
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের অনেক সংবাদমাধ্যম সত্য প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছিল—এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ সামান্য। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় বক্তব্য প্রশ্নহীনভাবে প্রচার করা, নিহতের সংখ্যা ও দমন-পীড়নের মাত্রা আড়াল করা এবং প্রতিবাদকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ তখন থেকেই রয়েছে। সেই ব্যর্থতার নৈতিক ও পেশাগত বিচার হওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু পেশাগত ব্যর্থতা, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ—এই তিনটি এক নয়। একটির প্রতিকার জনসমালোচনা, সম্পাদকীয় জবাবদিহি বা পেশাগত শাস্তি হতে পারে; অন্যটির জন্য প্রয়োজন অপরাধ সংঘটনে সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায়, কার্যকর সহায়তা এবং শক্ত প্রমাণ। এই পার্থক্য মুছে গেলে সাংবাদিকতার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং রাষ্ট্রের হাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন অস্ত্র তৈরি হয়।
২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার এখনো শুরু হয়নি এবং কোনো আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেননি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলা ট্রিবিউন
অভিযোগটি কী
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের হত্যা ও নির্যাতনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই তিনজনের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের করা প্রশ্নও অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। Associated Press
এই জায়গাতেই মামলাটি সাধারণ কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন যতই পক্ষপাতদুষ্ট, অস্বস্তিকর কিংবা ক্ষমতাসীনদের অনুকূল হোক—প্রশ্নটি নিজে অপরাধ প্রমাণ করে না। তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি হিসেবে গণ্য করতে হলে দেখাতে হবে, প্রশ্নটির লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটনে অন্যকে প্ররোচিত করা এবং তার সঙ্গে পরবর্তী সহিংসতার বাস্তব ও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে।
তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে কি না, সেটি আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে অভিযোগ যদি প্রধানত প্রশ্নের ভাষা, রাজনৈতিক অবস্থান বা সম্পাদকীয় পক্ষপাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে মামলাটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক নজির হয়ে উঠবে।
সাংবাদিকতা কি দায়মুক্তির পেশা?
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার অর্থ সাংবাদিককে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা নয়। কোনো সাংবাদিক যদি হত্যার নির্দেশ দেন, অপরাধ সংঘটনে পরিকল্পিতভাবে সহায়তা করেন, হামলাকারীদের তথ্য সরবরাহ করেন, প্রমাণ ধ্বংস করেন কিংবা জেনেশুনে মানুষ হত্যায় সরাসরি প্ররোচনা দেন—তাঁর পেশাগত পরিচয় ফৌজদারি দায় থেকে রক্ষা করতে পারে না।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও গণহত্যার ইতিহাসে প্রচারযন্ত্রের অপরাধমূলক ভূমিকার নজির রয়েছে। রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় একটি বেতারকেন্দ্র নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছিল, হত্যার লক্ষ্য চিহ্নিত করেছিল এবং আক্রমণকারীদের সক্রিয়ভাবে নির্দেশনা দিয়েছিল। সেটি শুধু পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতা ছিল না; ছিল গণহত্যার কার্যকর অবকাঠামোর অংশ।
কিন্তু বাংলাদেশের আলোচিত মামলায়ও যদি একই ধরনের অপরাধমূলক ভূমিকার অভিযোগ করা হয়, তাহলে প্রমাণের মানও হতে হবে সেই মাত্রার। কে কোন প্রশ্ন করলেন, কার অনুষ্ঠান সরকারের পক্ষে ছিল, কিংবা কে আন্দোলনের ভাষ্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেননি—এসব দিয়ে নৈতিক ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে; কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিষ্ঠার জন্য এগুলো একা যথেষ্ট হওয়ার কথা নয়।
