একটি সংবাদ সম্মেলন। সামনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। হাতে মাইক্রোফোন। সাংবাদিকের কাজ প্রশ্ন করা, আর সরকারের দায়িত্ব সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। কিন্তু প্রশ্নটি যদি অস্বস্তিকর হয়? যদি সেই প্রশ্নে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত, নীতি কিংবা কর্মকাণ্ড নিয়ে জবাবদিহির প্রসঙ্গ উঠে আসে? তখন একজন সাংবাদিকের জন্য সেই প্রশ্ন করার মূল্য কতটা হতে পারে—বাংলাদেশে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে সেই প্রশ্ন।
চ্যানেল ওয়ানের জ্যেষ্ঠ সম্প্রচার সাংবাদিক হাবিব রহমানের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিষয়টিই। ১ সেপ্টেম্বর প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট বা পিআইডি তার প্রেস কার্ড বাতিল করে। সিদ্ধান্তের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকের কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ, আচরণবিধি লঙ্ঘন কিংবা অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ভঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনাটির সময়কালও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ক্ষমতায় থাকার প্রথম ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবিব রহমান কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন করেছিলেন। প্রশ্নগুলোর একটি ছিল স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই কেন—তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে সরকার দলীয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছিল।
এর বাইরে পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন রহমান। গাজীপুরের একটি বনের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এমন একটি প্রকল্পের সামঞ্জস্য কীভাবে তৈরি হয়।
একজন সাংবাদিকের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংবাদমাধ্যমের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়া সাংবাদিকতার স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের এক বা দুই দিন পর হাবিব রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের একজন কর্মকর্তার যোগাযোগের ঘটনা পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা তার প্রশ্ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলা হয়, তার প্রশ্নগুলো “স্বাভাবিকভাবে” নেওয়া হয়নি। তাকে সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ করা হয়। এমনকি প্রশ্ন করার জন্য তাকে মাইক্রোফোন দেওয়া হয়েছিল কেন—সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
রহমানের জবাব ছিল সরল। প্রশ্ন করার জায়গায় তিনি প্রশ্ন করেছেন। আর উত্তর দেওয়া হবে কি না, সেটি সরকারের দায়িত্ব।
এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর তার প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্ন এবং তার পরবর্তী সময়ে প্রেস কার্ড বাতিলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না।
এখানেই ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিষয়টি সাংবাদিকদের সরকারি অনুষ্ঠান কাভারের অধিকার, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং সরকারের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ জানিয়েছেন, হাবিব রহমানই তাদের একমাত্র সাংবাদিক, যিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম কাভার করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংগ্রহ করেন। তার প্রেস কার্ড বাতিল হওয়ার ফলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সংগ্রহে চ্যানেল ওয়ান সমস্যার মুখে পড়েছে।
তার বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সাংবাদিক কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে সাধারণত তাকে সতর্ক করা, ব্যাখ্যা চাওয়া কিংবা সাময়িকভাবে অ্যাক্রেডিটেশন স্থগিত করার মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। কিন্তু হাবিব রহমানের ক্ষেত্রে কী অপরাধ বা ভুল হয়েছে, সেটিই জানানো হয়নি।
এই জায়গাটিই সাংবাদিক অধিকারকর্মীদের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে। মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের সাংবাদিক অধিকারকর্মী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সদস্য জিমি আমির বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতে পারে যে সরকারের সমালোচনা বা অস্বস্তিকর প্রশ্ন করার কারণেই সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে।
সরকারি পক্ষের অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। পিআইডির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে নির্দেশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ ফোনে যোগাযোগের সময় বৈঠকে থাকার কথা জানিয়েছেন। পরে লিখিতভাবে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, প্রেস কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এই মৌলিক প্রশ্নের প্রকাশ্য কোনো উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে চ্যানেল ওয়ানের সাম্প্রতিক কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। চ্যানেল ওয়ান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। তার পরিবারের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি চুক্তির সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এ ছাড়া একটি স্থগিত প্রকল্প পরিচালকের পুনর্বহাল নিয়েও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চ্যানেলটি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রতিবেদন কিংবা হাবিব রহমানের করা প্রশ্নের সঙ্গে তার প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো অভিযোগ কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যে করেননি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই। কিন্তু কারণ ব্যাখ্যা না করায় সন্দেহ ও প্রশ্নের জায়গাটি থেকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন সরকারের আমলেই সরকারি অনুষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কার্যক্রম কাভারের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিকদের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও ২০২৪ সালে ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করে সমালোচনার মুখে পড়ে। সে সময়ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক কারণ প্রকাশ না করায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে এবং সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা self-censorship বাড়াতে পারে।
এই ইতিহাসের কারণেই বর্তমান ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার পাশাপাশি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও দেখা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যদি একইভাবে ফিরে আসে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—শুধু সরকার বদলালেই কি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন বদলায়?
