…
এডিটর পিক
একটি সংবাদ সম্মেলন। সামনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। হাতে মাইক্রোফোন। সাংবাদিকের কাজ প্রশ্ন করা, আর সরকারের…
Trending Posts
-
হাসিনা-পুতিন ফোনালাপ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা?
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
এআই ব্যবহারে ধীরে ছোট হবে মানুষের মস্তিষ্ক? চিন্তাশক্তি হারিয়ে কি ফিরবে গুহাযুগ?
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
বিডিআর সাক্ষীসহ অন্তত ১৫ জনকে হত্যা, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলার অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments
Trending Posts
-
হাসিনা-পুতিন ফোনালাপ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বার্তা?
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
এআই ব্যবহারে ধীরে ছোট হবে মানুষের মস্তিষ্ক? চিন্তাশক্তি হারিয়ে কি ফিরবে গুহাযুগ?
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments -
বিডিআর সাক্ষীসহ অন্তত ১৫ জনকে হত্যা, পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলার অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬By ডেস্ক রিপোর্ট | 0 Comments
- প্রতিবছর ৮ হাজারের বেশি প্রাণহানি: নিরাপদে বাঁচার অধিকার কোথায়?
- তিন কোম্পানি হ্যাক করলো গুগলের জেমিনি এআই: বদলে যাচ্ছে সাইবার হামলার ভবিষ্যৎ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, এরপরই প্রেস কার্ড বাতিল: সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন
- আমাদের একজন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আছেন
- পুঁথির আসর থেকে বটতলা: সিনেমার আগেই বাঙালির সিনেমা দেখা শেখা
- মসজিদগুলো কি জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে?
- শেখ হাসিনা ফিরলে রাজপথে পুলিশ ও জনগণের অবস্থান কী হবে?
- ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
Author: দর্শন ডেস্ক
গণহত্যার ছবি দেখলে একটি স্বস্তিদায়ক ধারণা মনে জন্মায়: যারা এমন কাজ করেছে, তারা নিশ্চয়ই আমাদের মতো মানুষ ছিল না। তারা ছিল উন্মাদ, নিষ্ঠুর কিংবা জন্মগত অপরাধী। এই ব্যাখ্যা আমাদের নিরাপদ বোধ করায়। কারণ হত্যাকারী যদি সম্পূর্ণ আলাদা কোনো প্রজাতির মানুষ হয়, তবে নিজেদের সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও বিবেককে পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না। ইতিহাস অবশ্য আরও অস্বস্তিকর কথা বলে। গণহত্যা শুধু কয়েকজন উন্মত্ত নেতার হাতে ঘটে না। এর জন্য প্রয়োজন হয় আইন লেখার মানুষ, তালিকা তৈরির কেরানি, রেল চালানো কর্মী, সম্পত্তি দখলকারী প্রতিবেশী, প্রচার ছড়ানো সাংবাদিক, নির্দেশ মানা পুলিশ, দরজা বন্ধ রাখা কর্মকর্তা এবং এমন অসংখ্য দর্শক—যারা হত্যায় সরাসরি হাত না…
মানুষ কেন ভালো হবে—শাস্তির ভয় থেকে, পুরস্কারের আশায়, নাকি ভালো কাজ নিজেই মূল্যবান বলে? প্রশ্নটি যতটা ধর্মীয়, ততটাই দার্শনিক। বহু বিশ্বাসীর কাছে নৈতিকতার চূড়ান্ত ভিত্তি ঈশ্বর: তিনি ভালো-মন্দ নির্ধারণ করেন, মানুষের বিবেককে জবাবদিহির অনুভূতি দেন এবং এমন এক ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি রাখেন যা পার্থিব আদালত দিতে পারে না। অন্যদিকে, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদীরা বলেন, সহমর্মিতা, যুক্তি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং মানুষের মর্যাদাবোধ থেকেই নৈতিকতা গড়ে উঠতে পারে। তাহলে নৈতিকতার জন্য ঈশ্বর কি সত্যিই অপরিহার্য? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রথমেই দুটি আলাদা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এক, মানুষ নৈতিক বিশ্বাস কোথা থেকে পায়। দুই, সেই বিশ্বাস সত্য বা বাধ্যতামূলক হওয়ার ভিত্তি কী। কোনো ব্যক্তি…
