Author: স্টেটওয়াচ ডেস্ক

একটি বইয়ের কথা ভাবুন, যার পাতা খুলতে গেলেই তা গুঁড়ো হয়ে যায়। বাইরে থেকে সেটি কালো কাঠকয়লার মতো; ভেতরে লেখা থাকলেও খালি চোখে দেখা যায় না। ইতালির হারকিউলেনিয়ামের প্যাপিরাস স্ক্রলগুলো গবেষকদের সামনে প্রায় এমন সমস্যাই হাজির করেছে। খ্রিষ্টাব্দ ৭৯ সালে ভিসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে শহরটি চাপা পড়ে। তাপে প্যাপিরাস পুড়ে কার্বনে পরিণত হলেও কিছু স্ক্রলের পাকানো গঠন টিকে যায়। যে ঘটনা বইগুলোকে পড়ার অযোগ্য করে তুলেছিল, সেটিই অদ্ভুতভাবে তাদের চিহ্ন দুই হাজার বছর ধরে সংরক্ষণ করেছে। PLOS One ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ PLOS ONE-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা সেই বন্ধ পথ খোলার নতুন কৌশল দেখিয়েছে। গবেষকেরা কোনো অক্ষত প্রাচীন স্ক্রল খুলে পড়েননি। তাঁরা আধুনিক…

Read More

বাংলাদেশের আটটি পোশাক কারখানায় ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপ গড়ে বার্ষিক আয়ের ৪.১ শতাংশ মুছে দিচ্ছে। অথচ প্রতিফলক রং, ছাদ নিরোধক ও উন্নত বায়ুপ্রবাহের মতো ব্যবস্থার খরচ চার বছরের মধ্যেই উঠে আসতে পারে। তারপরও শ্রমিকের শরীর কেন বৈশ্বিক পোশাক ব্যবসার সবচেয়ে সস্তা ‘কুলিং সিস্টেম’ হয়ে আছে? ঢাকার আশপাশের কোনো পোশাক কারখানায় দুপুর গড়ালে বাইরের তাপমাত্রা আর ভেতরের তাপমাত্রা এক থাকে না। টিন বা কংক্রিটের ছাদ সারাদিন সূর্যের তাপ শোষণ করে। সারি সারি সেলাই মেশিন, আলো, মোটর, ইস্ত্রি ও মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া তাপ ঘরের মধ্যে জমতে থাকে। জানালা বা সাধারণ ফ্যান থাকলেও অনেক ফ্লোরে সেই…

Read More

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের একটি চুনাপাথরের গুহায় পড়ে ছিল কয়েকটি ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত ও চোয়ালের অংশ। চোখে দেখলে সেগুলো প্রাগৈতিহাসিক মানুষের আর দশটি ভগ্নাবশেষের মতোই। কিন্তু দাঁতের গায়ে ছিল অস্বাভাবিক গভীর, গোলাকার খাঁজ—যেন বহু বছর ধরে শক্ত কোনো বস্তু একই জায়গায় চেপে ধরা হয়েছিল। সেই ক্ষুদ্র ক্ষতচিহ্নই শেষ পর্যন্ত মানুষের নেশা, চিকিৎসা ও অভ্যাসের ইতিহাসকে হাজার হাজার বছর পেছনে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে Science Advances–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সুলাওয়েসির প্রাচীন শিকারি–সংগ্রাহকেরা সম্ভবত ২৫ হাজার বছর আগেও গোটা সুপারি মুখে রেখে নিয়মিত চুষতেন। সুপারির বৈজ্ঞানিক নাম Areca catechu। এর প্রধান স্নায়ুসক্রিয় উপাদান অ্যারেকোলিন মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরে উত্তেজক প্রভাব সৃষ্টি…

Read More

সাড়ে তিন থেকে চার হাজার বছর আগে বর্তমান ভিয়েতনামের কোনো এক কৃষিনির্ভর জনপদে শিশুটির জন্ম হয়েছিল। তার জীবন দীর্ঘ হয়নি। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্যদের সঙ্গে সমাধিস্থ করেছিলেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে জনপদটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়; হারিয়ে যায় তার ভাষা, নাম ও পারিবারিক পরিচয়। কিন্তু তার দাঁত একটি ইতিহাস ধরে রেখেছিল। দাঁতের অস্বাভাবিক গঠন, এনামেলের অসম্পূর্ণ বিকাশ এবং হাড়ের ক্ষত দেখে আধুনিক গবেষকেরা বুঝতে পারেন, শিশুটি সম্ভবত জন্মের আগেই কিংবা জীবনের একেবারে শুরুতে Treponema pallidum গোষ্ঠীর কোনো ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। এই ব্যাকটেরিয়া গোষ্ঠীর বিভিন্ন উপপ্রজাতি যৌনবাহিত সিফিলিস, ইয়জ, বেজেল ও পিন্টার মতো রোগ সৃষ্টি করে। রোগগুলোর সংক্রমণপদ্ধতি…

Read More

একটি শিশুর মৃত্যু সব সময়ই একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু যে রোগ টিকার মাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেই রোগে শিশুর মৃত্যু ঘটলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না—তা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও দলিল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ এখন তেমনই এক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে; এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশ শিশু। অনেকের ক্ষেত্রে হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং গুরুতর অপুষ্টির মতো জটিলতা তৈরি করছে। তবে মৃত্যুর এই সামগ্রিক সংখ্যার সবকটিই…

