
আগস্টের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪২ শতাংশ। এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে আগস্টে রেমিট্যান্স ৪০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে—যা দেশের ইতিহাসে এক মাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। আমদানি দায় পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় ব্যাংক খাতে ডলারের দর কিছুটা নেমেছে। কিন্তু খোলাবাজারে ডলার এখনো ব্যয়বহুল এবং ব্যাংক ও খোলাবাজারের দরের ব্যবধান পুরোপুরি দূর হয়নি। bdnews24.com
সংবাদটি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক। বেশি রেমিট্যান্স মানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি, রিজার্ভ গঠনের সুযোগ, আমদানি দায় পরিশোধে সক্ষমতা এবং টাকার বিনিময় হারের ওপর চাপ কমা।
কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা অন্য রকম। ডলারের বাজারে স্বস্তির খবর এলেও চাল, ডাল, তেল, সবজি, ওষুধ, পরিবহন, বাড়িভাড়া কিংবা শিক্ষা ব্যয়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং বহু পরিবারের কাছে বাজারে যাওয়া এখনো প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ।
তাহলে প্রশ্ন হলো, রেমিট্যান্সের জোয়ার এবং ডলারের দর কমার সুফল কোথায় যাচ্ছে? বাজারদর কমছে না কেন?
মূল্যস্ফীতি কমা আর পণ্যের দাম কমা এক নয়
প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ সাধারণত পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ, দাম আগের তুলনায় কিছুটা ধীর গতিতে বাড়ছে।
ধরা যাক, একটি পণ্যের দাম গত বছর ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা হয়েছিল। পরের বছর মূল্যস্ফীতি কমলেও দাম যদি ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে—কিন্তু পণ্যটি সস্তা হয়নি। ভোক্তাকে আগের চেয়ে বেশি দামই দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯.৪২ শতাংশ থেকে কমে ৯.১৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৬ শতাংশ থেকে কমে ৮.৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৭১ শতাংশ থেকে ৯.৬১ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের ওপরে—অর্থাৎ দাম কমেনি, বরং উচ্চ ভিত্তির ওপর আরও বেড়েছে। The Daily Star
২০২৫–২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৬৮ শতাংশ। এটি আগের অর্থবছরের ১০.০৩ শতাংশের চেয়ে কম হলেও টানা চার অর্থবছর গড় মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে ছিল। ফলে কয়েক বছরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যে স্তরে পৌঁছেছে, মূল্যস্ফীতির সামান্য হ্রাস সেই ক্ষতি ফিরিয়ে দিতে পারছে না। The Business Standard
বিশেষ করে যেসব মানুষের আয় গত কয়েক বছরে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি, তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা স্থায়ীভাবে কমে গেছে।
ডলারের আজকের দর, বাজারে পুরোনো খরচ
ডলারের দর কমলেই আমদানি করা পণ্যের খুচরা মূল্য পরদিন কমে যায় না। আমদানিকারক যে পণ্য এখন বিক্রি করছেন, সেটির ঋণপত্র বা এলসি হয়তো কয়েক মাস আগে আরও বেশি ডলারের দরে খোলা হয়েছিল। সেই পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে পুরোনো বিনিময় হার, পরিবহন খরচ, ব্যাংক চার্জ ও সুদের ভিত্তিতে।
একটি আমদানি আদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন, জাহাজীকরণ, বন্দরে পৌঁছানো, খালাস এবং পাইকারি বাজার হয়ে দোকানে আসতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে বর্তমান ডলারদরের পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পৌঁছাতে স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগে।
তার ওপর ব্যাংকগুলো সব আমদানিকারককে একই দরে ডলার দেয় না। আন্তব্যাংক বাজারে ঘোষিত দর তুলনামূলকভাবে কম হলেও রেমিট্যান্স ডলার সংগ্রহ, এলসি নিষ্পত্তি এবং অন্যান্য চার্জসহ আমদানিকারকের কার্যকর ব্যয় বেশি হতে পারে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তব্যাংক ও রেমিট্যান্সের ডলার ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে না কেনার অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকাররা জানিয়েছিলেন, অনেক ক্ষেত্রে ১২৩ টাকা ৯০–৯৫ পয়সার নিচে রেমিট্যান্স ডলার পাওয়া যাচ্ছিল না। The Business Standard