ধরা যাক, একই রাজনৈতিক ঘটনার দুটি সংবাদ আপনার সামনে রাখা হলো। একটিতে আপনার পছন্দের দলকে সফল বলা হয়েছে, অন্যটিতে সেই দলের ব্যর্থতার প্রমাণ হাজির করা হয়েছে। কোন প্রতিবেদনটি আপনি আগে খুলবেন? কোনটির তথ্যসূত্র বেশি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন? আর কোনটির দুর্বলতা খুঁজতে আপনার মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় হবে? অধিকাংশ মানুষই বলবে, তারা নিরপেক্ষভাবে দুটিই বিচার করবে। বাস্তবে আমরা প্রায়ই তা করি না। নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে এমন সংবাদে ছোটখাটো ত্রুটি উপেক্ষা করি। বিপরীত সংবাদে শব্দের ব্যবহার, লেখকের পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে সম্ভাব্য উদ্দেশ্য—সবকিছু নিয়ে সন্দেহ করি। পছন্দের বক্তব্যে একটি দুর্বল সূত্রও যথেষ্ট মনে হয়; অপছন্দের বক্তব্যে দশটি শক্তিশালী সূত্রেও…
একটি ব্যস্ত রাস্তায় একজন মানুষকে অপমান করা হচ্ছে। আশপাশে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ চোখ সরিয়ে নেয়, কেউ ফোনে ব্যস্ত হওয়ার ভান করে, কেউ ভাবে—ঘটনাটি তার বিষয় নয়। কয়েক মিনিট পর সবাই চলে যায়। যে অপমান করেছে, সে বুঝে নেয়: তাকে থামানোর কেউ নেই। যিনি অপমানিত হলেন, তিনি বুঝে নেন: উপস্থিত লোকদের মাঝেও তিনি একা। এ দৃশ্যে অন্যায়কারী কে, তা স্পষ্ট। কিন্তু বাকিদের নৈতিক অবস্থান কী? তারা তো আঘাত করেনি, অপমান করেনি, আদেশও দেয়নি। তারা শুধু নীরব ছিল। এই ‘শুধু’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে নৈতিক দর্শনের একটি কঠিন প্রশ্ন—কোনো কাজ না করাও কি কখনো একটি কাজের সমান নৈতিক অর্থ বহন করে?…
একটি শহর শান্ত। বাজার খোলা, মানুষ কাজে যাচ্ছে, রাষ্ট্রের অনুষ্ঠান যথারীতি চলছে। কিন্তু এই শান্তির নিচে লুকিয়ে আছে এমন একটি সত্য, যা প্রকাশ পেলে সরকারের পতন হতে পারে, মানুষের আস্থা ভেঙে যেতে পারে, রাস্তায় সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। একজন সাংবাদিক, বিচারক, বিজ্ঞানী কিংবা সাধারণ নাগরিক সেই সত্যটি জানেন। তাঁর সামনে তখন কঠিন প্রশ্ন—তিনি কি সত্য বলবেন, নাকি সমাজের শান্তির জন্য নীরব থাকবেন? প্রশ্নটি শুনতে সহজ, কিন্তু মানবসভ্যতার সবচেয়ে পুরোনো নৈতিক দ্বন্দ্বগুলোর একটি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে। সত্যকে আমরা প্রায় সব সংস্কৃতিতেই নৈতিক গুণ হিসেবে দেখি। শিশুদের শেখানো হয় মিথ্যা বলা অন্যায়। আদালতে সত্য বলার শপথ নেওয়া হয়। সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান, বিচার…
গণতন্ত্রের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যটি খুব সহজ—ভোট হয়, ভোট গণনা করা হয়, যে পক্ষ বেশি ভোট পায় তারা জয়ী হয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে সংসদ পর্যন্ত আমরা এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত। একাধিক মতের মধ্যে কোনো একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত গ্রহণ করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ বলে মনে হয়। কিন্তু একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন রয়ে যায়: সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যা চায়, সেটিই কি ন্যায়? ধরা যাক, কোনো গ্রামের একশ বাসিন্দার মধ্যে নব্বই জন সিদ্ধান্ত নিলেন, বাকি দশজন গ্রামের সাধারণ জলাধার ব্যবহার করতে পারবেন না। সিদ্ধান্তটি ভোটে পাস হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের স্পষ্ট সমর্থনও রয়েছে। কিন্তু তাই বলে সিদ্ধান্তটি কি ন্যায়সংগত হয়ে গেল? আবার একটি রাষ্ট্রের অধিকাংশ…
