Trial Run

শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচন করায় ডিজিটাল আইনে দু’জনকে গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার সংগঠন ও অধিকারভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। এবার ফেসবুকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম ফেসবুকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে একটি গানের ভিডিও পোস্ট করেন৷ পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের হলে পুলিশ তাকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে৷ জেলার শাহজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন ডিপিএকে বলেন ‘‘আমরা তার (রবিউলের) মোবাইল ফোন জব্দ করেছি৷ তার পোস্ট করা ভিডিওটি ইতিমধ্যে সরানো হয়েছে৷’’

এছাড়া, ফেসবুকে শেখ হাসিনা এ নরেন্দ্র মোদীর এক ছবিতে ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ করায় আলাউদ্দিন ব্যাপারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ৷

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে হেফাজতে ইসলাম, এবং কিছু রাজনৈতিক দল৷ সেসময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সারাদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়৷ সংঘর্ষে প্রাণহানীর এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনসহ ১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা৷ এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারকে জনগণের স্বাধীনভাবে সমাবেশ করার অধিকারের বিষয়ে শ্রদ্ধাশীল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে৷

বাংলাদেশের বেসরকারি অধিকারভিত্তিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশই বর্তমান সরকার প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে মানবাধিকারের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা— এটা আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। যে অধিকার আইন করেও খর্ব করা যায় না। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আইনটি নিয়ে বিতর্ক বা সমালোচনার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তির ওপর দেশে ও বিদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৩৪৫


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