Author: নিজস্ব প্রতিনিধি

ভিন্নমত প্রকাশের মূল্য যদি ঘরের জানলায় আঘাত হয়ে ফিরে আসে, তাহলে গণতন্ত্রের সংকট শুধু সংসদ বা ভোটকেন্দ্রে থাকে না। তা নাগরিকের বাড়ির দরজায় পৌঁছে যায়। কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিআই(এম)-এর সাবেক রাজ্যসভার সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ সেই উদ্বেগ সামনে এনেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর ভোরে এক মুখঢাকা ব্যক্তি মোটরবাইকে এসে তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়ে। জানলার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; কেউ আহত হননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রকাশিত ফুটেজের বিবরণে নিজেকে দেশপ্রেমিক দাবি করে হুমকি দেওয়ার কথা আছে। পিটিআইয়ের সংবাদে পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার ও অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে তদন্তের কথা জানিয়েছে। একই প্রতিবেদনে ফুটেজের…

Read More

নির্বাচনে একটি দল কী বলে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাকে, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে কথাটি বলা হচ্ছে—সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের প্রচারে বিজেপি যখন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির কথা বলছে, তখন শুধু শব্দের পরিবর্তন দেখলে পুরো রাজনীতি বোঝা যাবে না। দেখতে হবে, সেই কথার পেছনে নির্বাচনী প্রয়োজন কী এবং তার সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৬ অক্টোবর এই দুটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা; ফল ঘোষণার নির্ধারিত দিন ৯ অক্টোবর। ভোটের আগে রেজিনগরে বিজেপির প্রচারে ধর্মীয় বিতর্কের বদলে স্থানীয় উন্নয়নকে সামনে আনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বেগুনবাড়ির সভায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মুসলিম শ্রোতাদের…

Read More

নতুন কোনো সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নয়—১৯৫০ সালের আইনের কঠোর প্রয়োগ, জবাইয়ের সনদ, লাইসেন্স ও অবকাঠামোর সংকট পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের বৈধ সরবরাহকে অনিশ্চিত করেছে। তার অভিঘাত শুধু মুসলমানের খাদ্যাভ্যাসে নয়; গরিবের প্রোটিন, ছোট ব্যবসা, দুগ্ধ অর্থনীতি এবং নাগরিকের ‘কে কী খাবে’—এই মৌলিক প্রশ্নেও। কলকাতার একটি পুরোনো রেস্তোরাঁয় মেনু আছে, ক্রেতাও আছে, অথচ পরিচিত কয়েকটি পদ নেই। কোথাও বিফ স্টেক অনিয়মিত, কোথাও বিরিয়ানি বা ভুনা বাদ, কোথাও দাম বেড়ে ক্রেতা কমেছে। এই দৃশ্যকে শুধু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বলে পড়লে ভুল হবে। আবার পশ্চিমবঙ্গে রাতারাতি গরুর মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে—এমন সরল ঘোষণাও তথ্যসম্মত নয়। যা ঘটছে, তা আরও জটিল: বহু পুরোনো একটি আইনকে নতুন রাজনৈতিক…

Read More

নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ অ্যালগরিদম পশ্চিমবঙ্গের ৬০.০৬ লাখ ভোটারের রেকর্ড চিহ্নিত করেছিল। বিচারিক কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় বাদ পড়ে ২৭.১৬ লাখ নাম; তাঁদের ২২.২১ লাখই পুনর্ভুক্তির জন্য আপিল করেছেন। সিদ্ধান্ত মানুষ নিয়েছেন, কিন্তু সন্দেহের সূচনা করেছে যন্ত্র। এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যা ও সময়মতো প্রতিকার না থাকলে ভোটাধিকার কতটা নিরাপদ? একজন নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারলেন, তালিকায় তাঁর নাম নেই। হাতে পরিচয়পত্র আছে, আগের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার স্মৃতিও আছে; কিন্তু এবার তিনি ভোটার নন। প্রশাসনের ভাষায় তাঁর রেকর্ডে হয়তো ছিল একটি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’—তথ্যের এমন কোনো অসামঞ্জস্য, যা একটি কম্পিউটার ব্যবস্থা সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে। নাগরিকের কাছে বিষয়টি আরও সরল ও নির্মম: ভোটের দিন…

Read More

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুধু সরকার বদলায়নি; বদলে দিয়েছে প্রায় দেড় দশকের একটি পরিচিত রাজনৈতিক কাঠামো। বিজেপি ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছে। কংগ্রেস দুটি, সিপিআইএম একটি এবং আরও কয়েকটি ছোট দল অবশিষ্ট আসন পেয়েছে। এই ফলের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে এবং বিজেপি প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল কিন্তু নির্বাচনী পরাজয় তৃণমূলের সংকটের শেষ ছিল না; সেটি ছিল শুরু। ক্ষমতা হারানোর পর দলটি এখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে বিভক্ত। একদিকে মমতা–অভিষেক নেতৃত্বাধীন অংশ, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বিরোধ এখন দল পরিচালনার প্রশ্ন ছাড়িয়ে তৃণমূলের নাম ও…

