Author: ডেস্ক রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘন হয়ে উঠছে, তখন সেই অস্থিরতার ভেতর থেকে ভেসে আসছে এক অস্বস্তিকর সতর্কবার্তা—ইসরায়েলের সামরিক শক্তি, যাকে এতদিন প্রায় অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হতো, সেটিই নাকি এখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে। এই সতর্কতা এসেছে দেশেরই সেনাপ্রধানের মুখ থেকে, যা শুধু একটি সামরিক মন্তব্য নয়, বরং একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের আক্রমণ যতটা ভয়ংকর, তার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এই বাস্তবতা যেন নতুন করে সামনে এসেছে। ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ—সবকিছু মিলিয়ে তাদের সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বাহিনী হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক…

Read More

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, তখন তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে, সরবরাহ চেইন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, আর সেই চাপ এসে পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, কোথাও কোথাও তেল বিক্রি বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহ—সব মিলিয়ে যেন এক অদৃশ্য সংকটের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অথচ বাস্তবতা বলছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; বরং চাহিদার হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ…

Read More

পৃথিবীর জন্ম যেন এক অগ্নিগর্ভ বিস্ফোরণের গল্প। আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে ধুলো, গ্যাস, গ্রহাণুর টুকরো একত্র হয়ে তৈরি হয়েছিল এই গ্রহ, কিন্তু তার শুরুর চেহারা আজকের মতো শান্ত ছিল না—ছিল এক জ্বলন্ত গোলক, লাভার সাগর আর বিস্ফোরণের অবিরাম গর্জন। সেই অগ্নিময় পৃথিবীর প্রথম নিঃশ্বাসই ছিল কম্পনের ভাষা। যেন জন্মের মুহূর্তেই সে কেঁপে উঠেছিল, নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে। পৃথিবী তখনো স্থির হয়নি; বরং প্রতিটি মুহূর্তে ভাঙছিল, গড়ছিল, আবার ভেঙে পড়ছিল। সেই অস্থিরতার ভেতরেই জন্ম নিয়েছিল ভূমিকম্প, যা মানুষের আগমনের বহু আগেই পৃথিবীর এক স্বাভাবিক অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে থাকলে তার ওপরের স্তর শক্ত হয়ে…

Read More

ব্যথা। চোখ-ধাঁধানো, জ্বালাপোড়া করা ব্যথা। ঠান্ডা বাথরুমের মেঝে। একটি ক্যাথেটার আমার বেগুনি হয়ে যাওয়া ক্ষতের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। আমি মেঝেতে পড়ে আছি, যে কোনো ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি যেন এই যন্ত্রণার শেষ হয়। মৃত্যু আর শূন্যতা চাইছি। কিছুই হচ্ছে না। আমি যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছি। যখন ব্যথা খুব বেশি হয়, তখন ভাষা ভুলে যেতে হয়। কিন্তু তখনও শুধু একটা শব্দ মনে থাকে— “মা”। আমি চিৎকার করে বলি, “মা!” মা দৌড়ে আসে, অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। নার্সরা এসে আমাকে মরফিন দেয়। যে কাজ ঈশ্বর করতে পারেনি, মরফিন তা করে—ব্যথা কমিয়ে দেয়, সব অন্ধকার হয়ে আসে। অজ্ঞান হওয়ার আগে আমি অদ্ভুতভাবে খুশি ছিলাম। এই অপারেশনের…

Read More

হুট করে রাত নেমে আসে। আলো থাকে না। শুধু অন্ধকার ছড়ায় ধীরে ধীরে। ইতিহাসও তেমন। একদিন যে নাম উচ্চারিত হয়েছিল প্রবল শক্তিতে, আরেকদিন সেই নাম নীরবতার ভিতরে ডুবে যায়। কথা কমে যায়। আলোচনার টেবিল ফাঁকা হয়। প্রশ্ন ভেসে থাকে। উত্তর আসে না। শেখ হাসিনা—এক সময় যার উপস্থিতি মানেই ছিল রাজনীতির কেন্দ্র। যার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হতো বিতর্ক, আলোচনা, উত্তাপ। তিনি ছিলেন প্রভাবের অন্য নাম। ক্ষমতার প্রতীক। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু আজ যেন সেই অবস্থান ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে আলোচনার কেন্দ্র থেকে। যেন তিনি আছেন, আবার নেই। একটা সময় ছিল যখন দেশের প্রতিটি বড়…

