
ছয় মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তাঁর ভাষায় এটি ছিল দ্রুত, সীমিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান। উদ্দেশ্য—ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া, দেশটির নেতৃত্বকে আলোচনায় বাধ্য করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কিন্তু ছয় মাস পর যুদ্ধের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ইরানের সামরিক স্থাপনা ও তেল পরিবহনব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপও বেড়েছে। কিন্তু সরকার ভেঙে পড়েনি, সামরিক প্রতিরোধ শেষ হয়নি এবং তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে আত্মসমর্পণও করেনি। জুনে যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারকের পর সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও সেই ব্যবস্থা স্থায়ী হয়নি। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্য হওয়া ট্যাংকারগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে অর্থায়নকারী একটি গোপন তেল পরিবহনব্যবস্থার অংশ। পরদিন ইরানও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন একটি নৌযানে হামলার দাবি করে। তেহরানের সেই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, জুনের সমঝোতা সংঘাতের কারণগুলো দূর করতে পারেনি। AP, Reuters
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সামরিক ক্ষমতায় বহুগুণ এগিয়ে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধ শেষ করতে পারছে না?
বিজয়ের সংজ্ঞাই যখন অস্পষ্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সমস্যা তার রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে। ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা কমানো, বিপ্লবী গার্ডকে দুর্বল করা, হরমুজে নৌচলাচল নিশ্চিত করা, নাকি তেহরানের সরকার পরিবর্তন—কোন অবস্থাকে এই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় বলা হবে, তা কখনোই স্পষ্ট হয়নি।
একটি সামরিক অভিযানে নির্দিষ্ট স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব। কিন্তু একটি রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা ভিন্ন বিষয়। ইরান যদি কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, কোনো জাহাজে হামলা চালাতে পারে কিংবা হরমুজে নৌচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখতে পারে, তাহলে তেহরান দাবি করতে পারে যে তার প্রতিরোধ এখনো অটুট।
অন্যদিকে, ইরান সরকার ক্ষমতায় থাকা এবং পরমাণু সক্ষমতা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা বজায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করলে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য বিজয় হিসেবে তুলে ধরা কঠিন হবে। ফলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ বাড়লেও বেরিয়ে আসার রাজনৈতিক পথ সংকুচিত হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কার্যত তিনটি পথ রয়েছে—ব্যর্থতা স্বীকার করে সরে আসা, অনির্দিষ্টকাল থেমে থেমে হামলা চালানো অথবা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা। তৃতীয় পথটি আবার যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ও ব্যয়বহুল আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, সংঘাত আরও ছয় মাসও চলতে পারে। The Guardian
আকাশ থেকে আঘাত করা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী ইরানের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। দূরপাল্লার বোমারু বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং বিমানবাহী রণতরী ব্যবহার করে দেশটি ইরানের দৃশ্যমান সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে।
কিন্তু বিমান হামলার একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি কোনো ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ছড়িয়ে থাকা মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, ছোট নৌযান, ড্রোন এবং গোপন সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করাও প্রায় অসম্ভব।
ইরান প্রচলিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার চেষ্টা করছে না। তার কৌশল হচ্ছে যুদ্ধটিকে দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর করে তোলা। একটি মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে কোনো হামলার আশঙ্কায় শত শত জাহাজের যাত্রাপথ বদলে দেওয়া তেহরানের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ এতে সামান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেই বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা যায়।
এই অসম কৌশলই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্যে রূপান্তরিত হতে দিচ্ছে না।
হরমুজই ইরানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র
হরমুজ প্রণালি ইরানের হাতে থাকা সবচেয়ে কার্যকর ভূরাজনৈতিক অস্ত্র। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও তেল ও গ্যাসের দাম, জাহাজভাড়া এবং যুদ্ধঝুঁকি বিমায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
ইরানকে স্থল বা আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমান শক্তিশালী হতে হয় না। তাকে শুধু এমন বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে হয়, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ, বীমা প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা হরমুজকে অনিরাপদ মনে করে।
মার্চে হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়াগামী বড় তেলবাহী জাহাজের ভাড়া ২০০৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প পাইপলাইন থাকলেও সেগুলোর অতিরিক্ত সক্ষমতা সীমিত। ফলে প্রণালিটির পূর্ণ বিকল্প এখনো নেই। US Energy Information Administration, EIA—World Oil Transit Chokepoints
হরমুজকে পুরোপুরি নিরাপদ করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ইরানি নৌযান ধ্বংস করলে চলবে না। উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ঘাঁটি, রাডার এবং ছোট ছোট হামলাকারী নৌযানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। এতে যুদ্ধের পরিধি ও ব্যয় দুটোই বাড়বে।
ইরান পরাজিত, কিন্তু পরাস্ত নয়
ছয় মাসের যুদ্ধে ইরান যে গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সামরিক ক্ষতি এবং রাজনৈতিক পরাজয় এক বিষয় নয়।
বহিঃশত্রুর আক্রমণ কর্তৃত্ববাদী সরকারকে কখনো কখনো দুর্বল না করে আরও শক্তিশালী করে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ ব্যবহার করার সুযোগ পায়। জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ থাকলেও বিদেশি হামলা সেই অসন্তোষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানে পরিণত করে না।