Read More

ভারতের সরকারি দপ্তর নিয়ে বহুল পরিচিত একটি অভিযোগ হলো—সেখানে নাগরিকের চেয়ে ফাইলের গুরুত্ব বেশি। একটি সনদ, ভাতা, জমির নথি কিংবা রাস্তার সমস্যার সমাধান চাইতে গিয়ে মানুষকে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হয়। কে সিদ্ধান্ত নেবেন, কর্মকর্তা কখন পাওয়া যাবেন এবং আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রায়ই থাকে না। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার এই পুরোনো অভিজ্ঞতা বদলাতে ‘জনতার দরবার’ চালুর নির্দেশ দিয়েছে। এখন থেকে প্রতি মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ দপ্তরে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে হবে। এ জন্য আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা…

Read More

শ্রেণিকক্ষকে সাধারণত এমন একটি পরিসর হিসেবে কল্পনা করা হয়, যেখানে শিশুর পরিচয় নয়, তার কৌতূহলই প্রধান। ধর্ম, জাতপাত, ভাষা বা পারিবারিক রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে সেখানে শেখানো হবে যুক্তি, সহাবস্থান ও নাগরিকতা। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুলে এক ছাত্রের কপাল থেকে চন্দনের তিলক মুছে দেওয়ার অভিযোগ দেখিয়ে দিল—বাইরের সমাজে পরিচয় নিয়ে যে টানাপোড়েন, তা এখন শ্রেণিকক্ষের দরজাতেও এসে দাঁড়িয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি মিশনারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিলক পরে আসায় তিনি এক ছাত্রকে নিয়মিত তা মুছে মুখ ধুয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে বলতেন। ছাত্রটি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে সাময়িক…

Read More

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শুধু পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদলায়নি; রাজ্যটির রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিচালনার ধরনও বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। টানা ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়েছে, তৃণমূল নেমে এসেছে ৮০টিতে। কিন্তু আসনের ব্যবধান যত বিশাল, ভোটের ব্যবধান ততটা নয়—বিজেপির প্রায় ৪৬ শতাংশের বিপরীতে তৃণমূলের ভোট প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন সরকারের আইনসভাগত কর্তৃত্ব বিপুল হলেও সমাজে তার বিরোধী রাজনৈতিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল এবং NUS–ISAS-এর নির্বাচন বিশ্লেষণ এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে। এই পরিবর্তনকে কেবল ‘তৃণমূল বনাম বিজেপি’ হিসেবে দেখলে পশ্চিমবঙ্গের সামনে দাঁড়ানো বড় প্রশ্নটি আড়ালে থেকে যায়: রাজ্য কি স্থানীয় দরকষাকষি, মধ্যস্থতা ও দলীয় ‘দাদা’নির্ভর…

Read More

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভাতা এখন আর নির্বাচনের পাশে থাকা একটি সামাজিক প্রকল্প নয়; এটি শাসক ও নাগরিকের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক চুক্তি। মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক হিসাবে টাকা ঢোকা মানে শুধু কিছু নগদ সহায়তা নয়—পরিবারের বাজার, ওষুধ, যাতায়াত বা সন্তানের পড়াশোনার ছোট অথচ জরুরি খরচের নিশ্চয়তা। যে কারণে সেই টাকা না এলে ক্ষোভও শুধু প্রশাসনিক অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত রাজনৈতিক প্রতারণার অনুভূতিতে রূপ নেয়। আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে নারীদের বিক্ষোভ সেই পরিবর্তনেরই প্রকাশ। মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, হাওড়া ও হুগলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পথ ও রেল অবরোধ, প্রশাসনিক দপ্তর ঘেরাওয়ের খবর এসেছে। জঙ্গিপুরে শতাধিক নারী পুরসভা…

Read More

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সরকার ক্ষমতায় আসার পর একশ দিন পূর্ণ করেছে। এই সময়ের সাফল্য তুলে ধরতে ৪১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং চার কোটি মানুষের কাছে সরকারের কাজ পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে দলটি। শিল্প, প্রশাসন, সরকারি কর্মীদের ভাতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা দাবি থাকলেও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটেছে সীমান্তনীতিতে। নতুন সরকার তার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিএসএফ ও এসএসবিকে ১ হাজার ১২৯ একর জমি দিয়েছে। যে জমির জন্য কেন্দ্র ২০১৪…

Read More