Author: নিজস্ব প্রতিনিধি

একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কোনো দলের প্রচার করবেন না, শিক্ষার্থীকে মিছিলে যেতে বাধ্য করবেন না, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নম্বর দেবেন না—এ প্রত্যাশা ন্যায্য। কিন্তু সেই শিক্ষক স্কুলের বাইরে শিক্ষানীতি নিয়ে আপত্তি জানাতে পারবেন কি না, পেশাগত দাবিতে সংগঠিত হতে পারবেন কি না, কিংবা চাকরি বজায় রেখে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কি না—এগুলো পৃথক প্রশ্ন। সবকিছুকে একসঙ্গে ‘রাজনীতি’ বললে সমস্যার সংজ্ঞা বিস্তৃত হয়; সমাধান অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে ভবিষ্যতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এই পার্থক্যগুলোকে সামনে এনেছে। প্রশ্ন শুধু শিক্ষক দল করবেন কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতা কীভাবে কাজ…

Read More

সুন্দরবনের উন্নয়ন নিয়ে কথা উঠলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসার কথা নদী পারাপার, বাঁধ, পানীয় জল, চিকিৎসা ও জীবিকার প্রশ্ন। কিন্তু সেই আলোচনার সঙ্গে যখন ‘অনুপ্রবেশ’ এবং জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার অভিযোগ যুক্ত হয়, তখন উন্নয়নের অর্থও একটি রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়ে। মানুষ কি সেখানে নাগরিক হিসেবে নিজের প্রয়োজন জানাবেন, নাকি পরিচয় ব্যাখ্যা করার চাপে তাঁর দৈনন্দিন দাবিগুলো পিছিয়ে যাবে? ২৪ অক্টোবর কাকদ্বীপের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে নদীপথে মাদক আসা এবং কথিত বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এলাকার জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এসব তাঁর বক্তব্য হিসেবেই এসেছে; বক্তব্যের বিবরণকে অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ…

Read More

রাজনৈতিক নেতা দল বদলালে তাঁর পতাকা বদলায়, মঞ্চ বদলায়, প্রচারের ভাষাও বদলাতে পারে। কিন্তু পাড়ার মানুষের স্মৃতি কি একই সঙ্গে বদলে যায়? যিনি গতকাল অন্য দলের প্রতিনিধি হিসেবে রাস্তা, জল কিংবা স্থানীয় সমস্যার দায়িত্বে ছিলেন, নতুন প্রতীকে দাঁড়ালে তাঁর পুরোনো কাজের হিসাব কোথায় যাবে? পশ্চিমবঙ্গের পুরভোট সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের বিতর্ক এই প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে আনছে। কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রস্তুতির মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যে পুরোনো কর্মী এবং অন্য দল থেকে আসা নেতাদের প্রার্থিতার প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ অক্টোবরের পিটিআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রার্থী তালিকা তখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরদের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনাতেও…

Read More

পুজোর ভিড়ে একটি বইয়ের স্টল দেখতে সামান্য জায়গা। কয়েকটি টেবিল, বাঁশের কাঠামো, সাজানো বই আর পথচলতি পাঠকের সঙ্গে ছোট ছোট আলাপ। কিন্তু সেই জায়গাটুকু কে পাবে, কী বই রাখবে এবং কোন ভাষায় উৎসবের পরিচয় দেবে—এসব যখন রাজনৈতিক বিরোধের বিষয় হয়ে ওঠে, তখন প্রশ্নটি আর বই বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রশ্ন ওঠে, জনপরিসরে মত প্রকাশের সুযোগ কি সবার জন্য সমান, নাকি ক্ষমতার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল? পশ্চিমবঙ্গে এবারের দুর্গাপুজোয় বামপন্থী দলগুলোর বইয়ের স্টলে হামলার একাধিক অভিযোগ সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ১৮ অক্টোবরের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বর্ধমান শহরের জিটি রোডে শুক্রবার রাতে মুখোশধারীদের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগের কথা আছে। সিপিআই(এম)-এর দাবি, আগে পুলিশকে…

Read More

ভোটের আগে নাগরিকের প্রথম প্রশ্ন হওয়ার কথা—কাকে ভোট দেবেন? পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে চলমান বিতর্কে তারও আগে আরেকটি উদ্বেগ জায়গা করে নিচ্ছে: ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে তো? নাম যুক্ত করা, ভুল সংশোধন ও অযোগ্য নাম সরানোর প্রশাসনিক কাজ যখন দলীয় অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসে, তখন তালিকার নির্ভুলতার পাশাপাশি তার ওপর মানুষের আস্থাও পরীক্ষার মুখে পড়ে। ১৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আবার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর করার দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, আগের প্রক্রিয়ায় নথি পোড়ানো, কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও বাধাদানের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষেও বক্তব্য দিয়েছেন। এগুলো বিজেপি নেতার অভিযোগ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন; তাঁর বক্তব্য…

