যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু কোনো যুদ্ধ যখন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খরচ বাড়িয়ে দেয়, তখন সেটি আর কেবল পররাষ্ট্রনীতি বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে না—তা ঘরের বাজার, গাড়ির জ্বালানি, ব্যবসার খরচ এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের সিদ্ধান্তের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এভাবেই দেখছেন মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতি পর্যবেক্ষকেরা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় যে ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার সবটা বাস্তবে ঘটেনি। তেলের দামও পুরো সময়জুড়ে ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ী হয়নি। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এখন মার্কিন নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের দাম নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেকেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুদ্ধের সম্পর্ক দেখছেন।
এখানেই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার মতো যুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সাধারণ নাগরিক যখন গাড়িতে তেল ভরাতে গিয়ে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করেন, তখন আন্তর্জাতিক কৌশলের যুক্তি অনেক সময় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে যায়।
সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক তথ্যগুলোও সেই বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৪৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং জ্বালানির মূল্য নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ভোটারদের মধ্যেই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।
তবে পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু জ্বালানির দাম নয়। যুদ্ধের সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের আস্থা এবং সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের ধারণাও যুক্ত হচ্ছে। ডেভিড ওয়ালেস-ওয়েলসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নটি নতুন করে বড় হয়ে উঠেছে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত তাঁর কলামে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধসংক্রান্ত জনমতেও ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ তাঁর রাজনৈতিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
অবশ্য এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো জরিপ বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট দল জিতবে বা হারবে। ভোট এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি, প্রার্থীদের প্রচারও চলছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধের গতিপথ, জ্বালানির দাম, প্রার্থীদের প্রচারণা এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক ঘটনাগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে পরিবর্তন করতে পারে।
তারপরও ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নীতির সঙ্গে নির্বাচনের আগে ভোটারদের অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম কমার কোনো দ্রুত সম্ভাবনা না থাকলে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরোপুরি কমে নাও আসতে পারে। ৯ সেপ্টেম্বরের এক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, তেলের দাম নির্বাচনের পর কমতে পারে। রয়টার্সও ২২ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, ইরান নিয়ে যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য সহজেই বোঝা যায়। একটি প্রশাসন যদি নির্বাচনের আগে মানুষের ব্যয়ের চাপ কমাতে না পারে, বরং প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেন যে পরিস্থিতির উন্নতি নির্বাচনের পর হতে পারে, তাহলে বিরোধীরা সেটিকে প্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায়। আর ভোটারের কাছে প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়—বর্তমান নীতির মূল্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটা দিচ্ছেন?
ট্রাম্প অবশ্য যুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থানকে নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তাঁর যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে একই সিদ্ধান্তের আরেকটি দিক হলো—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, তত বেশি অর্থ ব্যয় হয়, তত বেশি জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং তত বেশি সময় ধরে জনগণকে এর অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হয়।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত ওয়ালেস-ওয়েলসের বিশ্লেষণে যুদ্ধের সামরিক ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানে পেন্টাগনের ব্যয় ইতিমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং মাসে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। একই লেখায় দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের জ্বালানি-সংক্রান্ত প্রভাব মার্কিন অর্থনীতিতে বড় অতিরিক্ত ব্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধের আরেকটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হলো সময়। কোনো সামরিক অভিযান যদি দ্রুত শেষ হয়, তাহলে সরকার সেটিকে সফল অভিযান হিসেবে তুলে ধরতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রশ্ন বদলে যায়। তখন জনগণ জানতে চায়—কতদিন চলবে, কত খরচ হবে এবং এর শেষ কোথায়?
ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নই ক্রমশ সামনে আসছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির বিষয়টি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হিসেবে হরমুজে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ও শেষদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আবারও বাড়তে দেখা গেছে। রয়টার্সের ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে হরমুজ দিয়ে তেল প্রবাহ, সৌদি আরবের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অনিশ্চয়তাকে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ যুদ্ধের প্রভাব শুধু ওয়াশিংটন বা তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের মতো গাড়িনির্ভর অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, খাদ্যদ্রব্য এবং বিভিন্ন সেবার খরচেও পড়তে পারে।
এই জায়গাতেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সংঘাত তৈরি হচ্ছে। ট্রাম্প যদি বলেন যে যুদ্ধের মূল্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়, আর একজন সাধারণ নাগরিক যদি বলেন যে সেই মূল্য তাঁকে বেশি দামে পেট্রল কিনে দিতে হচ্ছে, তাহলে দুজনের কাছে ‘মূল্য’ শব্দটির অর্থ এক নয়।
এটি শুধু ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সমস্যা নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনীতি ও জ্বালানির দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এপি জানিয়েছে, কিছু ট্রাম্প সমর্থকও যুদ্ধের অর্থনৈতিক মূল্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অনেক রিপাবলিকান ভোটার এখনো দলীয় অবস্থানের প্রতি অনুগত রয়েছেন। ফলে পরিস্থিতিকে একমুখী রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
তবু ট্রাম্পের জন্য সমস্যাটি হলো, অর্থনীতি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে রাজনৈতিক বিভাজনের সীমা অনেক সময় দুর্বল হয়ে যায়। একজন রিপাবলিকান ও একজন ডেমোক্র্যাট—দুজনই একই পাম্পে দাঁড়িয়ে একই দামে জ্বালানি কেনেন। একইভাবে ছোট ব্যবসার মালিক, ডেলিভারি কর্মী কিংবা প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে কাজে যাওয়া মানুষ—তাঁদের প্রত্যেকের জন্য জ্বালানির দাম একটি বাস্তব ব্যয়।
সেপ্টেম্বরের জরিপগুলোতেও ট্রাম্পকে ঘিরে নেতিবাচক ধারণার বিভিন্ন দিক উঠে আসছে। ইকোনমিস্ট-ইউগভের ১১–১৪ সেপ্টেম্বরের জরিপে ১,৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ট্রাম্পকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ৫১ শতাংশ ‘বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এগুলো অবশ্য জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত, কোনো স্বাধীনভাবে নির্ধারিত মূল্যায়ন নয়। জরিপটির ত্রুটিসীমাও রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের আরেকটি বৈশিষ্ট্যও সামনে এসেছে। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনকে প্রায় ৯০০ বার উল্লেখ করেছেন এবং অর্থনীতি, অভিবাসন, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি ও অন্যান্য সমস্যার জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
কিন্তু নির্বাচনের সময় একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি বর্তমান সমস্যার জন্য কতটা অতীতকে দায়ী করতে পারবেন?
ভোটাররা যদি মনে করেন তাঁদের বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, তাহলে আগের সরকারের ব্যর্থতার আলোচনা সব সময় তাঁদের উদ্বেগ দূর করবে না। আবার যদি অর্থনীতি বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে উন্নতি আসে, তাহলে একই রাজনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
এই কারণেই আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের বাজার কোন দিকে যায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কতটা দীর্ঘ হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় এবং সাধারণ মার্কিন পরিবারের ব্যয় কতটা বাড়ে—এসব বিষয় রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত যুদ্ধটি শুরু করা নিয়ে নয়; বরং যুদ্ধটি কীভাবে শেষ হবে, সেটি নিয়ে। একটি সামরিক অভিযানকে রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেষ পর্যন্ত তার একটি পরিষ্কার লক্ষ্য, অর্জন এবং সমাপ্তির গল্প প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সেই গল্পকে জটিল করে তোলে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য শুধু পররাষ্ট্রনীতির পরীক্ষা নয়। এটি তাঁর অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, জ্বালানি নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাখ্যা এবং নির্বাচনী রাজনীতিরও পরীক্ষা।
যে প্রেসিডেন্ট জনগণকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর জন্য জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। আর সেই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যদি একটি চলমান যুদ্ধের সম্পর্ক থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও জটিল হয়।
সামনের মধ্যবর্তী নির্বাচন তাই শুধু রিপাবলিকান বনাম ডেমোক্র্যাটের লড়াই নয়; এটি অনেক ভোটারের কাছে বর্তমান সরকারের নীতির বাস্তব মূল্যায়নের সুযোগও হতে পারে। তবে সেই মূল্যায়নের ফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পূর্বাভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন ভোটাররাই। এখন পর্যন্ত যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো—ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক মূল্যও ক্রমেই মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসছে। তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় যদি মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় আরও বড় হয়ে ওঠে, তাহলে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
আর সেই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু যুদ্ধ পরিচালনা করা নয়—যুদ্ধের মূল্য কে দিচ্ছে, কতদিন দেবে এবং সেই মূল্য সম্পর্কে মার্কিন ভোটাররা কী ভাবছেন, সেটিও সামলানো।
আপনার মতামত জানানঃ