রাজধানীর ব্যস্ত নগরীতে রাতের আঁধারে দুই শতাধিক মানুষ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে পড়ল। তাদের কারও মুখে মুখোশ, কারও হাতে দেশীয় অস্ত্র। নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে শুরু হলো লুটপাট। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি এনে ভেঙে ফেলা হলো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একের পর এক স্থাপনা। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠল। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই ঘটনার পর নয়, বরং ঘটনার সময়—এত বড় একটি ঘটনা চলল কীভাবে?
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু পুরো ঘটনার মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি কেবল একটি থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ নিজেই বলেছেন, এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তিনি আরও জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
এই বক্তব্যগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার জন্য যথেষ্ট। কারণ সাধারণ মানুষ যখন কোনো বিপদের মুখে পড়ে, তখন তার প্রথম প্রত্যাশা থাকে—পুলিশ আসবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং অপরাধীকে আটক করবে। কিন্তু যদি একটি বড় দল প্রকাশ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে পারে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার নজরদারি কোথায় ছিল?
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এটি কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা, টিকাদান, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। হামলার পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে। অর্থাৎ একটি অপরাধ শুধু একটি ভবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ওপরও।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তার করেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে চারজন গ্রেপ্তারের কথা এসেছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পরে মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। কিন্তু নাগরিকদের প্রশ্ন হচ্ছে—অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে বা চলাকালে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কোথায় ছিল?
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের পর গ্রেপ্তার করা পুলিশের একটি দায়িত্ব। কিন্তু অপরাধ প্রতিরোধ করাও পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে কোনো স্থানে যদি বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকে, তাহলে সেটি এমন কোনো ঘটনা নয় যা কয়েক মিনিটের মধ্যে নিঃশব্দে ঘটে যাওয়ার কথা।
ডিএমপি কমিশনারও বলেছেন, স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে ঘটনাটি মাত্র ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণেই পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখানেই সামনে আসে জবাবদিহির বিষয়টি। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে ব্যর্থ হলে তাঁকে প্রত্যাহার করা কিংবা বিভাগীয় মামলা করা একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও বড় প্রশ্ন হলো—কেন এমন ব্যর্থতা ঘটল? স্থানীয় থানার কাছে কি আগেই কোনো তথ্য ছিল? থাকলে তা কেন কাজে লাগানো হয়নি? কোনো সতর্কবার্তা কি উপেক্ষা করা হয়েছিল? ঘটনাস্থলের আশপাশে টহল বা নজরদারি ছিল কি না? জরুরি নম্বরে কোনো কল গিয়েছিল কি না? গেলে পুলিশ কত সময়ের মধ্যে সাড়া দিয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত থেকেই বেরিয়ে আসা উচিত।
কারণ শুধু একজন কর্মকর্তাকে বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। একজন ওসিকে প্রত্যাহার করা হলে হয়তো প্রশাসনিক দায়ের একটি অংশ নির্ধারিত হয়, কিন্তু একই ধরনের ঘটনা যাতে আবার না ঘটে, তার জন্য কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ঘটনা এই আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে। ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দখল ও ভাঙচুর—বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের পর ডিএমপি ২০০টির বেশি চেকপোস্ট বসানোর কথা জানিয়েছিল। এক দিনের অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও পুলিশ জানিয়েছিল।
অর্থাৎ এটা বলা ঠিক হবে না যে পুলিশ কোনো কাজই করছে না। বরং পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার, চেকপোস্ট ও টহলের তথ্য রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে পুলিশ তৎপরতা জোরদার করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা হয়েছে এবং হাজার হাজার মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছে।
কিন্তু একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো—অভিযানের পরিমাণ আর নাগরিকের নিরাপত্তাবোধ এক বিষয় নয়।
পুলিশ শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করতে পারে, শত শত চেকপোস্ট বসাতে পারে, বিপুলসংখ্যক মামলা করতে পারে; তারপরও যদি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো স্থাপনায় বড় একটি দল ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালাতে পারে, তাহলে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ পুলিশের সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি শুধু কতজন গ্রেপ্তার হলো তা নয়; বরং সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে তার দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারছে, সেটিও।
