Author: অর্থনীতি ডেস্ক

একটি ট্রাক সীমান্তে অপেক্ষা করলে শুধু পণ্য আটকে থাকে না। আটকে থাকে একজন চালকের পরবর্তী যাত্রা, একজন ব্যবসায়ীর পাওনা, একটি প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ এবং কখনো একজন শ্রমিকের পরের দিনের কাজ। কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যখন বাণিজ্যের নিয়মে প্রবেশ করে, তার মূল্য তাই শুধু রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় জমা হয় না। সেই মূল্য ছড়িয়ে পড়ে মানুষের জীবিকার মধ্যে। ঢাকা ও দিল্লির বাণিজ্য আলোচনায় বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত জাগোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ কর্মদলের বৈঠকে বাংলাদেশ এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। পণ্যের মানের সমন্বয়, স্থল শুল্কস্টেশনের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজ করা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বাধাও আলোচনায় এসেছে। তবে আলোচনায় দাবি ওঠা…

Read More

একটি বন্দরে যখন বড় জাহাজ ভেড়ে, রাষ্ট্র তার সক্ষমতার ছবি দেখাতে পারে। কিন্তু সেই ছবির বাইরে আরও কিছু প্রশ্ন থাকে। বন্দরের শ্রমিকের মজুরি কি বাড়ছে? ছোট রপ্তানিকারক কি কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারছেন? উপকূলের জেলে কি আগের মতো সাগরে যেতে পারছেন? আর আমদানির ব্যয় কমলে সাধারণ মানুষের বাজারখরচে তার প্রভাব পড়ছে কি? বাংলাদেশের সমুদ্রকেন্দ্রিক উন্নয়নের সাফল্য শেষ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে। ৩ অক্টোবর ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গোপসাগরকে যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের…

Read More

বিশ্বব্যবস্থা বদলানোর কথা বহুদিন ধরেই বলা হচ্ছে। কিন্তু পরিবর্তনটি এখন আর শুধু কূটনৈতিক বক্তৃতা বা সম্মেলনের ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নেই। বাণিজ্যপথ, জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তির মানদণ্ড, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের পদ্ধতি—সব ক্ষেত্রেই পুরোনো কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নতুন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান মঞ্চগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ব্রিকস। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সেই রূপান্তরকে আরও স্পষ্ট করেছে। সম্প্রসারিত জোট এখন ১১টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে একত্র করেছে। ব্রিকসের সরকারি হিসাবে সদস্যদেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এবারের দিল্লি ঘোষণায় স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক চিত্র যেন একই ফ্রেমে ধরা দুটি বিপরীত দৃশ্য। একদিকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসছে রেকর্ড পরিমাণে। ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা কমছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে ভরসা দিচ্ছে প্রবাসীদের আয়। অন্যদিকে দেশের ভেতরে প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি মানুষের সংসারের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রের বৈদেশিক লেনদেনের খাতায় স্বস্তির যে রেখা দেখা যাচ্ছে, রান্নাঘরের বাজার কিংবা মাসশেষের হিসাবখাতায় তার প্রতিফলন খুব সামান্য। আগস্টের প্রথম ২৬ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টাকার অবমূল্যায়ন, বৈধ চ্যানেলে পাঠানো অর্থের তুলনামূলক ভালো দর, নগদ প্রণোদনা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স এখন সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক বৈদেশিক মুদ্রার উৎসগুলোর একটি। প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার প্রবাহ বাড়ছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালেই তৈরি হয়েছে আরেকটি অস্বস্তিকর হিসাব। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বিপরীতে সরকার যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতি করেছে, সেই অর্থ ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করলেও সরকারের কাছ থেকে তার পুরো অর্থ সময়মতো ফেরত পাচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলোর পাওনা এখন ৮ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি। প্রশ্নটি তাই শুধু একটি সরকারি বিল বকেয়া থাকার নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর ভর করে সরকার রেমিট্যান্সের অর্থ…

Read More

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের হিসাবে জুলাই মাসটি শুরু হয়েছে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য দিয়ে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ছাড় হয়েছে ১৮ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অথচ একই সময়ে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সহজ হিসাবে, প্রাপ্ত প্রতি এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ২.৫২ ডলার ফেরত গেছে। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে ঋণ ছাড় হয়েছিল ২০ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এবার ছাড় কমেছে ১৩.৩৯ শতাংশ। বিপরীতে ঋণ পরিশোধ ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৫ কোটি…

Read More

সকালবেলা শ্রমিকেরা যথারীতি কারখানায় আসছেন। হাজিরা দিচ্ছেন, পোশাক বদলাচ্ছেন, উৎপাদনলাইনের সামনে বসছেন। কিন্তু মেশিন চলছে না। বয়লার গরম হচ্ছে না, ডায়িং ইউনিটে কাপড় ঢুকছে না, স্পিনিং মেশিনের বড় অংশ বন্ধ। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাউকে maintenance-এর কাজে লাগানো হচ্ছে, কাউকে বলা হচ্ছে দুপুরেই বাড়ি চলে যেতে। কাগজে তাঁদের চাকরি এখনো আছে। কিন্তু কাজ নেই, ওভারটাইম নেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো দিনের আয় নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট এতদিন মূলত উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও বিনিয়োগের সমস্যা হিসেবে আলোচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সংকটটি এখন সরাসরি শ্রমবাজারের দরজায় পৌঁছেছে। কারখানা সাময়িক বন্ধ হওয়া এখনো সর্বত্র স্থায়ী ছাঁটাইয়ে পরিণত হয়নি; কিন্তু শিফট…

Read More

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ তৈরি পোশাকশিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা আয়, শিল্প কর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ কিংবা গ্রাম থেকে শহরে শ্রমের স্থানান্তর—সব ক্ষেত্রেই গত চার দশকে এই শিল্পের প্রভাব গভীর। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির যে চিত্র সামনে এসেছে, তা এই দীর্ঘদিনের সাফল্যের ভিত নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে নেমেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি…

Read More

অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে সরকার একযোগে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩২০টি আবেদন নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু করেছে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। চার বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রবীণ শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু ঘোষণাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—সরকার হঠাৎ এত অর্থ পাচ্ছে কোথায়? একই সময়ে দুর্বল ব্যাংকে মূলধন দেওয়া হচ্ছে, শিল্প খাতে বড় পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকি ও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে এবং সরকারি বাজেটও সম্প্রসারিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। কর আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে, ব্যবসা ও বিনিয়োগও প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। রাজস্ব…

Read More

বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা কোনো পণ্য কি সত্যিই বাংলাদেশে তৈরি, নাকি চীনা পণ্য সামান্য প্রক্রিয়াজাত বা নতুন মোড়ক নিয়ে বাংলাদেশের নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে? এই প্রশ্ন তুলেছে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রতিবেদন “দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম”। প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ৪০টির বেশি দেশকে চীনা পণ্যের সম্ভাব্য অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট বা তৃতীয় দেশ ঘুরিয়ে শুল্ক ফাঁকির নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্রগুলোর কাতারে রাখা হয়নি। বরং ‘টিয়ার থ্রি’ বা তৃতীয় স্তরের দেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেসব ছোট অর্থনীতি কম খরচের শ্রম, বন্দর, বন্ডেড গুদাম, সীমিত কাস্টমস সক্ষমতা কিংবা মার্কিন বাজারে তুলনামূলক সুবিধাজনক প্রবেশাধিকারের কারণে চীনা রপ্তানিকারকদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিবেদনটি…

Read More