এই পার্থক্যটি রক্ষা করা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের জন্যও জরুরি। কারণ দুর্বল বা অতিরঞ্জিত অভিযোগ গুরুতর অপরাধের বিচারকে শক্তিশালী করে না; বরং পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
‘উসকানি’ নির্ধারণের মানদণ্ড
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক, মতপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, আদালত অবমাননা, মানহানি কিংবা কোনো অপরাধে উসকানির ক্ষেত্রে আইন দ্বারা যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগও রেখেছে। অর্থাৎ মতপ্রকাশের অধিকার সীমাহীন নয়; কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতাও হতে হবে আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত। বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৯
জাতিসংঘের ‘রাবাত কর্মপরিকল্পনা’ কোনো বক্তব্যকে ফৌজদারি উসকানি হিসেবে বিবেচনার আগে ছয়টি বিষয় যাচাইয়ের কথা বলে: বক্তব্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বক্তার অবস্থান ও প্রভাব, অপরাধে প্ররোচিত করার অভিপ্রায়, বক্তব্যের বিষয়বস্তু ও ভাষা, সেটি কত দূর ছড়িয়েছে এবং বাস্তবে ক্ষতি সংঘটনের সম্ভাবনা কতটা ছিল। এ মানদণ্ড খুব উঁচু রাখা হয়েছে—যাতে আপত্তিকর বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং অপরাধমূলক উসকানির মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর
তিন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে তাই শুধু তাঁদের বক্তব্য বা প্রশ্নের অংশবিশেষ তুলে ধরা যথেষ্ট হবে না। রাষ্ট্রপক্ষকে দেখাতে হবে, কোন বক্তব্যটি কখন দেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী ছিল, বক্তব্যদাতা কী উদ্দেশ্যে সেটি বলেছিলেন, কারা সেটি শুনেছিলেন এবং তার ফলে কোন নির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
‘প্রশ্নের পর গুলি চলেছে’ এবং ‘গুলি চালানোর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা হয়েছিল’—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি। প্রথমটি সময়ের ধারাবাহিকতা; দ্বিতীয়টি অপরাধমূলক অভিপ্রায় ও কার্যকারণের অভিযোগ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই ব্যবধান অনুমান দিয়ে পূরণ করা যায় না।
পুরোনো পক্ষপাতের বদলে নতুন প্রতিশোধ?
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ধরন বদলেছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা পুরোপুরি বদলায়নি। এক সরকারের সময় কোনো সংবাদমাধ্যম ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, পরবর্তী সরকারের সময় সেটিই গ্রহণযোগ্য; আবার আগে ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাংবাদিকেরা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হন।
এভাবে সাংবাদিকতার মান রাজনৈতিক আনুগত্য দিয়ে নির্ধারিত হলে সংবাদমাধ্যম কখনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে না। তখন সাংবাদিকেরা সত্য, জনস্বার্থ ও পেশাগত নীতির পরিবর্তে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদল মাথায় রেখে কাজ করবেন।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা CPJ বলেছে, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে; কিন্তু কেবল সেই কারণে তাকে অপরাধে রূপান্তর করা বিপজ্জনক নজির তৈরি করে। সংগঠনটি বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ভিত্তি করার সমালোচনা করেছে। CPJ
CPJ আরও জানিয়েছে, এই সাংবাদিকেরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় আটক আছেন এবং পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোতে দীর্ঘ সময়েও অভিযোগপত্র বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন না হওয়ার প্রশ্ন রয়েছে। এটি আদালতের বর্তমান মামলার ফল নির্ধারণ করে না; তবে দীর্ঘ প্রাক্-বিচার আটক এবং এক মামলার পর আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বচ্ছতা দাবি করে। CPJ-এর এপ্রিল ২০২৬-এর বিবৃতি
ভয়টি শুধু তিনজনের নয়
এই মামলার সবচেয়ে গভীর প্রভাব আদালতকক্ষের বাইরের সংবাদকক্ষে পড়তে পারে। একজন প্রতিবেদক যদি মনে করেন, ক্ষমতাসীন ব্যক্তিকে করা প্রশ্ন ভবিষ্যতে সরকার বদলালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, তাহলে তিনি প্রশ্ন করার আগে জনস্বার্থ নয়—নিজের নিরাপত্তা হিসাব করবেন।
