Author: স্টেটওয়াচ ডেস্ক

একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব কীভাবে মুহূর্তেই রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের দৃশ্যে রূপান্তরিত হতে পারে—জার্মানির রাজধানী বার্লিন গত শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন তারই এক ভয়াবহ প্রমাণ দিল। শনিবার রাতে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কে, ব্র্যান্ডেনবুর্গ গেটের কাছাকাছি, ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) প্রাইড আয়োজনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের কাছে একটি ভ্যান জনতার ভিড়ে সরাসরি ঢুকে পড়ে। হামলাকারী একটি ভ্যান জনতার ভিড়ে চালিয়ে দেওয়ার পর একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেশ কয়েকজনকে আঘাত করে, যাতে একজন নিহত এবং দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হন। এতে অন্তত একজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা প্রাণসংশয়পূর্ণ ছিল। CNNAl Jazeera তদন্ত ও সন্দেহভাজনের পরিচয় জার্মান কর্তৃপক্ষ দ্রুতই ঘটনার পেছনে…

Read More

দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ইরানে বোমাবর্ষণ করেও কেন হঠাৎ থেমে গেল যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক শক্তি না কূটনৈতিক চাপ—কোনটি আসলে সিদ্ধান্ত পাল্টে দিলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের? সংঘাত যেভাবে ফিরে এলো ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ বহু কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এর জবাবে ইরান মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ৭-৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ থেকেই যায়, আর ৭ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দেন…

Read More

ক্ষমতায় আসার প্রথম দিনই তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা হবে তার সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পাঁচ মাস পর পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। প্রশ্ন উঠছে—এই সহিংসতা কি বিরোধী দলের সঙ্গে সংঘাত, নাকি নিজ দলের ভেতরেই আধিপত্যের লড়াই? জুনের হিসাব যা উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন—মে মাসের তুলনায় (৫ নিহত, ২৮৯ আহত) যা স্পষ্ট বৃদ্ধি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল: দলের ভেতরের ২১টি সংঘর্ষেই ৩ জন নিহত ও অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত…

Read More

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই বছর কেটে গেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর যখন গুম শব্দটি অতীতের অধ্যায় হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তখন মংলার এক জেলের নিখোঁজ হওয়া সেই আশাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় কাউকে “গায়েব” করে দেওয়ার পুরনো চর্চা কি ফিরে এলো, নাকি এটি বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা? কী ঘটেছিল মিরাজ শেখের সঙ্গে? ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল রাতে সুন্দরবন–সংলগ্ন মংলার জয়মনিরঘোল এলাকায় জেলে মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আটক করে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। পরদিন পরিবার মংলার দিগরাজে কোস্ট গার্ড কার্যালয়ে গেলে প্রথমে বলা হয়, তিনি “অপারেশনে” আছেন, বিকেলে আসতে বলা হয়।…

Read More

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে চলতি জুলাই মাসজুড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্পষ্ট প্রবণতা লক্ষণীয়—প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দল নিজেদের সেই আন্দোলনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। কর্মসূচির নাম, স্মরণসভার আয়োজন, সংসদে বক্তব্য—সবকিছুর মধ্য দিয়েই ফুটে উঠছে একধরনের “ভাষ্য-প্রতিযোগিতা”। এই লেখায় দেখা যাক, কোন দল কীভাবে জুলাইকে নিজের ভাষায় সাজাচ্ছে। কেন এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মৌলিক বিভাজনরেখা তৈরি করেছে—আন্দোলন-পূর্ব ও আন্দোলন-পরবর্তী বাংলাদেশ। যে দল বা জোট নিজেদের এই আন্দোলনের “প্রকৃত মালিক” বা “নেতৃত্বদানকারী শক্তি” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, রাজনৈতিক বৈধতা ও ভবিষ্যৎ ভোটব্যাংকের প্রশ্নে তাদের একটি বাড়তি সুবিধা তৈরি হবে। এ…

