Author: স্টেটওয়াচ ডেস্ক

৭ অক্টোবর ২০০১, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে আল-কায়েদা ও তালেবানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম পর্যায়ে তালেবান সরকার দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত হয়। কিন্তু দুই দশক পর, ২০২১ সালের আগস্টে, তালেবান আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বিদেশি সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। আজ সেই অভিযানের শুরুর ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এর অর্থ মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ টানা ২৫ বছর চলেছে নয়; বরং যুদ্ধ শুরুর এক প্রজন্ম পরও তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো: যে সামরিক শক্তি একটি সরকারকে দ্রুত উৎখাত করতে পারে, সেই শক্তি কেন তার জায়গায় টেকসই রাজনৈতিক…

Read More

১৭৬২ সালের ৬ অক্টোবর। ইউরোপ থেকে বহু দূরে, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় স্পেনের দুর্গে ব্রিটিশ বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে শহরটি দখল করে। ঘটনাটি আলাদা কোনো দ্বীপের যুদ্ধ ছিল না। একই সংঘাতের আগুন জ্বলছিল জার্মানির যুদ্ধক্ষেত্রে, কানাডার নদীতীরে, ক্যারিবীয় দ্বীপে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে। সমুদ্রপথ সেই দূরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রগুলোকে জুড়ে দিয়েছিল। সাত বছরের যুদ্ধকে অনেক সময় ইতিহাসের প্রথম ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলা হয়। কথাটি আনুষ্ঠানিক নাম নয়; এর বৈশ্বিক বিস্তার বোঝানোর একটি পরিচয়। ১৯১৪ বা ১৯৩৯ সালের যুদ্ধের সঙ্গে এর প্রযুক্তি, গণসমাবেশ কিংবা ধ্বংসের মাত্রা এক ছিল না। তার আগেও আন্তমহাদেশীয় সংঘাত হয়েছে। তবু আঠারো শতকের এই যুদ্ধ দেখিয়েছিল, সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে…

Read More

একটি বিশাল গ্রন্থাগার। তাকজুড়ে প্রাচীন পৃথিবীর পাণ্ডুলিপি। হঠাৎ আগুন, তারপর সব ছাই। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের কথা উঠলে এমন একটি দৃশ্যই অনেকের মনে ভেসে ওঠে। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকটি দাবি—সেই আগুন না লাগলে মানবসভ্যতা হয়তো কয়েক শতাব্দী এগিয়ে থাকত। গল্পটি আকর্ষণীয়। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষ্য এত সরল নয়। আলেকজান্দ্রিয়ায় আগুন লেগেছিল, যুদ্ধ হয়েছিল, ধর্মীয় সংঘাতে স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল। বিতর্ক হচ্ছে, কোন ঘটনায় কোন সংগ্রহ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একবারের অগ্নিকাণ্ডে সেখানকার সব গ্রন্থ এবং প্রাচীন পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আবার গ্রন্থাগারের অবসান কেবল ধীর অবহেলার ফল—এটিকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা ঠিক হবে না। গবেষকদের ব্যাখ্যায়…

Read More

১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর পৃথিবীর আকাশে এমন একটি বস্তু ঘুরতে শুরু করল, যার ভেতরে কোনো মানুষ ছিল না, ছিল না পারমাণবিক অস্ত্র। একটি চকচকে ধাতব গোলক, তার সঙ্গে চারটি লম্বা অ্যান্টেনা। কিন্তু সেই ছোট উপগ্রহের রেডিও সংকেত পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিল। প্রশ্ন উঠল, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব আসলে কার হাতে? সোভিয়েত ইউনিয়নের উৎক্ষেপণ করা স্পুটনিক ১ ছিল পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। নাসার ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তার ব্যাস ছিল প্রায় ৫৮ সেন্টিমিটার, ওজন ৮৩.৬ কিলোগ্রাম এবং পৃথিবী একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগত প্রায় ৯৮ মিনিট। আকারে ছোট হলেও তাকে কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি ছিল বড় প্রকৌশলগত সাফল্য। ২০২৬ সালের…

Read More

একটি বইয়ের কথা ভাবুন, যার পাতা খুলতে গেলেই তা গুঁড়ো হয়ে যায়। বাইরে থেকে সেটি কালো কাঠকয়লার মতো; ভেতরে লেখা থাকলেও খালি চোখে দেখা যায় না। ইতালির হারকিউলেনিয়ামের প্যাপিরাস স্ক্রলগুলো গবেষকদের সামনে প্রায় এমন সমস্যাই হাজির করেছে। খ্রিষ্টাব্দ ৭৯ সালে ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে শহরটি চাপা পড়ে। তাপে প্যাপিরাস পুড়ে কার্বনে পরিণত হলেও কিছু স্ক্রলের পাকানো গঠন টিকে যায়। যে ঘটনা বইগুলোকে পড়ার অযোগ্য করে তুলেছিল, সেটিই অদ্ভুতভাবে তাদের চিহ্ন দুই হাজার বছর ধরে সংরক্ষণ করেছে। PLOS One ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ PLOS ONE-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা সেই বন্ধ পথ খোলার নতুন কৌশল দেখিয়েছে। গবেষকেরা কোনো অক্ষত প্রাচীন স্ক্রল খুলে পড়েননি। তাঁরা আধুনিক…

