণ অর্থ প্রতিবছর পাচার হচ্ছে বিদেশে। এদিকে, বৈধভাবে যারা আছে, তারাও কর ফাঁকি দেয়ার উৎসবে মেতে আছে। অন্যদিকে করোনা মহামারিতে দেশের কোমর পানিতে ডুবে থাকা অর্থনীতির গলা অব্দি ডুবে গেছে। বাড়ছে বেকারত্ব। কমছে চাকরির সুযোগ। এর মাঝেই ভারতীয়দের কর্মস্থলে ফেরানোর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া।   ভারতীয় কর্মীদের ফেরাতে তৎপর সরকার সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে যুক্ত বিশেষজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ভারতীয় কর্মীদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি…

Read More

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) অভিজ্ঞতায় আমার স্নায়ু যথেষ্ট কঠিন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধও এত পৈশাচিক নয়, এ এক মধ্যযুগীয় বর্বর উন্মাদনা এবং এটাকে পৈশাচিক রূপ দেয়া হয়েছিল।” [‘ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে’ প্রসঙ্গে স্টেটসম্যান পত্রিকার বৃটিশ সাংবাদিক কিম ক্রিস্টেন] দেশভাগের দুইটা পার্সপেক্টিভ ছিলো। ব্রিটিশ কলোনিয়ালিজমের দৃষ্টিতে পুরো ব্যাপারটাই ছিলো পলিটিক্যাল। আর ভারতীয়দের কাছে ছিলো ধর্মীয় এবং জাতিগত। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোর প্রস্তাবে জিন্নার বক্তব্য বিষয়টাকে স্পষ্ট করে তোলে।  “ভারতবর্ষের সমস্যা সাম্প্রদায়িক নয়, বরং জাতিগত। এটা খুবই দুঃখের যে হিন্দুরা ইসলাম ও হিন্দুত্বের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছেন না। ইসলাম এবং হিন্দুত্ব শুধুমাত্র আলাদা ধর্ম নয়, সম্পূর্ণ বিপরীত দুই জাতিসত্ত্বা। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ…

Read More

দেশভাগের এক মাসের মধ্যেই পূর্ববঙ্গের রাজনীতির গদিতে জাঁকিয়ে বসে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। যার প্রথম আঘাত ঢাকাতে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রায় মুসলিমদের আক্রমণ। এরপর ১৯৪৮ সালে নিষিদ্ধ করা হয় বিখ্যাত ধামরাই রথযাত্রা ও জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা এরপরের বছর ১৯৪৯ সালে সমগ্র ঢাকা অঞ্চলে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজোর বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানো হয়। এতে করে দুর্গাপুজোর আয়তন ও সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পায়। তবে এখানেই থেমে থাকেনি সাম্প্রদায়িকতার দখলদারিত্ব। বিজয়া দশমীর দিনে শত শত হিন্দুর বাড়িঘরে আগুন দেয় মুসলিমরা। যদিও এর শুরুটা আরও।  ব্রিটিশদের কলোনিয়াল এজেন্ডার ফুলেফেঁপে ওঠা চেহারা এই সাম্প্রদায়িকতা। ১৯৪০ এর দশকেই দেশভাগের নামে ভারতবর্ষকে ধর্মের মাপকাঠিতে ভাগ করতে এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র…

Read More