Trial Run

গ্রেপ্তার হলেন মাদ্রাসাছাত্রদের ‘সিরিয়াল র‍্যাপিস্ট’ মাদ্রাসাশিক্ষক সানী

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কিভাবে সংস্কার করা যায় এনিয়ে চলছে জোর জল্পনা কল্পনা। এসবের মাঝেও প্রতিদিনকার নিয়মিত সংবাদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক মাদ্রাসাছাত্রের ধর্ষণের সংবাদ এসেছে। পুলিশ দিনাজপুর সদর উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রদের সিরিয়াল র‍্যাপিস্ট মাদ্রাসা শিক্ষক  রবিউছ সানীকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে। দিনাজপুর শহরের পুলহাটে অবস্থিত কাশিমপুর হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে গতকাল শুক্রবার(১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় ওই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

গত ৫ মার্চ রাতে ওই মাদ্রাসায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষকের জবানি থেকে জানা যায় এর আগেও সে আরও ৩ মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ করেছে। আটক শিক্ষক রবিউছ সানী জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার গলাহার গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে বলাৎকারের শিকার শিশুর পিতা সদর উপজেলার যোগীবাড়ী গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দীনের ছেলে মাহফুজ হোসেন উজ্জল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষক তার ১৩ বছরের শিশু ছেলে আহাদ মাহমুদ তুষারকে বলাৎকার করেন। এ ঘটনা বাইরের কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখান। গত ১১ মার্চ মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় এসে বিষয়টি পরিবারের লোকজনদের জানায়।

ওসি আরো জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আরো ৩ জন ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা মাহাফুজ হোসেন উজ্জল মাদরাসায় গিয়ে কমিটির লোকদের বিষয়টি জানান। এসময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

আজ শনিবার দুপুরে আটক শিক্ষক রবিউছ সানীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এলাকার মানুষ মনে করেন এরা আদব কায়দা শিক্ষা দেন। নৈতিকতা শিক্ষা দেন। সে কারণে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে হোক বা নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকে ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পড়াতে দেন। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, যে নিরাপত্তার কথা ভেবে মাদ্রাসায় ছেলেমেয়েদের পড়াতে দেয়া হয় সেখানে আদৌ নিরাপদ নয়। দেখা যায় ছেলেরাও নিরাপদ নয় এসব তথাকথিত হুজুরদের কাছে। একটা সময়ে হয়তো এসব কুকর্মের কথা বাইরে প্রচার হতো না। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে।

তারা মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষকরা তাদের শ্রদ্ধার আসনটি হারাতে বসেছেন তার কারণ তাদের নৈতিকস্খলন। যেটিই আগে ছিল তাদের প্রধান হাতিয়ার, গর্ব করার বিষয়। বিবেকবোধের কারণে সমাজ তাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন আর এখন দেখেন ঘৃণার চোখে। কারণ তাদের একটি অংশ ধর্ষণ, বলাৎকারের মতো ঘটনার সাথে অভিযুক্ত বা জড়িত। এ থেকে মুক্ত হতে না পারলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা যাতে বিচার থেকে রেহাই পেতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা গেলে শিশুদের অনেকাংশে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। তবে এসবের বাইরেও কিছু ভাবতে হবে। ভাবতে হবে আমাদের মাথা বিক্রির কথা। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে না চাওয়ার কথা। দেশ, সমাজ আর শিশুদের আপন না ভাবার আত্মপ্রতারণার কথা।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৪২১ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 162
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    162
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