Author: স্টেটওয়াচ ডেস্ক

মালয়েশিয়ার Foreign Workers Centralised Management System বা FWCMS-এ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এ খবর একই সঙ্গে আশা ও অস্বস্তি তৈরি করেছে। আশা—কারণ ২০২৪ সাল থেকে সীমিত থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার আবার সক্রিয় হওয়ার সংকেত মিলছে। অস্বস্তি—কারণ কী প্রক্রিয়ায় ২৫টি প্রতিষ্ঠান বাছাই হলো, নিয়োগ কবে শুরু হবে এবং কোন পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে, প্রকাশের দিন পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়। bdnews24.com-এর প্রতিবেদনে এই অনিশ্চয়তার কথাই বলা হয়েছে; FWCMS-এর নিজস্ব বর্ণনা বলছে, প্ল্যাটফর্মটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন ও লেনদেনকে অনলাইনে সমন্বিত করে। এই জায়গায় প্রথম সতর্কতা জরুরি: ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ মানেই সিন্ডিকেট প্রমাণিত—এ কথা বলা…

Read More

১৮৬৪ সালের ২২ আগস্ট, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কয়েকজন কূটনীতিক একটি ছোট্ট দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। দলিলটিতে ছিল মাত্র দশটি অনুচ্ছেদ। এটি যুদ্ধ নিষিদ্ধ করেনি, কোনো সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ থামায়নি, এমনকি যুদ্ধ শুরু করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেনি। তবু আধুনিক ইতিহাসে খুব কম আইনি দলিলই মানুষের জীবন রক্ষায় এর মতো গভীর প্রভাব ফেলেছে। দলিলটির নাম ছিল—যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈন্যদের অবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত জেনেভা কনভেনশন। আজ আমরা একে প্রথম জেনেভা কনভেনশন নামে জানি। এর কেন্দ্রীয় নীতিটি ছিল বিপ্লবাত্মক অথচ সহজ: একজন সৈনিক আহত হওয়ার পর আর শুধু শত্রুপক্ষের যোদ্ধা নন; তিনি প্রথমত একজন অসহায় মানুষ। তাঁর পোশাক, পতাকা কিংবা জাতীয়তা যা-ই হোক, তাঁকে উদ্ধার ও চিকিৎসা করতে…

Read More

একটি সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে জনমত সাধারণত দুটি ভিন্ন অনুভূতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। একদিকে থাকে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা ও সময় দেওয়ার মানসিকতা, অন্যদিকে শুরু হয় তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তব জীবনে কতটা পৌঁছেছে—সেই হিসাব। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের প্রথম জাতীয় অনুমোদন জরিপে বাংলাদেশের বর্তমান জনমতের ঠিক এই দ্বৈত চিত্রটিই উঠে এসেছে। জরিপে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। কিন্তু সরকারের সামগ্রিক কাজকে ইতিবাচক বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের ইতিবাচক মূল্যায়নের মধ্যে ব্যবধান ১১ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। আরও নিচে নেমেছে দেশের সামগ্রিক গতিপথ সম্পর্কে আস্থা—বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে…

Read More

ভূমধ্যসাগরের তলদেশে প্রায় দুই হাজার একশ বছর ধরে পড়ে ছিল একটি রোমান বাণিজ্যজাহাজ। তার কাঠের কাঠামোর বড় অংশ হয়তো পলি ও সামুদ্রিক আবরণের নিচে লুকিয়ে গেছে। কিন্তু জাহাজের বহন করা শত শত পোড়ামাটির পাত্র এখনো সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে আছে। সেই পাত্রগুলোই দুই সহস্রাব্দ পর একটি হারিয়ে যাওয়া বাণিজ্যযাত্রার গল্প বলতে শুরু করেছে। ইতালির সিসিলি দ্বীপের পশ্চিম উপকূলের মাজারা দেল ভাল্লো শহর থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে জাহাজটির সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রায় ৪৬ মিটার গভীরে থাকা প্রত্নস্থানটিতে শত শত অ্যাম্ফোরা, দুটি সিসার নোঙরদণ্ড এবং সিসায় তৈরি আরেকটি কাঠামো শনাক্ত হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় জাহাজটির সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে প্রথম শতকের মধ্যে বলে…

Read More

১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারত থেকে জন্ম নিয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত। মানচিত্রে একটি সাম্রাজ্য ভেঙে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশভাগ সম্পন্ন হয়েছিল বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ৭৯ বছর পরও দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় পরিচয়, উদ্বাস্তু রাজনীতি এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের দিকে তাকালে দেখা যায়—দেশভাগ আসলে শেষ হয়নি। র‍্যাডক্লিফের টানা রেখা আজ কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্তচৌকি, ভিসা, পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের আইনে পরিণত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে যারা বাড়ি হারিয়েছিল, তাদের স্মৃতি এখনো পরবর্তী প্রজন্ম বহন করছে। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতা, কাশ্মীর সংঘাত, বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত, ‘অনুপ্রবেশকারী’ বিতর্ক এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণের চেষ্টা—সবকিছুর ভেতরেই ফিরে আসে…

