বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন আর কেবল স্বল্প আয়ের মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি দেশের পরিবহনব্যবস্থা ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা এবং স্বল্প দূরত্বে দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং সরকারি রাজস্বসংক্রান্ত নানা সংকট।
জাতীয় সংসদে সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান চলাচল করছে। এসব যান প্রতিদিন দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। বিপুলসংখ্যক যানবাহনের একসঙ্গে চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার ওপরও বাড়ছে চাপ। এর পাশাপাশি অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি শুধু বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এ খাতের বড় একটি অংশ এখনো যথাযথ নিবন্ধন, লাইসেন্স, নির্ধারিত রুট ও চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। ফলে একদিকে যেমন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হয়েছে একটি বড় অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন খাত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইককে ঘিরে একটি বিস্তৃত অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত চালক ও মালিকদের পাশাপাশি গ্যারেজ মালিক, মেকানিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, চার্জিং সেবাদাতা এবং ছোট উদ্যোক্তারাও। অর্থাৎ রাস্তায় চলা একটি ব্যাটারিচালিত রিকশার পেছনে নির্ভরশীল রয়েছে আরও বহু মানুষের আয়-রোজগার।
এই কারণেই ব্যাটারিচালিত যান বন্ধ করে দেওয়ার প্রশ্নটি কেবল পরিবহন নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল মানুষের জীবিকা। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এসব যান অনেক ক্ষেত্রে সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহন। বিশেষ করে শহরের অলিগলি, গ্রামীণ সড়ক এবং স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে এগুলোর ব্যবহার ব্যাপক। ফলে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হলে মানুষের জীবিকা ও সাধারণ যাত্রীদের পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিপুলসংখ্যক যান যখন একই সময়ে চার্জে দেওয়া হয়, তখন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবাসিক বা অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে ট্রান্সফরমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায় এবং কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে চার্জিং ব্যবস্থার বৈধতা ও সক্ষমতা নিয়ে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। বিপরীতে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। অর্থাৎ বৈধ অবকাঠামোর তুলনায় অনানুষ্ঠানিক চার্জিং ব্যবস্থার বিস্তার অনেক বেশি।
এই অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থার আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব ও রাজস্ব আদায়। অনুমোদিত বাণিজ্যিক সংযোগের পরিবর্তে আবাসিক কিংবা অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালিত হলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারের রাজস্বও কমে। সব মিলিয়ে এই খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সমস্যা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রিক নয়; পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও রয়েছে বড় ঝুঁকি। এসব যানবাহনে ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহার না করা হলে মাটি ও পানিতে দূষণ ছড়াতে পারে। পুরোনো ব্যাটারি অনানুষ্ঠানিকভাবে ভাঙা বা পুনর্ব্যবহার করার সময় ক্ষতিকর উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শিশু, শ্রমিক এবং ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারকারী কর্মীদের ওপর।
অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে বায়ুদূষণও বাড়তে পারে। এর প্রভাব আশপাশের পরিবেশ ও স্থানীয় ব্যবসার ওপর পড়ার পাশাপাশি পোলট্রি শিল্পের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের সময় শুধু যান চলাচলের সময়কার দূষণ নয়, ব্যাটারি উৎপাদন, ব্যবহার, সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়াটিকেই বিবেচনায় নিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগের জায়গা। নিবন্ধনহীন যানবাহন, প্রশিক্ষণহীন চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলো, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল।
এই পরিসংখ্যান ব্যাটারিচালিত যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। কারণ একটি যানবাহনের সংখ্যা যতই বেশি হোক, সেটি যদি যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ, চালকের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার আওতায় না থাকে, তাহলে সড়কে ঝুঁকি থেকেই যায়। একই সঙ্গে দ্রুতগতির যান ও ধীরগতির যান একই সড়কে চলাচল করলে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
