…
এডিটর পিক
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। অপরাধ দমন, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা…
Trending Posts
-
জন স্টুয়ার্ট মিলের স্বাধীনতা: সমাজের অপছন্দ কি ব্যক্তির অধিকার কেড়ে নিতে পারে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By দর্শন ডেস্ক | 0 Comments -
অক্টোবর বিপ্লবের নাম অক্টোবর, বার্ষিকী নভেম্বরে কেন?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By স্টেটওয়াচ ডেস্ক | 0 Comments -
রোমান কফিনে মধ্যযুগের মানুষ: একটি সমাধি কীভাবে বহু যুগের ইতিহাস ধরে রাখে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By স্টেটওয়াচ ডেস্ক | 0 Comments -
সাজেকে অবরোধ: পর্যটকের দুর্ভোগের আড়ালে পাহাড়ের মূল সংকট
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেই কি নির্বাচনে আস্থা ফিরবে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By বিশেষ প্রতিবেদক | 0 Comments
Trending Posts
-
জন স্টুয়ার্ট মিলের স্বাধীনতা: সমাজের অপছন্দ কি ব্যক্তির অধিকার কেড়ে নিতে পারে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By দর্শন ডেস্ক | 0 Comments -
অক্টোবর বিপ্লবের নাম অক্টোবর, বার্ষিকী নভেম্বরে কেন?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By স্টেটওয়াচ ডেস্ক | 0 Comments -
রোমান কফিনে মধ্যযুগের মানুষ: একটি সমাধি কীভাবে বহু যুগের ইতিহাস ধরে রাখে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By স্টেটওয়াচ ডেস্ক | 0 Comments -
সাজেকে অবরোধ: পর্যটকের দুর্ভোগের আড়ালে পাহাড়ের মূল সংকট
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেই কি নির্বাচনে আস্থা ফিরবে?
অক্টোবর ২৫, ২০২৬By বিশেষ প্রতিবেদক | 0 Comments
- বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, পরকীয়া: নেপোলিয়নের ব্যক্তি জীবন
- ক্রসফায়ার বিতর্কের পর দুই মৃত্যু, বাড়ছে প্রশ্ন
- শূন্য (Zero): যে আবিষ্কার ছাড়া আধুনিক গণিত ও কম্পিউটার অসম্ভব
- ‘যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ’, আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ
- সরকার বদলালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বয়ান কেন বদলায়?
- ফ্রান্সের সংকটে মুসলিমরা কেন বলির পাঁঠা?
- আমাদের কোষে কি লুকিয়ে আছে কোয়ান্টাম জগতের রহস্য?
- দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নেতানিয়াহুর বিপক্ষে, তবু ক্ষমতায়!
Author: দর্শন ডেস্ক
একজন মানুষ সারা জীবন সমাজের চোখে সফল হওয়ার চেষ্টা করলেন। ভালো ফল, সম্মানজনক পেশা, গ্রহণযোগ্য জীবন। তারপর একদিন মনে হলো, এত কিছু অর্জনের পরও জীবনটি যেন তাঁর নিজের নয়। তিনি যা চেয়েছেন বলে ভেবেছিলেন, তার কতটুকু আসলে অন্যদের প্রত্যাশা? ফ্রিডরিখ নিটশের দর্শনে প্রবেশের একটি দরজা এই অস্বস্তি। আমরা কীভাবে বাঁচব, তার উত্তর কোথা থেকে পাই? পরিবার, ধর্ম, রাষ্ট্র কিংবা জনমত যে মূল্যবোধ দেয়, সেগুলো আমরা গ্রহণ করেছি কেন? আর পুরোনো উত্তর ভেঙে গেলে নতুন অর্থ তৈরি করার সামর্থ্য আমাদের আছে কি? নিটশে পাঠককে নিশ্চিন্ত করার চেয়ে অস্থির করেন বেশি। সেই অস্থিরতার উদ্দেশ্য কেবল ভাঙা নয়; নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার…