Read More

গণভোটে প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ যে সনদকে সমর্থন জানিয়েছিল, ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তার বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার, বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে সংকট ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। “জুলাই সনদ” নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে রাজপথ থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত যে বাগযুদ্ধ চলছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র সংস্কারের এই জাতীয় প্রতিশ্রুতি আদৌ বাস্তবে রূপ নেবে কি না, নাকি তা রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। গণভোটের রায় বনাম সরকার গঠনের রাজনীতি জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটারদের একটি বড় অংশ সমর্থন জানালেও, একই সময়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়ে সরকার…

Read More

আগুন, চাকা, লিখন পদ্ধতি, বাষ্পীয় ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট—মানব ইতিহাসের প্রতিটি বড় আবিষ্কারই পরবর্তী আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একটি প্রশ্ন এখন বিজ্ঞানী থেকে দার্শনিক মহলে সমান গুরুত্বে আলোচিত হচ্ছে: এআই কি সেই শেষ আবিষ্কার হতে চলেছে, যার পর মানুষের আর কিছু আবিষ্কার করার প্রয়োজন থাকবে না? প্রশ্নটি নিছক কল্পবিজ্ঞান নয়—এর শেকড় প্রোথিত রয়েছে ছয় দশকেরও বেশি পুরনো একটি গাণিতিক পূর্বাভাসে, যা আজকের এআই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। ধারণাটি এলো কোথা থেকে ১৯৬৫ সালে গণিতবিদ আই জে গুড একটি বিখ্যাত পর্যবেক্ষণ দেন—মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান কোনো যন্ত্র তৈরি হলে, সেই যন্ত্রই হবে মানুষের প্রয়োজনীয় শেষ…

Read More

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বয়ানে একটি ধারণা বহুদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত—৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মধ্য দিয়েই এই উপমহাদেশে ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল, অর্থাৎ তরবারির জোরেই এখানে ধর্মান্তর ঘটেছে। কিন্তু ইতিহাসের নথি ঘাঁটলে দেখা যায়, এই একরৈখিক আখ্যান বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি সরলীকৃত। সাম্প্রতিক এক বিবিসি বাংলা প্রতিবেদনে ইতিহাসবিদদের বরাত দিয়ে এই বিতর্কের একাধিক স্তর তুলে ধরা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বয়ান বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যপথেই প্রথম যোগাযোগ কেরালার মালাবার উপকূল ছিল প্রাচীনকাল থেকেই আরব বণিকদের গন্তব্য, মূলত গোলমরিচের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, নবী মুহাম্মদের জীবদ্দশাতেই আরব বণিকরা মুজিরিস বন্দর হয়ে ভারতে পৌঁছেছিলেন এবং…

Read More

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হলেই সাধারণত একটি ধারণা সামনে আসে—সমগ্র আরব বিশ্ব নাকি এককাট্টাভাবে এই রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছিল। বাস্তবতা অবশ্য আরও জটিল। অধিকাংশ আরব নেতা ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করলেও তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন, যিনি প্রকাশ্যে না হলেও পর্দার আড়ালে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ট্রান্সজর্ডানের (বর্তমান জর্ডান) রাজা প্রথম আবদুল্লাহ। ইতিহাসবিদদের কাছে রাজা আবদুল্লাহ এমন এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব, যিনি একদিকে আরব জাতীয়তাবাদের নেতা হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিতর্ক চলছে। কেউ তাঁকে বাস্তববাদী রাষ্ট্রনায়ক বলেন, আবার কেউ আরব ঐক্যের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ…

Read More

জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, ধোঁয়া-ওড়ানো বাসের শহরে হঠাৎ করেই বৈদ্যুতিক পরিবহনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানোর এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা হবে দেশের গণপরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় রূপান্তর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কি আদৌ সময়মতো বাস্তবায়িত হবে? পরিকল্পনার কাঠামো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, এই বহর গড়ে উঠবে কয়েকটি পৃথক প্রকল্পের সমন্বয়ে। ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় চলমান ৩০০ বাসের কর্মসূচি সংশোধন করে সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, আর বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আরও ৪০০টি বাস কেনার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়।…

Read More