শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবেন কে—বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে তার অনুপস্থিতিতে দলটির নেতৃত্ব কীভাবে চলবে, কে সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বের কাঠামো কী হবে—এসব প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সাংগঠনিক সংকট তৈরি হবে না। কারণ, দলটির গঠনতন্ত্রে সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থার ভিত্তিতেই বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—দলটির নেতৃত্ব কোনো একজন ব্যক্তির উপস্থিতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। দলীয় গঠনতন্ত্রে বিভিন্ন পদে থাকা ব্যক্তিদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা আছে। ফলে সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে দায়িত্বশীল অন্য নেতার মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনিয়রিটির ভিত্তিতে কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা যায়।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো এবং নিয়ম রয়েছে। দলের কাউন্সিলে সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব নির্বাচিত হন। গঠনতন্ত্রেই উল্লেখ রয়েছে, কোনো পদধারী নেতা অনুপস্থিত হলে তার দায়িত্ব কে পালন করবেন। অর্থাৎ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরেই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই কাঠামোর বর্তমান বাস্তবতায় শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম সামনে এসেছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সভাপতির অনুপস্থিতিতে তিনিই দায়িত্ব পালন করছেন। দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এখন শেখ সেলিম সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমার অনুপস্থিতিতে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’
শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের পারিবারিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতায় তার জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সভাপতির দায়িত্ব পালন করা আর স্থায়ীভাবে দলের সভাপতি হওয়া এক বিষয় নয়। শেখ হাসিনার বক্তব্য মূলত অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে। অর্থাৎ তার অনুপস্থিতিতে দলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে; এটিকে সরাসরি স্থায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তন হিসেবে দেখা যায় না। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে দলীয় কাউন্সিল, গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় তার বোন শেখ রেহানার নামও উঠে এসেছে। তবে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ রেহানা কখনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারানোর পর শেখ রেহানা নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছেন। তিনি চাকরি করেছেন এবং বর্তমানে পেনশন পান—এমন কথাও উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে আপাতত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ রেহানার সরাসরি আসার সম্ভাবনার বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে দলীয় গঠনতন্ত্রের ওপরই জোর দিয়েছেন। অর্থাৎ পারিবারিক উত্তরাধিকারের পরিবর্তে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই অনুপস্থিত নেতৃত্বের বিকল্প নির্ধারণ করা হবে—এমন ধারণাই তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক স্থাপনা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান, অনেকে গ্রেফতার হন এবং অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ফলে কাগজে-কলমে সাংগঠনিক কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে সেটি কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে দলের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান, ফারুক খান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও কামরুল ইসলামের উদাহরণ দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব নেতারা দলীয় দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নেওয়ার পর গ্রেফতার হন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এর মধ্যেও শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি থেমে যায়নি। তিনি মনে করেন, দলীয় গঠনতন্ত্রে দায়িত্ব পালনের যে ব্যবস্থা রয়েছে, সেটি পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর হতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমাদের কিন্তু একটা নিয়ম চলমান আছে, এখানে কারও কিছু করতে হবে না।’
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শেখ হাসিনা। দলের সভাপতি হিসেবে তিনি শুধু সাংগঠনিক নেতৃত্বই দেননি, সরকারেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দলটি কীভাবে পরিচালিত হবে—এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার কারণে। রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত কাঠামো বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করা সম্ভব, সেটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি মনে করেন, তার অনুপস্থিতিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের শূন্যতা হিসেবে দেখার কারণ নেই।
সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও একই ধরনের ধারাবাহিকতার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক অনুপস্থিত থাকলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন। যদি পরবর্তী দায়িত্বশীল ব্যক্তিও অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সাংগঠনিক কাঠামোর পরবর্তী ব্যক্তি দায়িত্ব নেবেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে নেতৃত্বের দায়িত্ব এক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে থেমে যাওয়ার মতো করে তৈরি হয়নি।
এখানে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম, সম্পাদকমণ্ডলী, উপদেষ্টা পরিষদ এবং বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন—সব মিলিয়ে দলটির সাংগঠনিক পরিসর বড়। এই কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্বের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুধু গঠনতান্ত্রিক নিয়ম থাকলেই একটি রাজনৈতিক দল কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক দল পরিচালনার জন্য শুধু আনুষ্ঠানিক পদ ও দায়িত্ব যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সক্রিয় সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নেতাকর্মীদের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ। আওয়ামী লীগের সামনে বর্তমানে এসব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তারপরও শেখ হাসিনার বক্তব্যে দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বার্তা রয়েছে। তিনি মনে করছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কাঠামো ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; বরং গঠনতান্ত্রিক। সভাপতির অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন—বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই তার দেওয়া সবচেয়ে স্পষ্ট উত্তর।
শেখ ফজলুল করিম সেলিমের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের প্রশ্নে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বর্তমানে দলের জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী তার ওপরই সভাপতির অনুপস্থিতির দায়িত্ব বর্তেছে। তবে এই দায়িত্বের রাজনৈতিক পরিসর কতটা বিস্তৃত এবং বাস্তবে তিনি কীভাবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, তা নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ অবস্থার ওপর।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়—শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে শেখ রেহানাকে সামনে আনেননি। বরং তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার বোন সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। ফলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, অন্তত এই সাক্ষাৎকারে তার কোনো প্রত্যক্ষ সমর্থন পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম ও গঠনতান্ত্রিক কাঠামোকেই নেতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ তাই শুধু কে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—এই একটি প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি কীভাবে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনর্গঠন করবে, নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবে, দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হবে এবং ভবিষ্যতে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য কাউন্সিল কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
বর্তমান অবস্থায় শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তাতে তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালনের জন্য সাংগঠনিকভাবে একজন উত্তরসূরি নির্ধারিত রয়েছে। সেই ব্যক্তি হলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তবে এটি স্থায়ীভাবে শেখ হাসিনার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ঘোষণা নয়; বরং দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনুপস্থিত সভাপতির দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালনের ব্যবস্থা।
রাজনীতির গতিপথ বদলালে এই কাঠামোর প্রয়োগও বদলাতে পারে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হলে সেখানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আবার বর্তমান নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অব্যাহত থাকলে সেই প্রক্রিয়া কতটা সম্ভব হবে, সেটিও অনিশ্চিত। ফলে এখনকার জন্য শেখ হাসিনার বক্তব্যের সবচেয়ে সরল অর্থ হলো—তিনি অনুপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃত্বের জন্য দলের ভেতরে একটি নির্ধারিত ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ শেখ হাসিনা না থাকলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে থাকবেন—এই প্রশ্নের উত্তর তার নিজের ভাষায় স্পষ্ট: বর্তমানে জ্যেষ্ঠতম প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। শেখ রেহানার সরাসরি রাজনীতিতে আসার কোনো ঘোষণা নেই। আর দলের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সাংগঠনিক কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়।
আপনার মতামত জানানঃ