Read More

বাংলাদেশের আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপ গড়ে বার্ষিক আয়ের ৪.১ শতাংশ মুছে দিচ্ছে। অথচ প্রতিফলক রং, ছাদ নিরোধক ও উন্নত বায়ুপ্রবাহের মতো ব্যবস্থার খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। তারপরও শ্রমিকের শরীর কেন বৈশ্বিক পোশাক ব্যবসার সবচেয়ে সস্তা ‘কুলিং সিস্টেম’ হয়ে আছে? ঢাকার আশপাশের কোনো পোশাক কারখানায় দুপুর গড়ালে বাইরের তাপমাত্রা আর ভেতরের তাপমাত্রা এক থাকে না। টিন বা কংক্রিটের ছাদ সারাদিন সূর্যের তাপ শোষণ করে। সারি সারি সেলাই মেশিন, আলো, মোটর, ইস্ত্রি ও মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া তাপ ঘরের মধ্যে জমতে থাকে। জানালা বা সাধারণ ফ্যান থাকলেও অনেক ফ্লোরে সেই…

Read More

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি চুনাপাথরের গুহায় পড়ে ছিল কয়েকটি ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত ও চোয়ালের অংশ। চোখে দেখলে সেগুলো প্রাগৈতিহাসিক মানুষের আর দশটি ভগ্নাবশেষের মতোই। কিন্তু দাঁতের গায়ে ছিল অস্বাভাবিক গভীর, গোলাকার খাঁজ—যেন বহু বছর ধরে শক্ত কোনো বস্তু একই জায়গায় চেপে ধরা হয়েছিল। সেই ক্ষুদ্র ক্ষতচিহ্নই শেষ পর্যন্ত মানুষের নেশা, চিকিৎসা ও অভ্যাসের ইতিহাসকে হাজার হাজার বছর পেছনে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে Science Advances–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সুলাওয়েসির প্রাচীন শিকারি–সংগ্রাহকেরা সম্ভবত ২৫ হাজার বছর আগেও গোটা সুপারি মুখে রেখে নিয়মিত চুষতেন। সুপারির বৈজ্ঞানিক নাম Areca catechu। এর প্রধান স্নায়ুসক্রিয় উপাদান অ্যারেকোলিন মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরে উত্তেজক প্রভাব সৃষ্টি…

Read More

সাড়ে তিন থেকে চার হাজার বছর আগে বর্তমান ভিয়েতনামের কোনো এক কৃষিনির্ভর জনপদে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। তার জীবন দীর্ঘ হয়নি। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্যদের সঙ্গে সমাধিস্থ করেছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে জনপদটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়; হারিয়ে যায় তার ভাষা, নাম ও পারিবারিক পরিচয়। কিন্তু তার দাঁত একটি ইতিহাস ধরে রেখেছিল। দাঁতের অস্বাভাবিক গঠন, এনামেলের অসম্পূর্ণ বিকাশ এবং হাড়ের ক্ষত দেখে আধুনিক গবেষকেরা বুঝতে পারেন, শিশুটি সম্ভবত জন্মের আগেই কিংবা জীবনের একেবারে শুরুতে Treponema pallidum গোষ্ঠীর কোনো ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। এই ব্যাকটেরিয়া গোষ্ঠীর বিভিন্ন উপপ্রজাতি যৌনবাহিত সিফিলিস, ইয়জ, বেজেল ও পিন্টার মতো রোগ সৃষ্টি করে। রোগগুলোর সংক্রমণপদ্ধতি…

Read More

একটি শিশুর মৃত্যু সব সময়ই একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু যে রোগ টিকার মাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেই রোগে শিশুর মৃত্যু ঘটলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না—তা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও দলিল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ এখন তেমনই এক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। অনেকের ক্ষেত্রে হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং গুরুতর অপুষ্টির মতো জটিলতা তৈরি করছে। তবে মৃত্যুর এই সামগ্রিক সংখ্যার সবকটিই…

Read More

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৯ সালের এক দিন। এথেন্সের নাগরিক আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ। তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র নেই, পেছনে কোনো সেনাবাহিনীও নেই। তিনি কোনো বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেননি, রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করেননি। তাঁর অপরাধের কেন্দ্রে ছিল কথা—আর এমন কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে ক্ষমতাবান, জ্ঞানী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে পড়তে হতো। বৃদ্ধের নাম সক্রেটিস। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিল। কয়েক সপ্তাহ পর কারাগারে তিনি বিষাক্ত হেমলক পান করলেন। পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসে ঘটনাটি হয়ে উঠল চিন্তার স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত বিবেকের সংঘাতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকগুলোর একটি। কিন্তু সক্রেটিস কি সত্যিই শুধু প্রশ্ন করার অপরাধে নিহত হয়েছিলেন? উত্তরটি সরল নয়।…

Read More