Read More

ভিন্নমত প্রকাশের মূল্য যদি ঘরের জানলায় আঘাত হয়ে ফিরে আসে, তাহলে গণতন্ত্রের সংকট শুধু সংসদ বা ভোটকেন্দ্রে থাকে না। তা নাগরিকের বাড়ির দরজায় পৌঁছে যায়। কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিআই(এম)-এর সাবেক রাজ্যসভার সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ সেই উদ্বেগ সামনে এনেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর ভোরে এক মুখঢাকা ব্যক্তি মোটরবাইকে এসে তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়ে। জানলার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; কেউ আহত হননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রকাশিত ফুটেজের বিবরণে নিজেকে দেশপ্রেমিক দাবি করে হুমকি দেওয়ার কথা আছে। পিটিআইয়ের সংবাদে পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার ও অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে তদন্তের কথা জানিয়েছে। একই প্রতিবেদনে ফুটেজের…

Read More

নির্বাচনে একটি দল কী বলে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাকে, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে কথাটি বলা হচ্ছে—সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের প্রচারে বিজেপি যখন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির কথা বলছে, তখন শুধু শব্দের পরিবর্তন দেখলে পুরো রাজনীতি বোঝা যাবে না। দেখতে হবে, সেই কথার পেছনে নির্বাচনী প্রয়োজন কী এবং তার সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৬ অক্টোবর এই দুটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা; ফল ঘোষণার নির্ধারিত দিন ৯ অক্টোবর। ভোটের আগে রেজিনগরে বিজেপির প্রচারে ধর্মীয় বিতর্কের বদলে স্থানীয় উন্নয়নকে সামনে আনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বেগুনবাড়ির সভায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মুসলিম শ্রোতাদের…

Read More

নতুন কোনো সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নয়—১৯৫০ সালের আইনের কঠোর প্রয়োগ, জবাইয়ের সনদ, লাইসেন্স ও অবকাঠামোর সংকট পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংসের বৈধ সরবরাহকে অনিশ্চিত করেছে। তার অভিঘাত শুধু মুসলমানের খাদ্যাভ্যাসে নয়; গরিবের প্রোটিন, ছোট ব্যবসা, দুগ্ধ অর্থনীতি এবং নাগরিকের ‘কে কী খাবে’—এই মৌলিক প্রশ্নেও। কলকাতার একটি পুরোনো রেস্তোরাঁয় মেনু আছে, ক্রেতাও আছে, অথচ পরিচিত কয়েকটি পদ নেই। কোথাও বিফ স্টেক অনিয়মিত, কোথাও বিরিয়ানি বা ভুনা বাদ, কোথাও দাম বেড়ে ক্রেতা কমেছে। এই দৃশ্যকে শুধু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা বলে পড়লে ভুল হবে। আবার পশ্চিমবঙ্গে রাতারাতি গরুর মাংস নিষিদ্ধ হয়েছে—এমন সরল ঘোষণাও তথ্যসম্মত নয়। যা ঘটছে, তা আরও জটিল: বহু পুরোনো একটি আইনকে নতুন রাজনৈতিক…

Read More

নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ অ্যালগরিদম পশ্চিমবঙ্গের ৬০.০৬ লাখ ভোটারের রেকর্ড চিহ্নিত করেছিল। বিচারিক কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় বাদ পড়ে ২৭.১৬ লাখ নাম; তাঁদের ২২.২১ লাখই পুনর্ভুক্তির জন্য আপিল করেছেন। সিদ্ধান্ত মানুষ নিয়েছেন, কিন্তু সন্দেহের সূচনা করেছে যন্ত্র। এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যা ও সময়মতো প্রতিকার না থাকলে ভোটাধিকার কতটা নিরাপদ? একজন নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারলেন, তালিকায় তাঁর নাম নেই। হাতে পরিচয়পত্র আছে, আগের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার স্মৃতিও আছে; কিন্তু এবার তিনি ভোটার নন। প্রশাসনের ভাষায় তাঁর রেকর্ডে হয়তো ছিল একটি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’—তথ্যের এমন কোনো অসামঞ্জস্য, যা একটি কম্পিউটার ব্যবস্থা সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে। নাগরিকের কাছে বিষয়টি আরও সরল ও নির্মম: ভোটের দিন…

Read More

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুধু সরকার বদলায়নি; বদলে দিয়েছে প্রায় দেড় দশকের একটি পরিচিত রাজনৈতিক কাঠামো। বিজেপি ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছে। কংগ্রেস দুটি, সিপিআইএম একটি এবং আরও কয়েকটি ছোট দল অবশিষ্ট আসন পেয়েছে। এই ফলের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটেছে এবং বিজেপি প্রথমবার রাজ্যে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল কিন্তু নির্বাচনী পরাজয় তৃণমূলের সংকটের শেষ ছিল না; সেটি ছিল শুরু। ক্ষমতা হারানোর পর দলটি এখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরে বিভক্ত। একদিকে মমতা–অভিষেক নেতৃত্বাধীন অংশ, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বিরোধ এখন দল পরিচালনার প্রশ্ন ছাড়িয়ে তৃণমূলের নাম ও…

Read More