Read More

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ২৬ মার্চের ভোর—এই সময়টি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর সংকটের মুহূর্ত। সেই রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আক্রমণ চালায় এবং নিরস্ত্র মানুষের উপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে অসংখ্য মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই মূলত মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং পরদিন স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালির সংগ্রামকে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। এই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে। বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ, গবেষণাপত্র এবং সমসাময়িক বিবরণ থেকে যে…

Read More

বিশ্ব যত এগোচ্ছে, প্রযুক্তি যত মানুষের জীবনকে সহজ করছে, ঠিক ততই ইন্টারনেটের অন্ধকার দিকগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে—এমনই এক শিউরে ওঠার মতো বাস্তবতা সামনে এনেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধান। একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে, যেখানে আমরা নিরাপত্তা, সচেতনতা এবং মানবাধিকারের কথা বলি, সেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্তে গড়ে উঠেছে এমন এক বিকৃত অনলাইন নেটওয়ার্ক, যা নারীর প্রতি সহিংসতাকে শুধু উৎসাহিতই করছে না, বরং তা শেখানোর মতো পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতাকে অনেকেই বলছেন—একটি বৈশ্বিক ‘রেপ একাডেমি’। ঘটনার সূত্রপাত একক কোনো দেশ বা ব্যক্তি দিয়ে নয়, বরং একাধিক দেশের নানা বিচ্ছিন্ন ঘটনা একত্রিত হয়ে যে ভয়াবহ চিত্র তৈরি করেছে, তা মানবসভ্যতার জন্য গভীর উদ্বেগের…

Read More

ঈদ—বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের, সবচেয়ে আবেগের একটি সময়। এই সময়টায় শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা, পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়া, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের নামাজ, সেমাই-পোলাও, হাসি আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে চারপাশ। কিন্তু সেই আনন্দমুখর যাত্রাপথই যখন মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়, তখন ঈদের সুখ মুহূর্তেই বদলে যায় শোকের ভারে। এবারের ঈদযাত্রা যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানই বলে দেয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা কতটা গভীর। ঈদের আগে ও পরে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে শত শত দুর্ঘটনা ঘটেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৩৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭৪ জন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। এই সংখ্যাগুলো কেবল সংখ্যা…

Read More

২৬ মার্চ—স্বাধীনতার চেতনায় ভাসা একটি দিন। এই দিনেই লাখো মানুষ ছুটে যায় শহীদদের স্মরণে, শ্রদ্ধা জানাতে, ইতিহাসকে মনে রাখতে। কিন্তু যখন সেই দিনেই জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে কয়েকজনকে আটক করা হয়, তখন প্রশ্নটা আর শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিণত হয় একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে। ‘জয় বাংলা’—যে স্লোগানটি একসময় মুক্তিযুদ্ধের প্রাণশক্তি ছিল, যে স্লোগান বাঙালির সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার প্রতীক—সেই একই শব্দ উচ্চারণ কি আজ অপরাধ হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় রাষ্ট্রের সংবিধান, আইনের ব্যাখ্যা এবং নাগরিক অধিকারের মৌলিক কাঠামোর দিকে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘জয় বাংলা’…

Read More

১৯৭১—এই একটি বছরই বাঙালির ইতিহাসকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। রক্ত, ত্যাগ আর অদম্য সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মিত্র। সীমান্ত খুলে দেওয়া, শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, সামরিক সহায়তা প্রদান—সব মিলিয়ে ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা যখন উল্টে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের দিকে তাকানো হয়, তখন একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ধীরে ধীরে সামনে আসে—এই মিত্রতা কি নিখাদ ছিল, নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল কৌশলগত স্বার্থ, যেখানে লাভের পাল্লা ভারী হয়েছে ভারতের দিকেই? মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাধ্যমে শুধু একটি দেশের জন্ম হয়নি; দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমে…

Read More