Read More

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৯ সালের এক দিন। এথেন্সের নাগরিক আদালতে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় সত্তর বছরের এক বৃদ্ধ। তাঁর হাতে কোনো অস্ত্র নেই, পেছনে কোনো সেনাবাহিনীও নেই। তিনি কোনো বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেননি, রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করেননি। তাঁর অপরাধের কেন্দ্রে ছিল কথা—আর এমন কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে ক্ষমতাবান, জ্ঞানী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে পড়তে হতো। বৃদ্ধের নাম সক্রেটিস। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিল। কয়েক সপ্তাহ পর কারাগারে তিনি বিষাক্ত হেমলক পান করলেন। পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাসে ঘটনাটি হয়ে উঠল চিন্তার স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত বিবেকের সংঘাতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীকগুলোর একটি। কিন্তু সক্রেটিস কি সত্যিই শুধু প্রশ্ন করার অপরাধে নিহত হয়েছিলেন? উত্তরটি সরল নয়।…

Read More

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের রুক্ষ পাহাড়ি ভূমিতে ওপর থেকে তাকালে গঠনটি চোখে পড়বেই। দুই প্রান্ত সরু, মাঝখান প্রশস্ত এবং চারদিকে উঁচু কিনারা—দূর থেকে দেখে মনে হয়, মাটির ভেতর কোনো বিশাল নৌকার কাঠামো আটকে আছে। স্থানটির নাম দুরূপিনার ফরমেশন। তুরস্কের আড়ি প্রদেশের দোয়ুবায়াজিত জেলার কাছে, ইরান সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। বৃহত্তর আরারাত পর্বতের চূড়া থেকেও এটি বেশ দূরে। তবু নৌকার মতো আকৃতি এবং ধর্মীয় কাহিনির সঙ্গে ভৌগোলিক সম্পর্কের কারণে কয়েক দশক ধরে একদল অনুসন্ধানকারী দাবি করছেন—এখানেই হয়তো নূহের নৌকার ধ্বংসাবশেষ চাপা পড়ে আছে। ২০২৬ সালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানটি। সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জেঙ্কার আতিলার নেতৃত্বে একটি…

Read More

১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে টাইটান IIIE–সেন্টর রকেটে চেপে যাত্রা শুরু করেছিল ৭২১.৯ কিলোগ্রামের এক যন্ত্র। নাম ভয়েজার–১। পরিকল্পনা ছিল বৃহস্পতি ও শনি গ্রহকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু সেই সীমিত লক্ষ্য পেরিয়ে যানটি আজ মানুষের নির্মিত সবচেয়ে দূরবর্তী বস্তু—সূর্যের তৈরি কণিকা ও চৌম্বকক্ষেত্রের বুদ্‌বুদ হেলিওস্ফিয়ারের বাইরে, আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে কর্মরত প্রথম মানবদূত। NASA-র মিশন পরিচিতি আজ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভয়েজার–১-এর যাত্রার ৪৯ বছর পূর্ণ হলো। এই বয়সে তাকে ‘সক্রিয়’ বলা নিজেই এক প্রকৌশল বিস্ময়। সে এখন পৃথিবী থেকে ২৫ বিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ২০২৬ সালের ১৮ নভেম্বর যানটি পৃথিবী থেকে ঠিক এক ‘আলোক-দিন’ দূরত্বে পৌঁছাবে—অর্থাৎ আলো ২৪ ঘণ্টায়…

Read More

দূরে একটি জাহাজ দেখা যাচ্ছিল। প্রথমে কেউ নিশ্চিত হতে পারছিলেন না—সেটি সত্যিই জাহাজ, নাকি বরফের সমুদ্রের ওপর আলো ও কুয়াশার কোনো বিভ্রম। এলিফ্যান্ট আইল্যান্ডের পাথুরে তীরে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তখন এতটাই ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত এবং বিচ্ছিন্ন যে আশাও তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর খেলা করতে পারত। তারপর জাহাজটি আরও কাছে এলো। ১৯১৬ সালের ৩০ আগস্ট। চিলির ছোট বাষ্পচালিত নৌযান Yelcho বরফ ঠেলে দ্বীপের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছিল। জাহাজটির ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন আর্নেস্ট শ্যাকলটন—সেই মানুষ, যিনি চার মাস আগে সাহায্য আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ছোট নৌকায় দিগন্তে হারিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি চিৎকার করে জানতে চাইলেন, সবাই কেমন আছে। উত্তর এলো—সবাই নিরাপদ, সবাই…

Read More

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো ‘প্রাকৃতিক চিকিৎসা’ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সাধারণত দুটি বিপরীত শিবির তৈরি হয়। একদল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রোগমুক্তির গল্প সামনে এনে পদ্ধতিটিকে অলৌকিক সমাধান হিসেবে প্রচার করেন। অন্য দল একে পুরোপুরি ভুয়া বা ক্ষতিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাবি, অভিজ্ঞতা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ‘কফি এনেমা’ নিয়ে চলমান বিতর্কও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রচারকারীদের দাবি—পায়ুপথে কফির দ্রবণ প্রবেশ করালে শরীরের ‘বিষাক্ত পদার্থ’ বেরিয়ে যায়, যকৃত সক্রিয় হয়, পিত্তপ্রবাহ বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় কিংবা ক্যানসার চিকিৎসায় সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু এসব দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য মানব-গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কফি…

Read More