বাংলাদেশকে ‘সেক্যুলার’ বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলা যায় কি না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু সমাজের ধর্মীয় চর্চা, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা কোনো একটি সরকারের নীতির দিকে তাকালে হবে না। বিষয়টি বুঝতে হলে বাংলাদেশের সংবিধান, রাষ্ট্রের আইনগত কাঠামো, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে দেখতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি একদিকে সংবিধানের মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ, অন্যদিকে একই সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এই দুই বাস্তবতা পাশাপাশি থাকায় বাংলাদেশকে সেক্যুলার বলা যায় কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক রয়েছে। এক পক্ষের যুক্তি, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে রাখা হয়েছে এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, যে রাষ্ট্রের সংবিধানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাকে প্রচলিত অর্থে পুরোপুরি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলা কতটা যুক্তিসংগত?
বাংলাদেশের সংবিধানের বর্তমান কাঠামো এই দ্বৈত বাস্তবতাকে খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক দর্শনের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রয়েছে।
শুধু তাই নয়, সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, তারও একটি কাঠামো দেওয়া হয়েছে। সেখানে সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা দূর করা, কোনো ধর্মকে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন না করার কথা বলা হয়েছে।
এই বিধানগুলো দেখলে বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান বেশ পরিষ্কার। কিন্তু এর পাশেই রয়েছে সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদ। সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’; একই সঙ্গে রাষ্ট্র হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।
এখানেই মূল সাংবিধানিক প্রশ্নটি তৈরি হয়। একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা, অন্যদিকে রাষ্ট্রধর্ম—এই দুটি ধারণা কি একই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পাশাপাশি থাকতে পারে?
বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালের একটি আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ইতিহাস ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায়। আদালতের আলোচনায় উঠে আসে যে ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছিল এবং ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আবার সংবিধানের মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনা হলেও রাষ্ট্রধর্মের বিধানটি রাখা হয়েছিল।
অর্থাৎ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোকে বোঝার জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসনামলে সংবিধানে ধর্মীয় ভাষা ও বিধান যুক্ত হয়। ১৯৮৮ সালে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও রাষ্ট্রধর্মের বিধান বহাল থাকে।
এই ইতিহাস দেখায় যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভেতর ধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি কখনো সরল ছিল না। এটি সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তন, সাংবিধানিক সংশোধন এবং আদালতের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
তবে ‘সেক্যুলার’ শব্দটির অর্থও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই ধর্মহীনতা নয়। একজন ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক নিজে ধর্ম পালন করতে পারেন, ধর্মীয় বিশ্বাস রাখতে পারেন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার মূল প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তার অধিকার নির্ধারণ করবে, নাকি নাগরিক হিসেবে সবাইকে সমান মর্যাদা দেবে?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকার করে। এতে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, প্রচার ও চর্চার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে। ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার অধিকারও স্বীকৃত।
সুতরাং সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণাটি অস্বীকার করা হয়নি। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। আদালতের একটি রায়েও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা ধর্মের বিরোধিতা করে না; বরং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে স্বীকার করেই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে কোনো রাষ্ট্র কতটা সেক্যুলার, সেই প্রশ্ন শুধু সংবিধানের কয়েকটি শব্দ দিয়ে শেষ করা যায় না। রাষ্ট্রের আইন কীভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে কীভাবে ব্যবহার করছে, সংখ্যালঘু নাগরিকদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কি না, এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের সমানভাবে আচরণ করছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনো সমাজে ধর্মের প্রভাব বেশি থাকলেই সেই রাষ্ট্রকে অসেক্যুলার বলা যায় না। একইভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা থাকলেই বাস্তবে সব ধরনের ধর্মীয় বৈষম্য দূর হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যায় না। সাংবিধানিক নীতি এবং বাস্তব প্রয়োগ—দুটি আলাদা বিষয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হলেও সংবিধান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের কথাও স্পষ্টভাবে বলেছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়ার পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্ম পালনে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
তবে এখানেই আবার প্রশ্ন আসে—‘রাষ্ট্রধর্ম’ ধারণাটি কি ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক?
