Trial Run

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারকে সম্মান করতে হবে: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে পুলিশের গুলি চালনার পর চার জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সমবেত হওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। খবর বিবিসি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক সুলতান মোহাম্মেদ জাকারিয়া বিবৃতিতে বলেছেন, “চট্টগ্রাম ও ঢাকার সহিংসতার দৃশ্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের আচরণের একটি পরিচিত রূপ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার হামলার শিকার হয়েছে বিশেষ করে এই করোনা মহামারির সময়ে”।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার আছে। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এগুলোকে সম্মান করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা ও বেআইনি শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে”।

অ্যামনেস্টির দাবি ওই ঘটনায় একশরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, গত ২৫শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে অন্তত ৪০ জন আহত হয়। ২৪শে মার্চ সিলেটে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের ঘটনায় ২৫ জন আহত হয়।একই দিন রাজশাহীতে দশ জন আহত হয়। ২৩শে মার্চ বিক্ষোভাকারীদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মারধর করছে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যাতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকার পুলিশ কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো।

ঢাকায় জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতের কর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়৷ পুলিশের সাথে লাঠি নিয়ে বহিরাহতরাও অংশ নেয়৷ সন্ধ্যার পর যাত্রাবড়িতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মাদ্রাসা ছাত্র ও হেফাজত কর্মীরা৷ সেখানেও পুলিশ গুলি করেছে বলে দাবি করেন মাওলনা আজিজুল হক ইসলামাবাদী৷

ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় মুসল্লি ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মাদ্রাসার ছাত্ররা জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পুলিশ জানিয়েছে, জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল থেকে হাটহাজারী থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাল্টা গুলি ছুঁড়েছে পুলিশ। এতে অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ ও ৪ জন নিহত হয়েছে। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে হাটহাজারী মডেল থানা জামে মসজিদ। এছাড়াও হাটহাজারী সহকারী কমিশনারের(ভূমি) সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে হাটহাজারীতে চারজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মাদ্রাসা ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল বের করে৷ তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে৷ এরপর সদর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হন৷ নিহত ব্যক্তি একটি ওয়ার্কশপের কর্মী৷ তবে মাওলানা নোমান ফয়েজী দাবি করেন, ছাত্ররা বিক্ষোভ করার সময় তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়৷

চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে ও ব্রাহহ্মনবাড়িয়ায় আন্দোলন মিছিলে অন্তত ৫ জন মারা গেছে বলে জানা যায়। হেফাজতে ইসলাম নিহতদের পাঁচজনকেই তাদের কর্মী বলে দাবি করেছে৷ হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি দাবি করেন, তারা সবাই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন৷

হাটহাজারীতে নিহত চারজনের লাশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী৷  আরো এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান৷ তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি৷

হাটহাজারী থানার ডিউটি অফিসার প্রদীপ দাস বলেন, ‘‘কতজন মারা গেছে সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই৷ জুমার নামাজের পর মোদীবিরোধী হেফাজতের লোকজন বেলা আড়াইটার দিকে থানায় হামলা করে৷ তখন হতাহতের ঘটনা ঘটে৷”

তবে মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি দাবি করেন, পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার পর থানায় হামলা করা হয়৷ তার আগে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হয়েছে৷ তখন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি৷ আর ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে পুলিশি হামলার প্রদিবাদে তারা মিছিল বের করেছিল৷

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরবিরোধী বিক্ষোভে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের গুলিতে চারজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম আজ শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং রবিবার সারাদেশে পূর্ণদিবস হরতাল আহ্বান করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে শুক্রবারের বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনার জেরে তুমুল উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জায়গায় ইতোমধ্যেই বিজিবি মোতায়েনের কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

হাটহাজারী এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে ইটের দেয়াল তুলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে যুবলীগও আজ সারা দেশে মিছিল সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সিলেটসহ কয়েকটি এলাকায় কিছুক্ষণ আগে তাদের মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে মোদীর সফরের প্রতিবাদে ঢাকায় ভাসানী পরিষদ নামে একটি সংগঠন আজ প্রেসক্লাব এলাকায় সমাবেশ করেছে যেখানে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

এসডব্লিউ/কেএইচ/১৫৩১


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