Author: স্টেটওয়াচ ডেস্ক

একটি আগুনের চারপাশে কয়েকজন মানুষ। কেউ পাথরের সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করছেন, কেউ খাবার প্রস্তুত করছেন, কেউ হয়তো পোশাকের ক্ষয়ে যাওয়া অংশ জুড়ে দিচ্ছেন। বাইরে নদী, ঝোপঝাড় আর দূরের পাহাড়। কয়েক হাজার বছর আগের এমন দৃশ্য কল্পনা করা যায়। কিন্তু প্রত্নতত্ত্বের কাজ সেই কল্পনাকে সত্য বলে ঘোষণা করা নয়; মাটিতে পাওয়া চিহ্ন থেকে যতটুকু জানা যায়, ততটুকুই সতর্কভাবে পুনর্গঠন করা। আলাস্কার Shég’ Xdaltth’í’ প্রত্নস্থল সেই পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর অনলাইনে প্রকাশিত Science Advances-এর গবেষণায় কেলি গ্রাফ ও সহকর্মীরা এখানে প্রায় ১৩ হাজার ৮০০ বছর আগের মানুষের জীবনযাপনের প্রমাণ বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার সারাংশ অনুযায়ী, স্থানটিতে প্রায় ১৩…

Read More

রুটির দোকানের সামনে দাঁড়ানো মানুষের কাছে রাজকোষের ঘাটতি একটি দূরের হিসাব। কিন্তু গতকালের আয় দিয়ে আজ আর পরিবারের খাবার কেনা না গেলে সেই হিসাব জীবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ১৭৮৯ সালের ফ্রান্সে খাদ্যসংকট এমন এক সময়ে তীব্র হয়েছিল, যখন রাজতন্ত্র ঋণ, কর ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সংকটে জর্জরিত। বাজারের উদ্বেগ আর প্রাসাদের সংকট তখন পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করে। ফরাসি বিপ্লবকে শুধু ক্ষুধার বিস্ফোরণ বলা যায় না। সামাজিক বিশেষাধিকার, রাষ্ট্রের আর্থিক দুরবস্থা, প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন ও নতুন রাজনৈতিক ধারণার দীর্ঘ ইতিহাস তার পেছনে ছিল। রুটির দাম এই জটিল সংকটকে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় অনুবাদ করেছিল। রাষ্ট্র কাকে রক্ষা করে, কার কথা শোনে…

Read More

ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটেনি। শ্রমিকেরা কারখানার ফটকের দিকে হাঁটছেন। ভেতরে যন্ত্র প্রস্তুত, দেয়ালে ঘড়ি। কয়েক মিনিট দেরি মানে শুধু কাজের শুরু পিছিয়ে যাওয়া নয়; হাজিরার খাতায় অপরাধী হয়ে ওঠা। শিল্পযুগের এই পরিচিত দৃশ্য একটি বড় পরিবর্তনের কথা বলে: মানুষ কখন কাজ করবে, কতক্ষণ করবে এবং কখন থামবে—সেসব সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ক্রমে তার নিজের হাত থেকে সরে যাচ্ছে। আজ অফিসে ঢোকার সময় আঙুলের ছাপ দেওয়া কিংবা কাজের সময় সফটওয়্যারে নথিভুক্ত করার অভিজ্ঞতা থেকে দৃশ্যটি খুব দূরের মনে হয় না। কিন্তু এর ইতিহাস কেবল একটি যন্ত্রের ইতিহাস নয়। ঘড়ি কীভাবে শ্রমের মূল্য, শৃঙ্খলা এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা নির্ধারণের উপকরণ হয়ে উঠল, সেটিই…

Read More

সম্রাটের সিংহাসন সরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বদলাতে হয় আরও অনেক কিছু—সেনাবাহিনীর আনুগত্য, অর্থের নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতা হস্তান্তরের নিয়ম এবং বিরোধী মতের নিরাপত্তা। ১৯১১ সালের চীনা বিপ্লব এই ব্যবধানের একটি বড় ঐতিহাসিক উদাহরণ। বিপ্লব চিং রাজবংশের অবসান ঘটিয়েছিল; কিন্তু নতুন প্রজাতন্ত্রের জন্মের সঙ্গে স্থায়ী গণতন্ত্রের জন্ম হয়নি। ১০ অক্টোবর, উচাং অভ্যুত্থানের ১১৫ বছর। ঘটনাটিকে শুধু একটি রাজবংশের পতন হিসেবে দেখলে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আড়ালে পড়ে যায়: পুরোনো শাসক চলে যাওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবে কে? চিং শাসনের সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। বিদেশি শক্তির চাপ, সামরিক পরাজয় এবং সংস্কারের সীমাবদ্ধতা রাজদরবারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষয় করেছিল।…

Read More

একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিদেশে যেতে চাইলে রাষ্ট্র তাঁর কাছে কী জানতে চাইবে? পরিচয়, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ও যাত্রার উদ্দেশ্য, নাকি তিনি বিবাহিত কি না এবং তাঁর পরিবার অনুমতি দিয়েছে কি না? প্রশ্নের এই পার্থক্যের মধ্যেই নাগরিক হিসেবে নারীকে দেখার দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে। একটি তাঁকে নিজ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব বহনকারী মানুষ হিসেবে দেখে। অন্যটি ধরে নেয়, তাঁর সিদ্ধান্তের বৈধতা অন্য কারও সম্মতির ওপর নির্ভর করে। ঢাকার বিমানবন্দরে তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে না দেওয়ার অভিযোগ এই পার্থক্য সামনে এনেছে। তাঁদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্ট তাঁরা প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশনে তাঁদের বৈবাহিক অবস্থা ও পরিবারের…