এখানে আরেকটি সমস্যা রয়েছে—রাজনৈতিক পরিচয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; অপরাধী সে অপরাধীই। এই নীতিটি বাস্তবে প্রয়োগ করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধী ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হোক, বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত হোক কিংবা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই না থাকুক—আইনের প্রয়োগ একই হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পুলিশ ভিন্ন আচরণ করছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। কোথাও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, কোথাও দখলদারির অভিযোগ, কোথাও পুলিশের নীরবতার অভিযোগ। এসব অভিযোগের সবগুলো সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবার অভিযোগগুলোকে একেবারে অগ্রাহ্য করাও যায় না। কারণ এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্যই স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনাটি সেই জায়গায় একটি পরীক্ষা। তদন্ত যদি দেখায় পুলিশ সত্যিই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তাহলে কেন নেয়নি—তার উত্তর প্রয়োজন। আর যদি তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না মেলে, সেটিও স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো দরকার।
কারণ জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়।
একজন নাগরিক যখন ৯৯৯-এ ফোন করেন, তখন তিনি শুধু একটি নম্বরকে ফোন করেন না; তিনি রাষ্ট্রের কাছে সাহায্য চান। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে যায়, তখন নাগরিকের প্রত্যাশা থাকে আইন প্রয়োগ হবে। কিন্তু যদি মানুষ মনে করতে শুরু করে যে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ লোকজনের সামনে পুলিশ অসহায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জায়গাটিই দুর্বল হয়ে যায়।
এ কারণে পুলিশের সামনে এখন দুটি সমান্তরাল দায়িত্ব। প্রথমত, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নিজেদের ভেতরের ব্যর্থতা বা অপরাধের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে শুধু বদলি যথেষ্ট নয়; ফৌজদারি অপরাধ হলে নিয়মিত মামলাও হতে পারে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ বরদাশত করা হবে না—এমন কথাও তিনি বলেছেন। এই অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পুলিশের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা আসলে খুব সাধারণ—বিপদের সময় পুলিশ পাশে থাকবে। কোনো দল, পরিচয় বা প্রভাব দেখে নয়; অপরাধ দেখে ব্যবস্থা নেবে। কোনো সংঘবদ্ধ দল যদি একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলে, পুলিশ সেটি ঠেকাবে। কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের সম্পদ দখল করতে যায়, পুলিশ তাকে থামাবে। কেউ যদি জননিরাপত্তা বিপন্ন করে, তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করবে।
এই জায়গায় পুলিশের ব্যর্থতা শুধু পুলিশের সমস্যা নয়। এটি রাষ্ট্রের সমস্যা।
তবে সমাধানও কেবল পুলিশের হাতে নেই। রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে তাদের কর্মীদের অপরাধে জড়িত না হতে দেওয়া। প্রশাসনের দায়িত্ব স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহ ও সমন্বয় শক্তিশালী করা। বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। আর গণমাধ্যমের দায়িত্ব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা—প্রমাণিত সত্য হিসেবে নয়।
রাড্ডা সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ তাই এখন একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ভেঙে পড়েছে শুধু কয়েকটি দেয়াল নয়; মানুষের মনে থাকা একটি প্রশ্নও আরও জোরালো হয়েছে—বিপদের সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো আসলে কতটা প্রস্তুত?
এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, তদন্তে দিতে হবে। কতজন গ্রেপ্তার হলো—তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে কারা হামলা করেছিল, কীভাবে তারা এত বড় একটি দল নিয়ে সেখানে পৌঁছাল, কতক্ষণ ধরে কর্মকাণ্ড চলল, পুলিশ কী জানত, কখন জানত এবং জানার পর কী করেছিল।
শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনীকে শুধু তার অভিযান দিয়ে বিচার করা যায় না। তাকে বিচার করতে হয় প্রতিরোধের সক্ষমতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহির মাধ্যমে।
মিরপুরের ঘটনাটি সেই পরীক্ষারই একটি বড় উদাহরণ। তদন্ত যদি সত্যিই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ দেয়, তাহলে শুধু একজন ওসিকে প্রত্যাহার করে বিষয়টি শেষ করা যথেষ্ট হবে না। জানতে হবে কেন পুরো ব্যবস্থাটি ব্যর্থ হলো এবং একই ব্যর্থতা যাতে আবার না ঘটে, তার জন্য কী পরিবর্তন আনা হবে।
কারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়—এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
আপনার মতামত জানানঃ