এ বিষয়ে বাংলাদেশের আদালতের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্টের একটি রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের আলোচনায় বলা হয়েছিল, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয় না; কারণ একই অনুচ্ছেদে অন্য ধর্মের সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। আদালতের সেই মামলায় রাষ্ট্রধর্মের বিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, কিন্তু মামলাটি মূলত আবেদনকারীদের অবস্থান বা locus standi-সংক্রান্ত প্রশ্নে নিষ্পত্তি হয়; মেরিটে চূড়ান্ত সাংবিধানিক নিষ্পত্তি হয়নি—এ বিষয়টিও আদালতের বুলেটিনে উল্লেখ আছে।
অন্যদিকে আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যকার সাংবিধানিক টানাপোড়েন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফলে এটিকে এক বাক্যে ‘সাংঘর্ষিক’ বা ‘সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে শেষ করে দেওয়া আইনগতভাবে অতিরিক্ত সরলীকরণ হবে।
আরেকটি বিষয় হলো, ২০২৫ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় আসে। আদালত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনকে পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেনি; তবে সংশোধনীর কিছু অংশকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসঙ্গত হিসেবে দেখেছে। এই রায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
তাই আজকের বাংলাদেশকে নিয়ে ‘সেক্যুলার’ শব্দটি ব্যবহার করতে গেলে কোন অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি স্পষ্ট করা জরুরি। যদি সেক্যুলার বলতে বোঝানো হয়—সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি কি না—তাহলে উত্তর হলো, হ্যাঁ। বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এখনো মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।
যদি প্রশ্ন হয়, বাংলাদেশ কি এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে কোনো ধর্মের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই—তাহলে উত্তর ভিন্ন। কারণ সংবিধানের ২ক অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা আছে।
আর যদি প্রশ্ন হয়, বাংলাদেশে অন্য ধর্মাবলম্বীরা সাংবিধানিকভাবে সমমর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রাখে কি না, তাহলে সংবিধানের ভাষ্য অনুযায়ী উত্তর হলো—হ্যাঁ। রাষ্ট্রকে অন্যান্য ধর্মের সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতাও স্বীকৃত।
সুতরাং বাংলাদেশকে ‘সেক্যুলার’ বা ‘অসেক্যুলার’—এই দুইয়ের যেকোনো একটিতে পুরোপুরি আটকে দেওয়া বাস্তবতার সব দিক তুলে ধরে না। সাংবিধানিকভাবে দেশটি ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে ধারণ করে, একই সঙ্গে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই দ্বৈত কাঠামোই বাংলাদেশের বিশেষ সাংবিধানিক বৈশিষ্ট্য।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু শব্দের নয়; প্রশ্নটি রাষ্ট্র কীভাবে তার নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ করে তারও। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃত পরীক্ষা তখনই হয়, যখন একজন মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ রাষ্ট্রের কাছে নিজের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। রাষ্ট্র যদি ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির বাস্তব অর্থ অনেকটাই সেখানে প্রতিফলিত হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা আইন প্রয়োগে যদি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য দেখা দেয়, তাহলে কেবল সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি থাকা বাস্তবতার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।
তাই ‘বাংলাদেশকে কি এখনো সেক্যুলার বলা যায়?’—এই প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর সম্ভবত এমন: বাংলাদেশ সংবিধানের ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় নীতি ধারণ করে, কিন্তু একই সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক মডেল হিসেবে দেখা যায়, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার, রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্মনিরপেক্ষতা—সবগুলো ধারণা একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে পাশাপাশি অবস্থান করছে। এই কাঠামো কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিগুলো কতটা কার্যকর—সেটিই মূল বিতর্কের জায়গা।
আপনার মতামত জানানঃ