Author: অর্থনীতি ডেস্ক

বিদেশি বিনিয়োগের খবর সাধারণত আসে বড় অঙ্ক নিয়ে। কত বিলিয়ন ডলার আসবে, কতটি চুক্তি হবে, কোন সফরে ঘোষণা আসতে পারে—এসবই শিরোনাম হয়। অথচ চাকরিপ্রার্থী তরুণের প্রশ্ন অন্য জায়গায়: কারখানাটি কোথায় হবে, কবে চালু হবে, সেখানে কী দক্ষতা লাগবে এবং বেতন কত পাওয়া যাবে? বাংলাদেশের সামনে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাকে বিচার করতে হলে এই দুই ধরনের প্রশ্নকে একসঙ্গে আনতে হবে। ২২ অক্টোবর নিক্কেইয়ের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন, প্রতিবেদনের তৎকালীন বিনিময় হারে প্রায় ৬.৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। তবে রয়টার্স নিক্কেইয়ের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে। অর্থাৎ এটি…

Read More

পাটের সংকট নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা প্রায়ই দুটি জায়গায় আটকে যায়—হারানো ‘সোনালি দিন’ ফিরিয়ে আনার আবেগ এবং ভারতের বাজারে প্রবেশের বাধা। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই দুই বৃত্তের বাইরে না গেলে ভবিষ্যতের শিল্পনীতি তৈরি হয় না। পাটকে কোথায়, কী পণ্যে, কোন দামে এবং কার কাছে বিক্রি করতে চাই—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে জরুরি। শিরোনামের প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর হলো: বাংলাদেশের পাটের বাজার শুধু ভারত নয়। তুরস্ক, চীন, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়। তাই নতুন পথ একেবারেই তৈরি হয়নি বলা ভুল। সমস্যা হলো, বিদ্যমান পথগুলোকে কতটা বড়, স্থায়ী ও লাভজনক করা যাচ্ছে। ভারতের শুল্ক ও প্রবেশপথের বিধিনিষেধ বাস্তব সমস্যা। তবে সেই বাধা…

Read More

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ নিয়ে একসময় সবচেয়ে জোরালো ছিল অর্জনের ভাষা। এখন সামনে এসেছে প্রস্তুতির প্রশ্ন। সরকার আরও তিন বছর সময় চাইছে। এই পরিবর্তনকে কেবল জাতীয় মর্যাদার উত্থান-পতন হিসেবে দেখলে অর্থনৈতিক বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যাবে। আবার বাড়তি সময়ের আবেদনকে সাফল্য হিসেবে উদ্‌যাপন করলেও জিজ্ঞাসাটি থেকে যায়: এতদিন যে প্রস্তুতি হওয়ার কথা ছিল, তা কতটা হয়েছে? ১৯ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির অক্টোবরের মধ্যেই স্থগিতের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের আশা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রস্তুতির ঘাটতির স্বীকৃতি রয়েছে। সরকার বাড়তি সময় কাজে লাগাতে কর্মপরিকল্পনার কথাও বলেছে। তবে প্রত্যাশা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। জাতিসংঘের এলডিসি পোর্টালের বর্তমান তথ্যে বাংলাদেশের নির্ধারিত উত্তরণের তারিখ এখনো…

Read More

সংকটে ঋণ নেওয়া কোনো রাষ্ট্রের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখনই, যখন নতুন অর্থের প্রয়োজন বারবার ফিরে আসে, অথচ যে দুর্বলতা সেই প্রয়োজন তৈরি করে তা বদলায় না। বাংলাদেশ আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করছে—এই খবর তাই কেবল ডলারের জোগান বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিশ্বাসযোগ্যতা, সংস্কারের রাজনৈতিক সাহস এবং সংকটের খরচ বণ্টনেরও পরীক্ষা। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে নতুন করে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, ঋণের অঙ্ক ও কিস্তির বিবরণ আলোচনা এবং আইএমএফ বোর্ডের পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ফলে…

