Author: অর্থনীতি ডেস্ক

সকালবেলা শ্রমিকেরা যথারীতি কারখানায় আসছেন। হাজিরা দিচ্ছেন, পোশাক বদলাচ্ছেন, উৎপাদনলাইনের সামনে বসছেন। কিন্তু মেশিন চলছে না। বয়লার গরম হচ্ছে না, ডায়িং ইউনিটে কাপড় ঢুকছে না, স্পিনিং মেশিনের বড় অংশ বন্ধ। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাউকে maintenance-এর কাজে লাগানো হচ্ছে, কাউকে বলা হচ্ছে দুপুরেই বাড়ি চলে যেতে। কাগজে তাঁদের চাকরি এখনো আছে। কিন্তু কাজ নেই, ওভারটাইম নেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো দিনের আয় নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট এতদিন মূলত উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও বিনিয়োগের সমস্যা হিসেবে আলোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সংকটটি এখন সরাসরি শ্রমবাজারের দরজায় পৌঁছেছে। কারখানা সাময়িক বন্ধ হওয়া এখনো সর্বত্র স্থায়ী ছাঁটাইয়ে পরিণত হয়নি; কিন্তু শিফট…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ তৈরি পোশাকশিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা আয়, শিল্প কর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ কিংবা গ্রাম থেকে শহরে শ্রমের স্থানান্তর—সব ক্ষেত্রেই গত চার দশকে এই শিল্পের প্রভাব গভীর। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির যে চিত্র সামনে এসেছে, তা এই দীর্ঘদিনের সাফল্যের ভিত নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি…

Read More

অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে সরকার একযোগে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩২০টি আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু করেছে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। চার বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রবীণ শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু ঘোষণাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—সরকার হঠাৎ এত অর্থ পাচ্ছে কোথায়? একই সময়ে দুর্বল ব্যাংকে মূলধন দেওয়া হচ্ছে, শিল্প খাতে বড় পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি ও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে এবং সরকারি বাজেটও সম্প্রসারিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। কর আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে, ব্যবসা ও বিনিয়োগও প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। রাজস্ব…

Read More

বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা কোনো পণ্য কি সত্যিই বাংলাদেশে তৈরি, নাকি চীনা পণ্য সামান্য প্রক্রিয়াজাত বা নতুন মোড়ক নিয়ে বাংলাদেশের নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে? এই প্রশ্ন তুলেছে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রতিবেদন “দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম”। প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ৪০টির বেশি দেশকে চীনা পণ্যের সম্ভাব্য অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট বা তৃতীয় দেশ ঘুরিয়ে শুল্ক ফাঁকির নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্রগুলোর কাতারে রাখা হয়নি। বরং ‘টিয়ার থ্রি’ বা তৃতীয় স্তরের দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেসব ছোট অর্থনীতি কম খরচের শ্রম, বন্দর, বন্ডেড গুদাম, সীমিত কাস্টমস সক্ষমতা কিংবা মার্কিন বাজারে তুলনামূলক সুবিধাজনক প্রবেশাধিকারের কারণে চীনা রপ্তানিকারকদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিবেদনটি…

Read More

আগস্টের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪২ শতাংশ। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগস্টে রেমিট্যান্স ৪০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে—যা দেশের ইতিহাসে এক মাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। আমদানি দায় পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ব্যাংক খাতে ডলারের দর কিছুটা নেমেছে। কিন্তু খোলাবাজারে ডলার এখনো ব্যয়বহুল এবং ব্যাংক ও খোলাবাজারের দরের ব্যবধান পুরোপুরি দূর হয়নি। bdnews24.com সংবাদটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক। বেশি রেমিট্যান্স মানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি, রিজার্ভ গঠনের সুযোগ, আমদানি দায় পরিশোধে সক্ষমতা এবং টাকার বিনিময় হারের…

Read More

মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে নোঙর করা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগল। ক্ষতিগ্রস্ত হলো বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক কেবল। টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেল। কিছুদিনের মধ্যেই শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ নেমে এলো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলো, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হলো এবং বহু কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেল কিংবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। ঘটনাটি প্রশ্ন তুলেছে—মাত্র একটি টার্মিনালের দুর্ঘটনায় কেন প্রায় পুরো দেশের শিল্পব্যবস্থা এতটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে? এর সহজ উত্তর হলো, বাংলাদেশ শুধু গ্যাসসংকটে নেই; দেশটি এমন একটি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে যেখানে বড় কোনো যন্ত্র,…

Read More

বাংলাদেশের পাঁচটি বিপর্যস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। নতুন ব্যাংকটিকে সচল রাখতে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। অথচ যাদের আমানত ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর ব্যবসা করেছে, সেই আমানতকারীদেরই এখন নিজের টাকা তুলতে নানা শর্ত মানতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত হয়েছিল, যা রেজল্যুশনের আওতায় যাওয়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার পথ খুলে দিয়েছিল। প্রবল সমালোচনার মুখে সরকার ধারাটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণার এক মাসের বেশি সময় পরও সরকারি বাংলাদেশ কোডে ধারাটি দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের ব্যাংক সংস্কার নিয়ে মূল প্রশ্নটি আর শুধু অর্থের নয়—এই সংস্কারের নিয়ন্ত্রণ…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে—সরকারি বক্তব্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এমন একটি আশাবাদের ভিত্তি আছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমেছে, বিনিময় হার আগের তুলনায় স্থিতিশীল এবং বহিঃখাতের ভারসাম্যও উন্নতির দিকে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর একটি নির্বাচিত সরকার, নতুন বাজেট এবং মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আস্থা ফেরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর সরকারি সংজ্ঞা আর একটি নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিজ্ঞতা এক নয়। রাষ্ট্র ডলারের রিজার্ভ দিয়ে স্থিতিশীলতা মাপে; পরিবার মাপে চাল, ডাল, ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ দিয়ে। সরকার প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স দেখে; শ্রমজীবী মানুষ দেখেন মাস শেষে হাতে কত টাকা থাকছে। এই দুই…

Read More

ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে, কিন্তু তার অর্থনৈতিক মূল্য বাংলাদেশকেও দিতে হতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে থাকার পরও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ, বৈদেশিক মুদ্রা, প্রবাসী আয়, শিল্পোৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজার মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে এত নিবিড়ভাবে যুক্ত যে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে একসঙ্গে একাধিক ধাক্কা দিতে পারে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্ক—SANEM-এর একটি নীতি-সমীক্ষায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত পতনের পূর্বাভাস নয়; জ্বালানির দাম, রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও বিনিয়োগ—একাধিক প্রতিকূলতা একসঙ্গে দেখা দিলে কী ঘটতে পারে, তার একটি ঝুঁকিভিত্তিক হিসাব।…

Read More

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা S&P Global Ratings বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে। তবে এখানে শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন—বাংলাদেশের ঋণমান এখনই কমানো হয়নি। সংস্থাটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণমান ‘B+’ এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণমান ‘B’ অপরিবর্তিত রেখেছে। বদলেছে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন। অর্থাৎ বর্তমান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরবর্তী ধাপে প্রকৃত ঋণমান কমে যেতে পারে। ২৭ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত মূল্যায়নে S&P দুর্বল ব্যাংক খাত, সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বহির্বিশ্বের প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। S&P Global Ratings এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক বিপর্যয়ের ঘোষণা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। তবে এটিকে…

Read More