একই ভয় বিপরীতভাবেও কাজ করবে। কোনো সাংবাদিক সরকারের কঠোর সমালোচনা করলে ভবিষ্যতে তাঁকে ‘অস্থিরতায় উসকানিদাতা’ বলা হতে পারে। আবার সরকারের পক্ষে প্রশ্ন করলে ‘দমন-পীড়নের সহযোগী’ হওয়ার অভিযোগ আসতে পারে। ফলে নিরাপদ পথ হয়ে উঠবে নীরবতা, অস্পষ্টতা এবং ঝুঁকিহীন সংবাদ পরিবেশন।
এটিই সংবাদমাধ্যমের ওপর ‘চিলিং ইফেক্ট’—আইন প্রয়োগের ভয় যখন সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই মানুষকে নিজের বক্তব্য সংযত বা বন্ধ করতে বাধ্য করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এর ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নাগরিকের জানার অধিকারকে সংকুচিত করে।
তিন সাংবাদিকের অতীত ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা থাকতে পারে। তাঁদের সংবাদমাধ্যম জুলাই আন্দোলনে কতটা ন্যায়সংগত ভূমিকা রেখেছিল, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু অপছন্দের সাংবাদিকের অধিকার রক্ষা করাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রকৃত পরীক্ষা। জনপ্রিয় সাংবাদিকের স্বাধীনতা রক্ষায় খুব বেশি সাহস লাগে না; রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় সাংবাদিকের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করাই আইনের শাসনের পরীক্ষা।
প্রয়োজন জবাবদিহির পৃথক ব্যবস্থা
বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের পেশাগত জবাবদিহি দুর্বল বলেই অনেক বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলায় গিয়ে ঠেকে। কার্যকর প্রেস কাউন্সিল, স্বাধীন সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মালিকানার স্বচ্ছতা, সম্পাদকীয় নীতিমালা, প্রকাশ্য সংশোধনী ব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য আচরণবিধি থাকলে পক্ষপাতদুষ্ট বা ক্ষতিকর সাংবাদিকতার প্রতিকার আদালতের বাইরেও সম্ভব।
প্রকাশিত তথ্য ভুল হলে সংশোধন, বিদ্বেষমূলক উপস্থাপনা হলে পেশাগত তদন্ত, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা প্রচার হলে আনুপাতিক ব্যবস্থা এবং সরাসরি অপরাধে সহযোগিতা থাকলে ফৌজদারি বিচার—এই স্তরগুলো আলাদা করা প্রয়োজন।
সব ব্যর্থতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বললে শব্দটির ঐতিহাসিক ও আইনগত গুরুত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার সাংবাদিকতার আড়ালে প্রকৃত অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু পেশার অজুহাতে দায়মুক্তি দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। সমাধানটি কোনো এক প্রান্তে নেই; রয়েছে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রকাশ্য প্রমাণ এবং ন্যায়সংগত বিচারের মধ্যে।
যে উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সামনে দুটি দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও নির্যাতিত মানুষের জন্য সত্যিকারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, সেই বিচার করতে গিয়ে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরপরাধ বিবেচিত হওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা জেনেশুনে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সহিংসতা সংঘটনে কার্যকর সহায়তা করেছেন, তাহলে প্রমাণ আদালতে তুলে ধরতে হবে এবং তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। আর অভিযোগ যদি মূলত রাজনৈতিক আনুগত্য, সম্পাদকীয় পক্ষপাত কিংবা সংবাদ সম্মেলনে করা প্রশ্নের ওপর দাঁড়ায়, তাহলে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করাই আইনের শাসনের দাবি।
রাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করতে হবে—এটি অপরাধের বিচার, রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিশোধ নয়।
কারণ প্রশ্নের উত্তর ভুল হতে পারে, প্রশ্ন পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে, এমনকি কোনো প্রশ্ন ক্ষমতার প্রচারণাকেও সাহায্য করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন করাই যদি অপরাধে পরিণত হয়, তাহলে পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শুধু তিন সাংবাদিক নন—পুরো সংবাদমাধ্যমই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাবে।
আপনার মতামত জানানঃ