Read More

বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু তারিখ আছে, যেগুলো ক্যালেন্ডারে ফিরে আসে না; বরং প্রতিবার নতুন রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে হাজির হয়। ১৫ আগস্ট তেমনই একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়েছিল। একটি স্বাধীন দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাজনৈতিক নেতাকে নিজ বাসভবনে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি সরকারের পতন ঘটেনি; বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ, দায়মুক্তি এবং হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতা বদলের এক ভয়ংকর নজির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু অর্ধশতাব্দী পর ১৫ আগস্ট আর কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শোকের দিন, রাজনৈতিক আনুগত্যের পরীক্ষা, রাষ্ট্রীয় বয়ানের অংশ এবং একই সঙ্গে ইতিহাসের মালিকানা নিয়ে চলমান সংঘাতের প্রতীক…

Read More

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রোমান সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে নাগরিকেরা নিয়মিত কর দিচ্ছিলেন—কখনো মুদ্রায়, কখনো শস্য ও কৃষিপণ্যে। কর আদায়কারীরাও রসিদ দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই রসিদে লেখা থাকত না কত টাকা বা কত পরিমাণ পণ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে করদাতার কাছে অর্থ পরিশোধের প্রমাণ থাকলেও আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ যাচাই করার উপায় ছিল না। এই অস্পষ্টতার সুযোগেই গড়ে উঠেছিল দীর্ঘমেয়াদি এক দুর্নীতির ব্যবস্থা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জনগণের কাছ থেকে এক অঙ্কের কর আদায় করতেন, রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে পাঠানো হিসাবে দেখাতেন তার চেয়ে কম। মাঝখানের অর্থ বা পণ্য চলে যেত তাঁদের নিজেদের পকেটে। ঘটনাটি আজকের ভাষায় ‘রাজস্ব জালিয়াতি’, ‘ভুয়া হিসাব’ কিংবা ‘কর কেলেঙ্কারি’। পার্থক্য শুধু এটুকু—কেলেঙ্কারির…

Read More

বাংলাদেশে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনগুলোতে একটি পরিচিত চিত্র দেখা যায়। পাসের হার, জিপিএ–৫ কিংবা মেধাতালিকার আলোচনায় মেয়েরা প্রায়ই ছেলেদের সমান অথবা এগিয়ে থাকে। বিদ্যালয়ে ভর্তি ও টিকে থাকার ক্ষেত্রেও কয়েক দশকে মেয়েদের অগ্রগতি দেশের অন্যতম বড় সামাজিক অর্জন। কিন্তু পরীক্ষার কক্ষ পেরিয়ে কর্মজীবনের দরজায় পৌঁছালে ছবিটি আমূল বদলে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, ২০২৪ সালে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ছিল ৩৮ দশমিক ৪০ শতাংশ; পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কর্মরত নারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ, বিপরীতে কর্মরত পুরুষ প্রায় ৪ কোটি ৬২ লাখ। অর্থাৎ কর্মসংস্থানে ব্যবধান দুই কোটিরও বেশি। আরও উদ্বেগের…

Read More

১৯৬১ সালের ১২ আগস্ট, শনিবার রাত। বার্লিনের রেস্তোরাঁগুলো তখনো খোলা, ট্রাম ও পাতালরেল চলছিল, মানুষ সপ্তাহান্তের অবসর কাটিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের মধ্যকার রাজনৈতিক বিভাজন সবার জানা থাকলেও শহরের মানুষ তখনো এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাতায়াত করতে পারতেন। কেউ পশ্চিমে কাজ করে পূর্বে ফিরতেন, কেউ আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে সীমান্ত পার হতেন। একই রাস্তা, একই ট্রেনলাইন এবং একই পাড়ার মধ্য দিয়ে চলত দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জীবন। কয়েক ঘণ্টা পর সেই স্বাভাবিকতা আর থাকল না। মধ্যরাতের পর পূর্ব জার্মানির পুলিশ, সীমান্তরক্ষী, সেনাসদস্য ও শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে পড়েন। তারা পাথর তুলে ফেলেন, ট্রামলাইন বিচ্ছিন্ন করেন, রেল যোগাযোগ বন্ধ…

Read More

১৯৪২ সালের ১১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট অফিস একটি ‘সিক্রেট কমিউনিকেশন সিস্টেম’-এর পেটেন্ট অনুমোদন করে। নথিতে উদ্ভাবকদের নাম—হেডি কিসলার মার্কি এবং জর্জ অ্যানথেইল। দ্বিতীয় নামটি ছিল এক পরীক্ষামূলক সুরকারের; প্রথম নামটির আড়ালে ছিলেন তৎকালীন হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন—হেডি লামার। পেটেন্টটির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অস্ত্রকে আরও ধ্বংসাত্মক করা নয়, বরং রেডিও-নিয়ন্ত্রিত টর্পেডোর সংকেতকে শত্রুর জ্যামিং থেকে রক্ষা করা। প্রেরক ও গ্রাহক যদি একই ছন্দে এক ফ্রিকোয়েন্সি থেকে আরেক ফ্রিকোয়েন্সিতে দ্রুত লাফাতে পারে, তবে শত্রুর পক্ষে পুরো যোগাযোগটি শনাক্ত, অনুসরণ বা বন্ধ করা কঠিন হবে—এটাই ছিল মূল ধারণা। আজ একে আমরা ‘ফ্রিকোয়েন্সি হপিং’ বা বিস্তৃত অর্থে স্প্রেড-স্পেকট্রাম যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত করি। এই…

Read More