কোনো সরকার যখন একটি বই নিষিদ্ধ করে, সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে কিংবা প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করে—ক্ষমতার উপস্থিতি সহজেই বোঝা যায়। সেখানে আদেশ আছে, শাস্তি আছে, দৃশ্যমান শাসক আছে। কিন্তু ক্ষমতার সবচেয়ে সফল রূপটি হয়তো এতটা দৃশ্যমান নয়। সেটি আমাদের বলে না কী ভাবতে হবে; বরং কোন বিষয়টি ভাবার যোগ্য, কোন ভাষায় তা ভাবতে হবে এবং কোন প্রশ্নটি ‘অযৌক্তিক’—সেই পরিসরটি আগে থেকেই তৈরি করে দেয়। সেটি সব সময় মুখ বন্ধ করে না; কখনো এমন শব্দ শেখায়, যার বাইরে কথা বলাই কঠিন। কখনো কারাগারে পাঠায় না; বরং এমনভাবে ‘স্বাভাবিক’ ও ‘অস্বাভাবিক’-এর সীমা নির্ধারণ করে যে মানুষ নিজেই নিজেকে সংশোধন করতে শুরু করে। বিদ্যালয় সময়ানুবর্তিতা…
সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি চা নিলেন, কফি নয়। অফিসে যাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে থেমে গেলেন, অন্যটি এড়িয়ে গেলেন। কাউকে ক্ষমা করলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিলেন। রাতে মনে হলো—সিদ্ধান্তগুলো আপনারই। কিন্তু কেন চা? কেন ওই পথ? কেন ওই ভিডিও? কেন ক্ষমা? আপনার পছন্দের পেছনে হয়তো আছে শৈশবের অভ্যাস, পারিবারিক মূল্যবোধ, ভয়, স্মৃতি, হরমোন, ঘুমের অভাব, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক শ্রেণি, ধর্মীয় শিক্ষা, বন্ধুবৃত্ত এবং এমন একটি অ্যালগরিদম—যেটি আপনার নিজের চেয়েও বেশি মনোযোগ দিয়ে আপনার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছে। তাহলে সিদ্ধান্তটি আপনার হলো কীভাবে? আরও গভীর প্রশ্ন: আমাদের প্রতিটি চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও সিদ্ধান্তের যদি…
কেউ রাস্তায় একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ পেলেন। আশপাশে কেউ নেই, কোনো ক্যামেরাও নেই। মানিব্যাগটি রেখে দিলে তাঁর তাৎক্ষণিক লাভ; মালিককে ফিরিয়ে দিলে হয়তো কোনো পুরস্কারই মিলবে না। তিনি কী করবেন? নৈতিকতার সবচেয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলোর একটি এই ছোট্ট ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে: কেউ দেখছে না—তবু মানুষ ভালো কাজ করবে কেন? আরও অস্বস্তিকর প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষ হয়ে লাভ কী? সৎ ব্যবসায়ী সুযোগ হারাতে পারেন, নীতিবান কর্মী পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, সত্যবাদী মানুষ সম্পর্ক নষ্ট করতে পারেন। বিপরীতে প্রতারণা, চাটুকারিতা বা নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে অনেককে দৃশ্যত সফল হতে দেখা যায়। তবে নৈতিকতার মূল্য কি তাহলে কেবল পরকালের পুরস্কার, সামাজিক প্রশংসা অথবা শাস্তির ভয়?…
“আমার জন্যই তুমি ভেসে যাও অশ্রুর শহরে, দগ্ধ হও অবর্ণনীয় যন্ত্রণায়, গিয়েছ অভিশপ্ত নগরে৷ ঐশ্বরিক শক্তি, পরম প্রজ্ঞা এবং প্রথম প্রেমের ভেতর আমার জন্ম৷ আমার আগে আর কিছুর অস্তিত্ব ছিলো না৷ তুমি আর আশায় থেকো না৷” এই পঙক্তিগুলো ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতালিয়ান কবি দান্তে আলিঘিয়েরির বিখ্যাত কাল্পনিক মহাকাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’ থেকে নেয়া। তিনি এই মহাকাব্যে দোযখের বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, দোযখের প্রবেশদ্বারের উপরের অংশে একটা শিলালিপিতে এই পঙক্তিগুলো মুদ্রিত। দান্তের জন্ম ১২৬৫ খ্রিষ্টাব্দে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৩২১ খ্রিষ্টাব্দে। ১৩০৮ খিষ্টাব্দ থেকে শুরু করে ১৩২০ খ্রিষ্টাব্দ, এই সময়কালে তিনি এই মহাকাব্যটি লেখেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে মহাকাব্যের প্রথম মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত…