Author: দর্শন ডেস্ক

কোনো সরকার যখন একটি বই নিষিদ্ধ করে, সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে কিংবা প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করে—ক্ষমতার উপস্থিতি সহজেই বোঝা যায়। সেখানে আদেশ আছে, শাস্তি আছে, দৃশ্যমান শাসক আছে। কিন্তু ক্ষমতার সবচেয়ে সফল রূপটি হয়তো এতটা দৃশ্যমান নয়। সেটি আমাদের বলে না কী ভাবতে হবে; বরং কোন বিষয়টি ভাবার যোগ্য, কোন ভাষায় তা ভাবতে হবে এবং কোন প্রশ্নটি ‘অযৌক্তিক’—সেই পরিসরটি আগে থেকেই তৈরি করে দেয়। সেটি সব সময় মুখ বন্ধ করে না; কখনো এমন শব্দ শেখায়, যার বাইরে কথা বলাই কঠিন। কখনো কারাগারে পাঠায় না; বরং এমনভাবে ‘স্বাভাবিক’ ও ‘অস্বাভাবিক’-এর সীমা নির্ধারণ করে যে মানুষ নিজেই নিজেকে সংশোধন করতে শুরু করে। বিদ্যালয় সময়ানুবর্তিতা…

Read More

সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি চা নিলেন, কফি নয়। অফিসে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে থেমে গেলেন, অন্যটি এড়িয়ে গেলেন। কাউকে ক্ষমা করলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিলেন। রাতে মনে হলো—সিদ্ধান্তগুলো আপনারই। কিন্তু কেন চা? কেন ওই পথ? কেন ওই ভিডিও? কেন ক্ষমা? আপনার পছন্দের পেছনে হয়তো আছে শৈশবের অভ্যাস, পারিবারিক মূল্যবোধ, ভয়, স্মৃতি, হরমোন, ঘুমের অভাব, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক শ্রেণি, ধর্মীয় শিক্ষা, বন্ধুবৃত্ত এবং এমন একটি অ্যালগরিদম—যেটি আপনার নিজের চেয়েও বেশি মনোযোগ দিয়ে আপনার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছে। তাহলে সিদ্ধান্তটি আপনার হলো কীভাবে? আরও গভীর প্রশ্ন: আমাদের প্রতিটি চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও সিদ্ধান্তের যদি…

Read More

কেউ রাস্তায় একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ পেলেন। আশপাশে কেউ নেই, কোনো ক্যামেরাও নেই। মানিব্যাগটি রেখে দিলে তাঁর তাৎক্ষণিক লাভ; মালিককে ফিরিয়ে দিলে হয়তো কোনো পুরস্কারই মিলবে না। তিনি কী করবেন? নৈতিকতার সবচেয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলোর একটি এই ছোট্ট ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে: কেউ দেখছে না—তবু মানুষ ভালো কাজ করবে কেন? আরও অস্বস্তিকর প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষ হয়ে লাভ কী? সৎ ব্যবসায়ী সুযোগ হারাতে পারেন, নীতিবান কর্মী পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, সত্যবাদী মানুষ সম্পর্ক নষ্ট করতে পারেন। বিপরীতে প্রতারণা, চাটুকারিতা বা নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে অনেককে দৃশ্যত সফল হতে দেখা যায়। তবে নৈতিকতার মূল্য কি তাহলে কেবল পরকালের পুরস্কার, সামাজিক প্রশংসা অথবা শাস্তির ভয়?…

Read More

“আমার জন্যই তুমি ভেসে যাও অশ্রুর শহরে, দগ্ধ হও অবর্ণনীয় যন্ত্রণায়, গিয়েছ অভিশপ্ত নগরে৷ ঐশ্বরিক শক্তি, পরম প্রজ্ঞা এবং প্রথম প্রেমের ভেতর আমার জন্ম৷ আমার আগে আর কিছুর অস্তিত্ব ছিলো না৷ তুমি আর আশায় থেকো না৷” এই পঙক্তিগুলো ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতালিয়ান কবি দান্তে আলিঘিয়েরির বিখ্যাত কাল্পনিক মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’ থেকে নেয়া। তিনি এই মহাকাব্যে দোযখের বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, দোযখের প্রবেশদ্বারের উপরের অংশে একটা শিলালিপিতে এই পঙক্তিগুলো মুদ্রিত। দান্তের জন্ম ১২৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৩২১ খ্রিষ্টাব্দে। ১৩০৮ খিষ্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দ, এই সময়কালে তিনি এই মহাকাব্যটি লেখেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে মহাকাব্যের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত…

Read More