Read More

১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর, সোমবার। পূর্ব জার্মানির লাইপৎসিগে সন্ধ্যার বিক্ষোভে নামা মানুষের সামনে একটি প্রশ্ন ছিল: রাষ্ট্র কি আবার শক্তি প্রয়োগ করবে? আগের সপ্তাহগুলোর ধরপাকড় ও দমনপীড়নের পর সে আশঙ্কা অমূলক ছিল না। তবু সেদিন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের কণ্ঠে দুটি দাবি বিশেষভাবে শোনা যাচ্ছিল—‘Wir sind das Volk’, অর্থাৎ ‘আমরাই জনগণ’; এবং ‘Keine Gewalt’, অর্থাৎ ‘কোনো সহিংসতা নয়’। সেদিনের মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আক্রমণ চালায়নি। পূর্ব জার্মানির শাসক দল এসইডির জন্য এই ঘটনা ছিল কর্তৃত্বের একটি বড় পরাজয়। কিন্তু পরাজয়টি বোঝার জন্য শুধু জনতার সংখ্যা দেখা যথেষ্ট নয়। দেখতে হয় সেই রাজনৈতিক…

Read More

একটি মুখ কখন ইতিহাসের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে? কালো বেরেট, তার মাঝখানে ছোট একটি তারা, দাড়ি এবং দূরের দিকে তাকিয়ে থাকা দৃঢ় চোখ—চে গুয়েভারার প্রতিকৃতি দেখলে অনেকেই মানুষটির নাম চিনতে পারেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাস, রাষ্ট্র পরিচালনার ভূমিকা কিংবা শেষ গেরিলা অভিযানের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের জানা সমান গভীর নাও হতে পারে। এখানেই চের বিশেষত্ব: তিনি একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ব্যক্তি, রাজনৈতিক স্মৃতি এবং এমন এক দৃশ্যমান প্রতীক, যার অর্থ ব্যবহারকারীভেদে বদলে যায়। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ায় বন্দী হন চে। পরদিন, ৯ অক্টোবর তাঁকে হত্যা করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত সমসাময়িক নথিতে বন্দী করার পর বলিভিয়ার সামরিক সদর দপ্তর থেকে…

Read More

৭ অক্টোবর ২০০১, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে আল-কায়েদা ও তালেবানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম পর্যায়ে তালেবান সরকার দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত হয়। কিন্তু দুই দশক পর, ২০২১ সালের আগস্টে, তালেবান আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বিদেশি সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। আজ সেই অভিযানের শুরুর ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এর অর্থ মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ টানা ২৫ বছর চলেছে নয়; বরং যুদ্ধ শুরুর এক প্রজন্ম পরও তার রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো: যে সামরিক শক্তি একটি সরকারকে দ্রুত উৎখাত করতে পারে, সেই শক্তি কেন তার জায়গায় টেকসই রাজনৈতিক…

Read More

১৭৬২ সালের ৬ অক্টোবর। ইউরোপ থেকে বহু দূরে, ফিলিপাইনের ম্যানিলায় স্পেনের দুর্গে ব্রিটিশ বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে শহরটি দখল করে। ঘটনাটি আলাদা কোনো দ্বীপের যুদ্ধ ছিল না। একই সংঘাতের আগুন জ্বলছিল জার্মানির যুদ্ধক্ষেত্রে, কানাডার নদীতীরে, ক্যারিবীয় দ্বীপে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে। সমুদ্রপথ সেই দূরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রগুলোকে জুড়ে দিয়েছিল। সাত বছরের যুদ্ধকে অনেক সময় ইতিহাসের প্রথম ‘বিশ্বযুদ্ধ’ বলা হয়। কথাটি আনুষ্ঠানিক নাম নয়; এর বৈশ্বিক বিস্তার বোঝানোর একটি পরিচয়। ১৯১৪ বা ১৯৩৯ সালের যুদ্ধের সঙ্গে এর প্রযুক্তি, গণসমাবেশ কিংবা ধ্বংসের মাত্রা এক ছিল না। তার আগেও আন্তমহাদেশীয় সংঘাত হয়েছে। তবু আঠারো শতকের এই যুদ্ধ দেখিয়েছিল, সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে…

Read More

একটি বিশাল গ্রন্থাগার। তাকজুড়ে প্রাচীন পৃথিবীর পাণ্ডুলিপি। হঠাৎ আগুন, তারপর সব ছাই। আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের কথা উঠলে এমন একটি দৃশ্যই অনেকের মনে ভেসে ওঠে। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় আরেকটি দাবি—সেই আগুন না লাগলে মানবসভ্যতা হয়তো কয়েক শতাব্দী এগিয়ে থাকত। গল্পটি আকর্ষণীয়। কিন্তু ইতিহাসের সাক্ষ্য এত সরল নয়। আলেকজান্দ্রিয়ায় আগুন লেগেছিল, যুদ্ধ হয়েছিল, ধর্মীয় সংঘাতে স্থাপনা ধ্বংস হয়েছিল। বিতর্ক হচ্ছে, কোন ঘটনায় কোন সংগ্রহ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একবারের অগ্নিকাণ্ডে সেখানকার সব গ্রন্থ এবং প্রাচীন পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। আবার গ্রন্থাগারের অবসান কেবল ধীর অবহেলার ফল—এটিকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা ঠিক হবে না। গবেষকদের ব্যাখ্যায়…

Read More