এ কারণেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ যান আটক করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিছু যান ডাম্পিং করছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত গ্যারেজের বিরুদ্ধেও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ লাখ লাখ যান এবং বিপুলসংখ্যক চালক ও মালিককে কেবল নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনলে তাদের জীবিকা ও যাত্রী পরিবহনে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকার এখন এই খাতকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রস্তাবিত নিয়ম ও নীতিমালার খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অনুমোদিত যানবাহনকে নম্বরপ্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চালকদের নিবন্ধন করা হবে এবং লাইসেন্স দেওয়ার আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
এর ফলে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কে চালাচ্ছেন, কোথায় চলছে এবং সেটি বৈধ কি না—এসব তথ্য সহজে যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে যানবাহনের নিবন্ধন, নির্ধারিত রুট, চালকের নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে ধীরগতির যানবাহনকে ছোট ও স্থানীয় সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো যেতে পারে।
তবে শুধু যানবাহন নিবন্ধন করলেই সমস্যার সব সমাধান হবে না। চার্জিং ব্যবস্থাকেও বৈধ ও পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। কোথায় চার্জিং স্টেশন হবে, কী ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হবে, কতগুলো যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়া যাবে এবং বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব কী হবে—এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বৈধ চার্জিং অবকাঠামো বাড়ানো গেলে অবৈধ সংযোগের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিও কমতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, কার্যকর নজরদারি এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়।
ব্যাটারির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকার পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত ব্যাটারি কীভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার করা হবে, তার জন্যও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। কারণ পরিবেশবান্ধব যানবাহনের নামে যদি ক্ষতিকর ব্যাটারি ব্যবহারের পর তা অনিরাপদভাবে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে পরিবেশগত সমস্যার একটি নতুন চক্র তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং যুক্ত করা হলে একটি নম্বর ব্যবহার করে একাধিক যানবাহন চালানোর মতো অনিয়ম ঠেকানো সহজ হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চাইলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বাংলাদেশের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল অনানুষ্ঠানিক পরিবহন খাতকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যায়, অথচ এর সঙ্গে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা যাতে হঠাৎ বিপন্ন না হয়। ব্যাটারিচালিত রিকশা একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর চাপ তৈরি করছে, রাজস্ব ক্ষতি ঘটাচ্ছে এবং সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছে; অন্যদিকে এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থার এমন একটি বাস্তবতা, যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তাই সমাধান হতে পারে নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পাশাপাশি ধাপে ধাপে বৈধকরণ, নিবন্ধন, চালকের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট রুট, নিরাপদ চার্জিং অবকাঠামো এবং পরিবেশসম্মত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে চালকদের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং মালিকদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান যদি সত্যিই দেশের দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে, তাহলে এটি আর ছোট কোনো পরিবহন খাতের বিষয় নয়। এটি এখন জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ সুরক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বড় নীতিগত প্রশ্ন।
সরকারের সামনে তাই দ্বৈত দায়িত্ব। একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনিয়ম ও রাজস্ব ক্ষতি বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী পরিবহন এবং সংশ্লিষ্টদের জীবিকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সফল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বৈধ যানবাহন ও চালকরা সহজে নিবন্ধিত হবেন, নিরাপদ রুটে চলবেন, নির্ধারিত ও বৈধ চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করবেন এবং পরিবেশসম্মত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকবেন।
অবশেষে, ব্যাটারিচালিত রিকশাকে শুধু ‘অবৈধ যান’ হিসেবে দেখলে সমস্যার একটি অংশই দেখা হবে। এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কর্মসংস্থান এবং একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি। আবার এটিকে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়ে চলতে দিলেও বিদ্যুৎ, পরিবেশ, রাজস্ব ও সড়ক নিরাপত্তার সংকট আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের জন্য টেকসই পথ তাই সম্ভবত নিষেধাজ্ঞা বা অবাধ বিস্তারের মাঝামাঝি—একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা। সেই কাঠামোর সফল বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে, ব্যাটারিচালিত রিকশা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বোঝা হয়ে থাকবে, নাকি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হবে।
আপনার মতামত জানানঃ