অর্থাৎ সংবাদে যে ডলারদর দেখা যায় এবং একজন আমদানিকারকের প্রকৃত ডলার সংগ্রহের ব্যয়—দুটির মধ্যে ব্যবধান থাকতে পারে।
দাম বাড়ে দ্রুত, কমে ধীরে
বাজার অর্থনীতিতে একটি পরিচিত প্রবণতা হলো—খরচ বাড়লে ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্যের দাম বাড়ান, কিন্তু খরচ কমলে একই গতিতে দাম কমান না।
ডলারের দর বেড়েছে, জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে—এমন সংবাদ এলেই নতুন পণ্য বাজারে আসার আগেও খুচরা মূল্য বাড়তে দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ আমদানি ব্যয়, ঝুঁকি এবং পণ্য পুনরায় সংগ্রহের সম্ভাব্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানোর যুক্তি দেন।
কিন্তু ডলারের দর বা আন্তর্জাতিক মূল্য কমলে তাঁরা বলেন, পুরোনো উচ্চমূল্যের মজুত এখনো শেষ হয়নি। ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুত এবং মূল্যহ্রাসের প্রভাব বিলম্বিত হয়।
অর্থনীতিতে এই আচরণকে দামের নিম্নমুখী অনমনীয়তা হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের মতো দুর্বল প্রতিযোগিতা ও সীমিত বাজার তদারকির অর্থনীতিতে এটি আরও প্রকট। একই খাতে হাতে গোনা কয়েকটি বড় আমদানিকারক বা সরবরাহকারী থাকলে দাম কমানোর জন্য কার্যকর প্রতিযোগিতামূলক চাপ থাকে না।
ভোক্তারও জানার সুযোগ নেই, একটি পণ্য কোন ডলারদরে আমদানি করা হয়েছিল, কত শুল্ক দেওয়া হয়েছে, বন্দরে ব্যয় কত এবং আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত কার মুনাফা কত।
এই অস্বচ্ছতার সুযোগে বিনিময় হার কমলেও ব্যবসায়ীরা আগের মূল্য ধরে রাখতে পারেন।
বাজারদর শুধু ডলারে নির্ধারিত হয় না
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতিকে প্রায়ই শুধু ডলারের সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু বাজারদরের পেছনে আরও কয়েকটি বড় ব্যয় রয়েছে।
প্রথমটি জ্বালানি। জুনে সরকার পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়েছে। এর আগেও এপ্রিলে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব শুধু আমদানি করা পণ্যে নয়; দেশীয় কৃষি, মাছ, ডিম, সবজি এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামেও পড়ে। Reuters
দ্বিতীয়টি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা। ক্ষেত থেকে শহরের বাজারে একটি কৃষিপণ্য পৌঁছানোর পথে পরিবহন, আড়ত, বাজারের খাজনা, চাঁদাবাজি, অপচয় এবং একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর মুনাফা যুক্ত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে লজিস্টিকস ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ—যেখানে বৈশ্বিক গড় আনুমানিক ১০ শতাংশ। উৎপাদনশীলতা, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশীয় পণ্যের দামও উচ্চ থাকে। BSS
তৃতীয়টি উচ্চ সুদের হার। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘ সময় নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রেখেছিল; জুলাইয়ের শেষে তা ৯.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। উচ্চ সুদের কারণে আমদানিকারক, উৎপাদক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী—সবার অর্থায়ন ব্যয় বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করেন। BSS
চতুর্থটি কর ও শুল্ক। অনেক আমদানি পণ্যে শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম কর ও অন্যান্য চার্জ রয়েছে। ডলারের দাম সামান্য কমলেও এসব কর অপরিবর্তিত থাকলে খুচরা মূল্যে বড় পরিবর্তন আসে না।
পঞ্চমটি দুর্বল বাজার প্রতিযোগিতা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, খাদ্য সংরক্ষণ, বিতরণ এবং বাজারের প্রতিযোগিতায় কাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে তার সুফল না পৌঁছানোর পেছনে এই সমস্যাগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। The Business Standard
রেমিট্যান্সের অর্থ কি বাজারে চাহিদাও বাড়ায়?
রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ালেও দেশের ভেতরে প্রাপক পরিবারগুলো সমপরিমাণ টাকা পায়। এই অর্থ ভোগ, বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা, শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা সঞ্চয়ে ব্যবহার হয়।
উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ যদি একই গতিতে না বাড়ে, অতিরিক্ত আয় বাজারে চাহিদা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সীমিত সরবরাহের খাদ্য, জমি ও সেবার ক্ষেত্রে দাম ওপরের দিকে থাকতে পারে।
এর অর্থ এই নয় যে রেমিট্যান্স মূল্যস্ফীতির জন্য ক্ষতিকর। বরং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রেমিট্যান্সের সুফল সর্বোচ্চ করতে হলে এই অর্থকে শুধু ভোগ ও স্থাবর সম্পদে আটকে না রেখে উৎপাদন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থানেও প্রবাহিত করতে হবে।
তা না হলে রেমিট্যান্স পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে স্বস্তি দিলেও সামগ্রিক উৎপাদনক্ষমতা প্রত্যাশিত হারে বাড়ে না।
ডলার কমলে কবে বাজারদর কমতে পারে?
ডলারের দর স্থিতিশীল বা নিম্নমুখী থাকলে প্রথমে কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি এবং নতুন আমদানি আদেশের ব্যয় কমতে পারে। এরপর নতুন পণ্য বাজারে এলে খুচরা দামে প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এ জন্য কয়েকটি শর্ত প্রয়োজন।
প্রথমত, ডলারের দর এক বা দুই সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকতে হবে। স্বল্পমেয়াদি পতনকে আমদানিকারকেরা স্থায়ী পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেন না।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ও খোলাবাজারের ব্যবধান কমাতে হবে। ঘোষিত আন্তব্যাংক দরে আমদানিকারক বাস্তবে ডলার না পেলে আনুষ্ঠানিক দর কমার প্রভাব সীমিত থাকবে।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, খাদ্য ও কাঁচামালের মূল্য স্থিতিশীল থাকা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জাহাজভাড়া কিংবা বীমা ব্যয় বেড়ে গেলে ডলারের সামান্য পতনের সুফল মুছে যেতে পারে।
চতুর্থত, নতুন ও পুরোনো মজুতের হিসাব পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোন দরে পণ্য আমদানি হয়েছে এবং খরচ কমার পর খুচরা দাম সমন্বয় হয়েছে কি না—বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিযোগিতা কমিশনের নিয়মিত প্রকাশ্য মূল্যায়ন প্রয়োজন।
পঞ্চমত, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করলে পণ্যের সরবরাহ কাঠামো পরিবর্তিত হয় না। আমদানি ও পাইকারি স্তরে আধিপত্য, অস্বচ্ছ মুনাফা এবং প্রবেশের বাধা ভাঙতে হবে।
রেমিট্যান্সের সুফল কার কাছে পৌঁছাচ্ছে?
রেমিট্যান্স বাড়লে সবচেয়ে আগে সুবিধা পায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহ সহজ হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ পায় এবং সরকারের প্রয়োজনীয় আমদানি ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি কমে।
এরপর সুবিধা পাওয়ার কথা আমদানিকারক ও উৎপাদকের। তাঁদের ডলার ও কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যয় কমতে পারে।
কিন্তু ভোক্তা এই শৃঙ্খলের একেবারে শেষ প্রান্তে। মাঝের প্রতিটি স্তরে খরচ কমার সুবিধা যদি মুনাফা হিসেবে আটকে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায় না।
এ কারণেই শুধু রেমিট্যান্স কিংবা রিজার্ভ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি বিচার করা যায় না। দেখতে হবে, প্রকৃত মজুরি বাড়ছে কি না, খাদ্য ও বাসস্থানে পরিবারের আয়ের কত অংশ ব্যয় হচ্ছে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ কতটা উন্নত হয়েছে।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশকে ডলারের সংকট থেকে বের হতে সহায়তা করছে। কিন্তু সেই অর্থের সুফল বাজারের থলেতে পৌঁছাতে হলে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন উৎপাদন বৃদ্ধি, কম পরিবহন ব্যয়, স্বচ্ছ আমদানি মূল্য, কার্যকর প্রতিযোগিতা এবং বাজারের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি।
তা না হলে রেমিট্যান্সের জোয়ার ব্যাংকের হিসাব ও রিজার্ভে স্বস্তি আনবে, কিন্তু বাজার থেকে ফিরে সাধারণ মানুষকে একই প্রশ্ন করতে হবে—ডলার কমল, আমার খরচ কমল না কেন?
আপনার মতামত জানানঃ