একজন নারী একা ভ্রমণ করতে চান। একজন তরুণ পরিবারের পছন্দের পেশায় যেতে চান না। কেউ বিয়ে করবেন না বলে ঠিক করেছেন। কেউ প্রচলিত ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের সিদ্ধান্তে অন্য কারও অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, সেই আলোচনা শুরুর আগেই পরিচিত একটি রায় এসে যায়: সমাজ এসব ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু সমাজের অপছন্দ কি কাউকে বাধা দেওয়ার যথেষ্ট কারণ? বহু মানুষ কোনো আচরণকে ভুল মনে করলেই কি সেটি নিষিদ্ধ করা ন্যায়সংগত হয়? আর একজন মানুষ নিজের জীবন নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কি না, যা অন্যের চোখে বোকামি? উনিশ শতকের ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল এই…
ধরা যাক, একটি জাহাজে যাত্রীরা বিপদে পড়েছেন। কে জাহাজ চালাবেন—যিনি নক্ষত্র, বাতাস ও সমুদ্রপথ বোঝেন, নাকি যিনি সবচেয়ে বেশি মানুষকে নিজের পক্ষে আনতে পারেন? রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে প্লেটোর উদ্বেগ অনেকটা এমন। ক্ষমতা অর্জনের দক্ষতা এবং ভালোভাবে শাসন করার দক্ষতা কি একই জিনিস? তবে এই তুলনাই আরেকটি প্রশ্ন তৈরি করে। দক্ষ নাবিক জাহাজ চালাতে পারেন, কিন্তু যাত্রার গন্তব্য কি তিনিই একা ঠিক করবেন? যাঁদের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তাঁদের মতামতের মূল্য কতটুকু? প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্র এখানেই। তিনি রাজনীতিতে জ্ঞান ও নৈতিকতার দাবি তুলেছেন। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জনগণের সিদ্ধান্তক্ষমতা সীমিত। ফলে তাঁকে পড়তে হয় একই সঙ্গে শিক্ষকের মতো…
আমরা প্রায়ই বলি, ‘আমি জানি।’ রাজনীতি থেকে ধর্ম, ন্যায়বিচার থেকে ভালো জীবন—প্রায় সব বিষয়েই আমাদের কোনো না কোনো দৃঢ় অবস্থান থাকে। কিন্তু কেউ যদি জানতে চান, ‘আপনি যা জানেন বলে মনে করছেন, সেটি কেন সত্য?’—তখন উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। মত থাকা আর সেই মতের পক্ষে ভালো কারণ থাকা যে এক নয়, সক্রেটিসের দর্শন এই অস্বস্তিকর পার্থক্যটির সামনে আমাদের দাঁড় করায়। প্রাচীন এথেন্সের এই দার্শনিকের গুরুত্ব শুধু তাঁর কিছু বিখ্যাত বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সঙ্গে কথোপকথনকে তিনি বিশ্বাস ও জীবনযাপন যাচাইয়ের ক্ষেত্র করে তুলেছিলেন। তাঁর দর্শনের দরজা তাই এমন একটি প্রশ্ন দিয়েও খোলা যায়: আমি যে জীবন বেছে নিচ্ছি, তা…
একজন মানুষ সততার গুরুত্ব নিয়ে অসাধারণ বক্তৃতা দেন, কিন্তু সুযোগ পেলেই নিয়ম ভাঙেন। আরেকজন নৈতিকতার বড় কোনো সংজ্ঞা জানেন না, তবু নিজের ক্ষতি স্বীকার করে অন্যের প্রাপ্য ফিরিয়ে দেন। ভালো মানুষ কে—এ প্রশ্নে আমরা সাধারণত তাঁদের কাজের দিকেই তাকাই। কিন্তু কাজটি একবার করা আর সেটিকে জীবনযাপনের স্থায়ী রীতিতে পরিণত করার মধ্যে পার্থক্য আছে। এরিস্টটলের নৈতিক দর্শন সেই পার্থক্যটিকেই সামনে আনে। তাঁর কাছে দর্শন ছিল জগৎ বোঝার পাশাপাশি জীবনকে বিচার করার উপায়। আমরা কী জানি, কীভাবে সিদ্ধান্ত নিই, কী চাই এবং কেমন মানুষ হয়ে উঠছি—এই প্রশ্নগুলো তাঁর চিন্তায় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ভালো জীবন তাই শুধু সম্পদের হিসাব নয়; নিজের বিচারবুদ্ধি ও…
ধরা যাক, ফোনের পর্দায় একটি খবর পড়ছেন। একজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, একটি পরিবার ঘর হারিয়েছে কিংবা কারও সন্তান আর বাড়ি ফেরেনি। প্রথম কয়েকটি বাক্যে মন খারাপ হলো। তারপর জানা গেল তাঁর ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়। সেই তথ্য জানার পরও কি আগের মতোই কষ্ট অনুভব করলেন? নাকি মনে হলো, বিষয়টি আরও জটিল, এত দ্রুত বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই? এটি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ নয়; নিজের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করার একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি। কারণ অন্যের পক্ষপাত আমরা সহজে চিনতে পারি, নিজের অনুভূতির পরিবর্তন তত সহজে ধরতে পারি না। আমরা হয়তো মনে করি মানুষের কষ্ট দেখেই ব্যথিত হই। কিন্তু কখনো সেই কষ্ট আমাদের…
একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কোথায় ধারণ করা, তার আগে কী ঘটেছিল, পরে কী হয়েছে—এসব এখনো পরিষ্কার নয়। অথচ মন্তব্যের ঘরে রায় লেখা শুরু হয়ে গেছে। কেউ অপরাধী চিহ্নিত করেছেন, কেউ ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, কেউ জানতে চাইছেন, আপনি এখনো কিছু বলছেন না কেন। এই দৃশ্যের মধ্যে আমাদের সময়ের একটি অস্বস্তি ধরা পড়ে। শুধু খবর জানা যথেষ্ট নয়; দ্রুত তার ব্যাখ্যা দিতে হবে, পক্ষ নিতে হবে এবং নিজের অবস্থান দৃশ্যমান করতে হবে। যেন কোনো বিষয়ে মতামত না থাকা মানেই চিন্তার অভাব, সাহসের ঘাটতি কিংবা সন্দেহজনক নীরবতা। কিন্তু মানুষের মন কি প্রতিটি ঘটনার বিচারসভা? সবকিছুর উত্তর প্রস্তুত রাখা কি বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ? নাকি কখনো…
ধরা যাক, একজন বন্ধু আপনার বিশ্বাস ভেঙেছেন। ব্যক্তিগত একটি কথা অন্যের কাছে বলেছেন, তারপর ক্ষমা চেয়েছেন। আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন, তাঁর প্রতি প্রতিশোধের ইচ্ছা পোষণ করবেন না। কিন্তু পরেরবার ব্যক্তিগত কথা বলার আগে সতর্ক থাকবেন। বন্ধু তখন বললেন, ‘ক্ষমা করলে আবার আগের মতো বিশ্বাস করতে পারছ না কেন?’ এই প্রশ্নে একটি পরিচিত বিভ্রান্তি আছে। ক্ষমা, বিশ্বাস এবং সম্পর্কের পুনরুদ্ধারকে আমরা প্রায়ই একই সিদ্ধান্ত বলে ধরে নিই। যেন ক্ষমার ঘোষণা দিলেই ক্ষতির ইতিহাস মুছে যাবে, ভুলকারী আগের অধিকার ফিরে পাবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। অথচ মানুষকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত এবং তাকে আবার নিজের জীবনে একই জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্ত…
এক বিকেলে আপনি নদীর পাশে বসে ছিলেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, কোনো সমস্যার সমাধান করেননি। আলো বদলেছে, কয়েকটি নৌকা গেছে, তারপর বাড়ি ফিরেছেন। কেউ যদি জানতে চায়, ‘এতে কী লাভ হলো?’—হয়তো বলার মতো উত্তর খুঁজে পাবেন না। অথচ বিকেলটিকে অর্থহীন বলতেও মন সায় দেবে না। কিছু সময় আমাদের ভালো লাগে, কিন্তু সেই ভালো লাগার পক্ষে প্রমাণ হাজির করা কঠিন। জীবনের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগতেই হবে কি না, প্রশ্নটির শুরু এখানেই। আমরা কোনো বিষয় শেখার জন্য সময় দিই, জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করি, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিই। এসবের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই প্রয়োজনের হিসাব যখন জীবনের প্রতিটি কোণে ঢুকে পড়ে, তখন একটি…
ধরা যাক, একজন ব্যবসায়ী ক্রেতাকে ঠকান না। কিন্তু তাঁর সততার কারণ হলো, প্রতারণা ধরা পড়লে ব্যবসার ক্ষতি হবে। আরেকজন ব্যবসায়ীও ক্রেতাকে ঠকান না, কারণ তিনি মনে করেন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা অন্যায়—ধরা পড়ুক বা না পড়ুক। বাইরে থেকে দুজনের আচরণ একই। কিন্তু তাঁদের নৈতিক অবস্থানও কি একই? ইমানুয়েল কান্টের দর্শন এই প্রশ্নে আমাদের থামিয়ে দেয়। ভালো কাজের ফলের পাশাপাশি তিনি জানতে চান, কাজটি কোন নীতিতে এবং কেন করা হলো। এই প্রশ্ন ব্যক্তিগত সততা থেকে রাজনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা কি সঠিক কাজ করি সুবিধার জন্য, নাকি সঠিক বলেই করি? অন্য মানুষকে সম্মান করি, নাকি নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তাঁর সঙ্গে ভালো…