আর এই প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপির পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিও।
ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপির নেতারা স্বাধীন ও সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে লন্ডন থেকে দেওয়া এক অনলাইন বক্তব্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি সরকার সংবাদমাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য প্রকাশে চাপ দেবে না এবং সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সত্য গোপন করতেও বাধ্য করবে না।
পরের বছর, ২৪ নভেম্বর, তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব এবং বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে রয়েছে।
এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটিকে পাশাপাশি রেখে দেখছেন সাংবাদিক অধিকারকর্মীরা। কারণ একটি সরকারের সংবাদমাধ্যম নীতি শুধু বড় কোনো আইন বা নীতিমালার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না; অনেক সময় একজন সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, তার প্রশ্নের পর তাকে কীভাবে আচরণ করা হচ্ছে এবং সরকারি অনুষ্ঠানে তার প্রবেশাধিকার বজায় থাকছে কি না—এসব ছোট ছোট ঘটনাতেও সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন একটি প্রশাসনিক অনুমোদন হলেও সাংবাদিকদের জন্য এটি বাস্তব সংবাদ সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্রিফিং কাভারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রবেশাধিকার না থাকলে একজন প্রতিবেদকের কাজ কঠিন হয়ে যায়। একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট বিটের একমাত্র সাংবাদিকের কার্ড বাতিল হলে তার প্রভাব শুধু ওই সাংবাদিকের ওপর নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের সংবাদ কাভারের ওপর পড়তে পারে।
তবে এখানেও একটি ভারসাম্যের বিষয় রয়েছে। কোনো সাংবাদিক যদি সত্যিই অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ভঙ্গ করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেন কিংবা গুরুতর কোনো পেশাগত অপরাধ করেন, তাহলে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকা স্বাভাবিক। প্রশ্নটি তখন দাঁড়ায়—কী কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হলো এবং সেই কারণটি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে জানানো হয়েছে কি না।
হাবিব রহমানের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—তার প্রেস কার্ড বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু কেন করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই হাবিব রহমানের নিজের বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানতে চান, তার অপরাধ কী। তিনি কি রাষ্ট্রদ্রোহ করেছেন? তিনি কি সরকারের জন্য হুমকি? যদি তা না হয়, তাহলে তার প্রেস কার্ড বাতিলের কারণ কী?
একজন সাংবাদিকের এই প্রশ্ন আসলে বৃহত্তর একটি প্রশ্নের দিকে নিয়ে যায়—সরকারের কাছে প্রশ্ন করার অধিকার কোথায় শেষ হয় এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা কোথা থেকে শুরু হয়?
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা শুধু সরকারের বক্তব্য প্রচার করা নয়। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা, অসঙ্গতি খুঁজে বের করা, ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনা সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও তথ্য যাচাই, পেশাগত নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার সীমা মেনে চলতে হয়।
তাই কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্বচ্ছতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তি প্রকাশ করা—এসবই একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ার অংশ।
হাবিব রহমানের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সেই ব্যাখ্যাটি অনুপস্থিত। ফলে ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের প্রেস কার্ড বাতিলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে থেমে নেই; এটি সাংবাদিকরা কতটা স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে পারবেন এবং সরকারের কাছে অস্বস্তিকর প্রশ্ন করলে তাদের কাজের পরিবেশ কতটা নিরাপদ থাকবে—সেই বৃহত্তর প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই ঘটনার উত্তর শুধু হাবিব রহমানের জন্য নয়, দেশের সংবাদমাধ্যমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা মাইক্রোফোন কেবল তার ব্যক্তিগত পেশার প্রতীক নয়; সেটি অনেক সময় নাগরিকের পক্ষ থেকে ক্ষমতাবানদের কাছে করা প্রশ্নের মাধ্যম।
সেই প্রশ্নের উত্তর সরকার দেবে কি না, সেটি সরকারের বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন করার সুযোগটি থাকবে কি না—সেটিই এখন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আপনার মতামত জানানঃ