নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘিরে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে পুলিশের বাধায় বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে। ভারতের রাজধানীতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। বক্তাদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় সেটি বাতিল করতে হয়।
ঘটনাটি শুধু একটি সেমিনার বাতিল হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের স্পর্শকাতর বাস্তবতা। বিশেষ করে চলতি মাসের শুরুতে একই সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পরপরই একই ধরনের আরেকটি আয়োজন আটকে যাওয়াকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া বা এফসিসি এই সেমিনারের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’। এফসিসির পাশাপাশি বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ছিল যৌথ আয়োজক। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে যে বক্তাদের নাম ছিল, তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন বাংলাদেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ। তার পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী নূরান নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও রোহিঙ্গা ইউনাইটেড ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সভাপতি রবি আলম এবং ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবালের নামও ছিল।
আলোচকদের তালিকাতেও ছিলেন বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক রাজনীতিবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং এফসিসি-আইএপিসি গ্লোবাল ফোরামের চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণের মতো ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল।
অর্থাৎ এটি কেবল আওয়ামী লীগের কোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সভা ছিল না। আয়োজকদের ঘোষিত বিষয় ছিল ইউরোপ ও এশিয়ার সম্পর্ক এবং অংশীদারত্ব। কিন্তু বক্তা ও আলোচকদের তালিকায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর করে তুলেছিল।
অনুষ্ঠানটি বাতিলের ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্তই ছিল মূল কারণ। এফসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের শেষ মুহূর্তে জানায় যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
এফসিসি বারবার পুলিশের কাছে কারণ জানতে চাইলেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু অনুষ্ঠান বাতিল করেই পুলিশ থেমে থাকেনি; সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং সেখানে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় বলেও এফসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, কোনো অনুষ্ঠানের কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো সময় সেটি বাতিল করার অধিকার রাখে। তবে শনিবারের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঠিক কী ধরনের আশঙ্কা ছিল, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এই জায়গাটিই ঘটনাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ, যদি শুধুই প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে সেটি ব্যাখ্যা করা কঠিন হতো না। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে শেষ মুহূর্তে একটি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং অনুষ্ঠানস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এর পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে আসছে শেখ হাসিনাকে ঘিরে আগের ঘটনাটি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুতির পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির এফসিসি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ঢাকার পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। দুই দেশের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ে।
একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি বর্তমানে অন্য দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গুরুতর অভিযোগ ও আদালতের রায় রয়েছে, তিনি ভারতীয় ভূখণ্ডে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন—এটি বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয় ছিল। বিশেষ করে সেই বক্তব্য যদি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হয়, তাহলে তার কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া আরও গভীর হওয়াই স্বাভাবিক।
এবারের সেমিনারটি সরাসরি শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ছিল না। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। ফলে আগের ঘটনার সঙ্গে এবারের আয়োজনকে মিলিয়ে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
দিল্লি থেকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতার পর হয়তো ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিতে চাইছে না। বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরাও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক মাহফুজুর রহমানের মতে, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ককে আরও তিক্ত করেছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের উদ্বেগকে ভারত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলেই হয়তো তারা নিজেদের দিক থেকে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
এই ব্যাখ্যাটি যদি সঠিক হয়, তাহলে দিল্লির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখা যায়। ভারতের জন্য একদিকে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও কৌশলগত অংশীদার। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও ভারতের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় থাকতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ভারতের সম্পর্ক যখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন দিল্লির মাটিতে এমন কোনো অনুষ্ঠান যাতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়, সেটি ভারত এড়িয়ে চলতে চাইতে পারে।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে পুলিশি সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। যদিও এর অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
এফসিসি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতেও পুলিশের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বন্ধের কারণ জানানো হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পুলিশ অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেয়নি; কিন্তু কেন দেয়নি, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই।
এই অনিশ্চয়তাই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জায়গা তৈরি করেছে।
আওয়ামী লীগের জন্য ঘটনাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশের বাইরে দলটির নেতাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে—এমন ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির এই সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো ধারণাকে অন্তত কিছুটা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে।
এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে ভারত আওয়ামী লীগ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গেছে। আবার এটিও বলা যায় না যে ভারত আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছে। বরং বর্তমান ঘটনাটি থেকে যে বিষয়টি বেশি স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো—দিল্লি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটকে ভারতের মাটিতে প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিতে দিতে চাইছে না।
কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, আর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এই অবস্থায় দিল্লিতে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হলে তা ঢাকায় নতুন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
একই সঙ্গে ভারতের জন্যও বিষয়টি নিরাপত্তা ও কূটনীতির প্রশ্ন। কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পাল্টা বিক্ষোভ বা সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে পুলিশ সেটি বন্ধ করতে পারে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্যও মূলত সেই সম্ভাবনার কথাই বলছে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যদি নিরাপত্তাই প্রধান কারণ হয়ে থাকে, তাহলে অনুষ্ঠানটির আয়োজকদের তা স্পষ্টভাবে জানানো হলো না কেন? আর যদি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় থাকে, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে না কেন?
সম্ভবত এখানেই ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংবেদনশীল প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সময় বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন বা বিরোধিতা করার প্রয়োজন হয় না, আবার সম্ভাব্য কূটনৈতিক ক্ষতিও এড়ানো যায়।
দিল্লির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতেও নানা বার্তা দিতে পারে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে এটি ভারতের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে এটি তাদের উদ্বেগকে ভারত কিছুটা গুরুত্ব দিচ্ছে—এমন ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এটি কি সাময়িক সিদ্ধান্ত, নাকি দিল্লির নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
একটি অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার ঘটনা দিয়ে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। সামনে ভারত আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্য কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় কি না, শেখ হাসিনার বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কী ধরনের অবস্থান নেয় এবং ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোন পথে এগোয়—এসবই বিষয়টির প্রকৃত অর্থ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা, কারণ দুই দেশের সম্পর্ক এখন একই সঙ্গে নিরাপত্তা, সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো একাধিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দিল্লিতে একটি সেমিনার বাতিলের মতো ঘটনাও কেবল একটি অনুষ্ঠান বাতিল হিসেবে দেখা কঠিন।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো—আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে নয়াদিল্লিতে একটি সেমিনার হওয়ার কথা ছিল, শেষ মুহূর্তে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি, অনুষ্ঠানস্থলে পুলিশ মোতায়েন ও ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল এবং আয়োজকদের কাছে বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এর বাইরে দিল্লির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নির্দেশের বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
তবু ঘটনাটি একটি বড় বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে ঢাকা-দিল্লির যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এখন ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও প্রভাব ফেলছে কি না—সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আর যদি সত্যিই দিল্লি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি সেমিনার বাতিলের ঘটনা নয়। এটি হতে পারে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ভারতের নীতিরও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
আপনার মতামত জানানঃ