ওয়াশিংটনের জন্য এখানেই একটি বড় দ্বিধা। সামরিক চাপ বাড়ালে ইরানের নেতৃত্ব আলোচনায় ফিরতে পারে; আবার একই চাপ শাসকগোষ্ঠীকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার রাজনৈতিক যুক্তিও দিতে পারে। ছয় মাস পরও ইরান আহত অবস্থায় টিকে আছে এবং হরমুজে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারছে—এটিই তার জন্য একটি রাজনৈতিক সাফল্য। Reuters
পরমাণু প্রশ্নের সামরিক সমাধান নেই
যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। কিন্তু বোমা হামলা কোনো দেশের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ধ্বংস করতে পারে না। গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেঁচে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো অন্য স্থানে পুনর্গঠন করা সম্ভব।
বরং দীর্ঘ যুদ্ধ ইরানের নেতৃত্বকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোর একমাত্র উপায় দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন। এ অবস্থায় সামরিক অভিযান যে ঝুঁকি দূর করতে চেয়েছিল, সেটিই উল্টো আরও তীব্র হতে পারে।
পরমাণু কর্মসূচি স্থায়ীভাবে সীমিত করতে হলে পরিদর্শন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের হিসাব, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এগুলোর কোনোটি বিমান হামলার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আলোচনায় ফিরতে গেলে উভয় পক্ষকেই এমন কিছু ছাড় দিতে হবে, যা তারা নিজেদের সমর্থকদের কাছে দুর্বলতা হিসেবে দেখাতে চায় না।
যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যে ফাঁদ তৈরি করেছে
ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের রাজনৈতিক সুযোগ সংকুচিত করেছেন। এখন কোনো বড় অর্জন ছাড়া সেনা ফিরিয়ে নিলে বিরোধীরা সেটিকে পরাজয় বলবে। আবার যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তিনি তাঁর যুদ্ধবিরোধী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবেন।
আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত একটি জরিপে মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। আফগানিস্তান যুদ্ধের একই পর্যায়ের তুলনায় এই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দীর্ঘ মোতায়েন নৌবাহিনীর সদস্যদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং যুদ্ধের ব্যয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রশ্ন তৈরি করছে। Reuters
এই অবস্থায় ওয়াশিংটন এমন এক দ্বন্দ্বে পড়েছে যেখানে সামরিক হামলা বন্ধ করলে ইরানকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হবে, আর হামলা চালিয়ে গেলে যুদ্ধের লক্ষ্য আরও দূরে সরে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হিসাবও আলাদা
ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পরমাণু সক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে দুর্বল রাখতে চায়। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে ভয় পেলেও নিজেদের তেলক্ষেত্র, বন্দর, পানি শোধনাগার এবং শহরকে পাল্টা হামলার লক্ষ্য বানাতে চায় না। ইউরোপ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিন্তু দীর্ঘ যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিরও বিরোধী। চীন ইরানি তেলের ক্রেতা এবং হরমুজে স্থিতিশীলতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সাফল্য কামনা করে না।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি নিয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নেই। এই কূটনৈতিক বিভাজন তেহরানকে সময়ক্ষেপণ ও দরকষাকষির সুযোগ দিচ্ছে।
যুদ্ধটি কেন থামে না
ইরান এমন কোনো পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত নয়, যা তার সরকারের টিকে থাকা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রও এমন কোনো সমঝোতা মানতে পারছে না, যেখানে ইরান পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অংশ ধরে রাখে।
অর্থাৎ উভয় পক্ষের ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য শর্তের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো পক্ষই পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধ চায় না। ফলে সংঘাতটি সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং কার্যকর শান্তির মাঝামাঝি একটি অবস্থায় আটকে আছে—কিছুদিন হামলা, তারপর আলোচনা; সাময়িক বিরতি, এরপর আবার পাল্টা হামলা। জুনের সমঝোতার পর সেপ্টেম্বরের নতুন সংঘর্ষ এই চক্রেরই প্রমাণ।
বাংলাদেশের জন্য দূরের যুদ্ধ নয়
বাংলাদেশ যুদ্ধের কোনো পক্ষ নয়, কিন্তু এর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে বিচ্ছিন্নও নয়। দেশের জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, পরিবহনব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা সরাসরি প্রভাব ফেলে।
দীর্ঘ যুদ্ধ তেল ও এলএনজির আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ব্যাহত হলে রেমিট্যান্সও ঝুঁকিতে পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি তৈরি হতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জুনের মূল্যায়নেও ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার চাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। World Food Programme
সুতরাং হরমুজে একটি ট্যাংকারে হামলা বাংলাদেশের বাজারে চাল, সার, বিদ্যুৎ কিংবা বাসভাড়ার হিসাবেও এসে পৌঁছাতে পারে।
শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ নয়, রাজনীতিই নির্ধারণ করবে ফল
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বহু স্থাপনা ধ্বংস করতে পারে, আরও ট্যাংকার অচল করতে পারে এবং অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই নিজে থেকে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করবে না।
যুদ্ধ শেষ করার জন্য এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর যাচাইযোগ্য সীমা থাকবে, হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে এবং তেহরানও অন্তত ন্যূনতম নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। আপাতত কোনো পক্ষই সেই সমঝোতার রাজনৈতিক মূল্য দিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।
সে কারণেই ছয় মাসের যুদ্ধ সামনে আরও ছয় মাস চলার আশঙ্কা অমূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সামরিক শক্তির ঘাটতি নয়; সমস্যা হলো, শক্তি প্রয়োগের পর কোন বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক অবস্থায় থামতে হবে, তার উত্তর ওয়াশিংটনের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়।
ইরানকে আঘাত করা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজ হয়েছে। কিন্তু ইরানকে এমনভাবে পরাজিত করা—যাতে তেহরান প্রতিরোধ বন্ধ করে, পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে এবং একই সঙ্গে গোটা মধ্যপ্রাচ্য নতুন যুদ্ধে না জড়ায়—সেটিই অসম্ভবের কাছাকাছি কঠিন হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত জানানঃ