Read More

একটি ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষা করলে শুধু পণ্য আটকে থাকে না। আটকে থাকে একজন চালকের পরবর্তী যাত্রা, একজন ব্যবসায়ীর পাওনা, একটি প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ এবং কখনো একজন শ্রমিকের পরের দিনের কাজ। কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যখন বাণিজ্যের নিয়মে প্রবেশ করে, তার মূল্য তাই শুধু রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় জমা হয় না। সেই মূল্য ছড়িয়ে পড়ে মানুষের জীবিকার মধ্যে। ঢাকা ও দিল্লির বাণিজ্য আলোচনায় বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত জাগোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ কর্মদলের বৈঠকে বাংলাদেশ এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। পণ্যের মানের সমন্বয়, স্থল শুল্কস্টেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজ করা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বাধাও আলোচনায় এসেছে। তবে আলোচনায় দাবি ওঠা…

Read More

একটি বন্দরে যখন বড় জাহাজ ভেড়ে, রাষ্ট্র তার সক্ষমতার ছবি দেখাতে পারে। কিন্তু সেই ছবির বাইরে আরও কিছু প্রশ্ন থাকে। বন্দরের শ্রমিকের মজুরি কি বাড়ছে? ছোট রপ্তানিকারক কি কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারছেন? উপকূলের জেলে কি আগের মতো সাগরে যেতে পারছেন? আর আমদানির ব্যয় কমলে সাধারণ মানুষের বাজারখরচে তার প্রভাব পড়ছে কি? বাংলাদেশের সমুদ্রকেন্দ্রিক উন্নয়নের সাফল্য শেষ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে। ৩ অক্টোবর ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গোপসাগরকে যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের…

Read More

বিশ্বব্যবস্থা বদলানোর কথা বহুদিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু পরিবর্তনটি এখন আর শুধু কূটনৈতিক বক্তৃতা বা সম্মেলনের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নেই। বাণিজ্যপথ, জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তির মানদণ্ড, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের পদ্ধতি—সব ক্ষেত্রেই পুরোনো কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নতুন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান মঞ্চগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ব্রিকস। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সেই রূপান্তরকে আরও স্পষ্ট করেছে। সম্প্রসারিত জোট এখন ১১টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে একত্র করেছে। ব্রিকসের সরকারি হিসাবে সদস্যদেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এবারের দিল্লি ঘোষণায় স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক চিত্র যেন একই ফ্রেমে ধরা দুটি বিপরীত দৃশ্য। একদিকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসছে রেকর্ড পরিমাণে। ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা কমছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ভরসা দিচ্ছে প্রবাসীদের আয়। অন্যদিকে দেশের ভেতরে প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি মানুষের সংসারের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রের বৈদেশিক লেনদেনের খাতায় স্বস্তির যে রেখা দেখা যাচ্ছে, রান্নাঘরের বাজার কিংবা মাসশেষের হিসাবখাতায় তার প্রতিফলন খুব সামান্য। আগস্টের প্রথম ২৬ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টাকার অবমূল্যায়ন, বৈধ চ্যানেলে পাঠানো অর্থের তুলনামূলক ভালো দর, নগদ প্রণোদনা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স এখন সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক বৈদেশিক মুদ্রার উৎসগুলোর একটি। প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার প্রবাহ বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালেই তৈরি হয়েছে আরেকটি অস্বস্তিকর হিসাব। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বিপরীতে সরকার যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতি করেছে, সেই অর্থ ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করলেও সরকারের কাছ থেকে তার পুরো অর্থ সময়মতো ফেরত পাচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলোর পাওনা এখন ৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি। প্রশ্নটি তাই শুধু একটি সরকারি বিল বকেয়া থাকার নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ভর করে সরকার রেমিট্যান্সের অর্থ…

Read More

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের হিসাবে জুলাই মাসটি শুরু হয়েছে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য দিয়ে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ছাড় হয়েছে ১৮ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অথচ একই সময়ে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সহজ হিসাবে, প্রাপ্ত প্রতি এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ২.৫২ ডলার ফেরত গেছে। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে ঋণ ছাড় হয়েছিল ২০ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এবার ছাড় কমেছে ১৩.৩৯ শতাংশ। বিপরীতে ঋণ পরিশোধ ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৫ কোটি…

Read More