একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এক যুবক। হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে সেখানে হাজির হন দুই হেলমেটধারী ব্যক্তি। কিছুক্ষণ কথা বলার পর মাথায় গুলি করে তাঁকে হত্যা করেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এই হত্যাকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। নিহত যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম শেখ। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলে এবং একজন ঘের ব্যবসায়ী। দিনের আলোয় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে উদ্বেগের বিষয় শুধু খুলনার এই একটি ঘটনা নয়। দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যানেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮১টি। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি হত্যা মামলা এবং ২০টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা ও নারীর নিরাপত্তার প্রশ্ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে হত্যা মামলার সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। কিন্তু ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। একদিকে হত্যার মামলা কমেছে, অন্যদিকে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে অপরাধ পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু একটি সূচক দিয়ে সামগ্রিক বাস্তবতা বোঝার সুযোগ নেই।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৯১৩টি হত্যা মামলা হয়েছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হত্যা মামলা কমেছে ২৫৪টি বা প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে এটি একটি হ্রাস। তবে নয় মাসে ২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা হওয়ার অর্থ হলো, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি করে হত্যার মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির অভিযোগ দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে ধর্ষণের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ধর্ষণের ঘটনায় ৪ হাজার ১১০টি মামলা হয়েছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩৮১টি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ২৭১টি। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ। হত্যা মামলার সংখ্যা কমলেও ধর্ষণের মামলার এমন বৃদ্ধি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন তৈরি করেছে।
এই দুই পরিসংখ্যান পাশাপাশি রাখলে দেশের অপরাধ পরিস্থিতির একটি জটিল চিত্র পাওয়া যায়। হত্যার মামলা কমেছে, কিন্তু ধর্ষণের মামলা বেড়েছে। অর্থাৎ সব ধরনের অপরাধ একই গতিতে বাড়ছে বা কমছে, এমন নয়। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পনা ও অপরাধ প্রতিরোধের কৌশলেও এই পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নির্ধারণ করতে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধীর দায়মুক্তির ধারণা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান একা এসব কারণের কোনোটিকে নিশ্চিত করে না। প্রতিটি ঘটনার পেছনের বাস্তবতা আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধর্ষণের মামলা এবং প্রকৃত ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা এক নয়। সামাজিক লজ্জা, ভয়ভীতি, পারিবারিক চাপ কিংবা অপরাধীর হুমকির কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না। আবার কোনো কোনো ঘটনায় মামলা করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তাই সরকারি হিসাবে ৫ হাজার ৩৮১টি মামলা থাকার অর্থ এই নয় যে দেশে মোট ধর্ষণের ঘটনা শুধু এতটিই ঘটেছে। এটি মূলত নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা। প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য অভিযোগ দায়েরের হার, তদন্তের অগ্রগতি এবং বিচারপ্রাপ্তির তথ্যও প্রয়োজন।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণেও উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে ৬১৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে তারা নথিভুক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে ৩৮৮ জনই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এই সংখ্যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫ হাজার ৩৮১টি মামলার সঙ্গে সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। কারণ দুটি তথ্যের উৎস, সংগ্রহপদ্ধতি এবং পরিমাপের ধরন আলাদা। তবে উভয় ক্ষেত্রেই নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়, তা স্পষ্ট।
শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। একজন শিশু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধ সম্পর্কে অনেক সময় পরিষ্কারভাবে বলতে পারে না। পরিবার, বিদ্যালয় কিংবা পরিচিত পরিবেশের কারও দ্বারা নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ জানানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেক পরিবার সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করে। ফলে শিশুদের সুরক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
অপরাধের অন্যান্য সূচকেও রয়েছে মিশ্র চিত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ডাকাতির মামলা ৫৩৮টি থেকে কমে ৩৮৭টিতে দাঁড়িয়েছে। দস্যুতার মামলা ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪টি। অপহরণের মামলা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে। দাঙ্গার ঘটনাও ৬২টি থেকে কমে ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কয়েকটি অপরাধের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় হ্রাস দেখা যাচ্ছে।
তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যেই রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে মাদকসংক্রান্ত মামলা ছিল ৩৯ হাজার ৫০টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৭২টি। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ১৪ হাজার ৩২২টি বা প্রায় ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি নথিভুক্ত মাদকসংক্রান্ত মামলার হিসাব। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই মাদকের প্রকৃত বিস্তার একই হারে বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও মামলা দায়েরের সংখ্যাও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের এই পরিসংখ্যান আলাদা করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়গুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা আলোচনায় উঠে আসছে। খুলনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে খুলনায় ১২ দিনে সাতটি হত্যাকাণ্ডের কথা উঠে আসে। এর মধ্যে পাঁচটির নেপথ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আবার ২৭ অক্টোবর মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে যুবদলের দুই নেতাসহ তিনজনকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। ৫ নভেম্বর ডুমুরিয়ায় তরিকুল ইসলাম শেখকে গুলি করে হত্যার ঘটনাও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন বাড়িয়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মাদক, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় পর্যায়ের অপরাধ পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানবাধিকার পরিস্থিতির আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ২ হাজার ৯০১টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৯ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৯২ জন। একই প্রতিবেদনে নির্বাচনী সহিংসতা, গণপিটুনি, কারাগারে মৃত্যু এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অপরাধ পরিসংখ্যানের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না; এগুলো ভিন্ন পদ্ধতিতে সংগৃহীত মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ। তবে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মূল্যায়নে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য থাকাও অস্বাভাবিক নয়। সরকারি পরিসংখ্যানে কিছু অপরাধ কমার তথ্য থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত বিচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক সহিংসতার ঘটনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে। একজন নাগরিকের কাছে অপরাধের সামগ্রিক সংখ্যা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের বাড়ি, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চলাচলের পথে নিরাপদ থাকার নিশ্চয়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় সাধারণত অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পায়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, দ্রুত তদন্ত, সাক্ষীর নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই অপরাধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা, নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বাড়ার পর শুধু গ্রেপ্তার বা মামলা দায়েরের হিসাব প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কতটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, কতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, কতটি মামলায় বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা কতটা সুরক্ষা পেয়েছেন—এসব তথ্যও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন। একইভাবে হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং অপরাধের পেছনের উদ্দেশ্য বের করা জরুরি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, অপরাধের পরিসংখ্যানে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতিফলন কতটা ঘটছে? একজন নারী রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না, একজন শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশে নিরাপদ কি না, একজন ব্যবসায়ী চাঁদাবাজি বা হামলার আশঙ্কা ছাড়া ব্যবসা করতে পারছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসের পরিসংখ্যান তাই বাংলাদেশকে একটি মিশ্র বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও অপহরণের মামলায় হ্রাসের তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে ধর্ষণের মামলা ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে এবং মাদকসংক্রান্ত মামলাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে কিছু অপরাধের পরিসংখ্যানে স্বস্তির ইঙ্গিত, অন্যদিকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্বেগ।
২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা এবং ৫ হাজার ৩৮১টি ধর্ষণ মামলা কেবল দুটি পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি মামলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের জীবন, পরিবার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। তাই অপরাধের সংখ্যা কমানোই শেষ লক্ষ্য হতে পারে না; অপরাধ প্রতিরোধ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের মানুষ এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করেন, যেখানে একজন নাগরিককে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিদিন উদ্বিগ্ন থাকতে হবে না। যেখানে নারী ও শিশুরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিরোধ কাউকে হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে না। পরিসংখ্যানের উন্নতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার প্রতিফলন ঘটবে মানুষের বাস্তব জীবনে।
আপনার মতামত জানানঃ