বাংলাদেশে সবুজ অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ছে, বাড়ছে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিবেশবান্ধব শিল্প, জ্বালানি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের কথা বলছে। কিন্তু বড় অঙ্কের এই অর্থায়নের বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক গল্প। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের যে প্রয়োজন, তার তুলনায় ব্যাংকঋণের প্রবাহ এখনো খুবই সীমিত। আরও বড় প্রশ্ন উঠছে—সবুজ ঋণ হিসেবে যে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে, তার কতটা আসলে ঘোষিত খাতে যাচ্ছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অন্তত ৩০ হাজার ৩৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। কিন্তু বছর শেষে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ১৪০ কোটি ২২ লাখ টাকা। সবুজ অর্থায়নের সামগ্রিক পরিমাণ বাড়লেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের অংশ অত্যন্ত কম। ২০২৫ সালের শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গেছে ৬ হাজার ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট সবুজ অর্থায়নের মাত্র ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের নামে ব্যাংকিং খাতে যে বিপুল অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ বা অন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে যাচ্ছে না। বরং জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতেই অর্থের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতা খাতে গেছে ৩১ হাজার ৯৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা মোটের ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ১৬ হাজার ৫২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যানের অর্থ শুধু এই নয় যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাংকের ঋণ কম। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রশ্নও। কারণ বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি করা গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এই বাস্তবতায় সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের নীতিগত লক্ষ্যও উচ্চাভিলাষী। সরকারি পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নীতিমালাতেও ২০২৬-৩০ পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সক্ষমতা সেই লক্ষ্যের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি লক্ষ্য এত বড় হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথায়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই দেখা যায়, ২০২৫ সালে সবুজ অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭ হাজার ৮২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। কিন্তু বছর শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি পেয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৪৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সবুজ অর্থায়নের একটি বড় অংশ অন্য খাতে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি কেবল অর্থের অভাব নয়। অর্থায়নের কাঠামো, প্রকল্প মূল্যায়ন, ঋণের মেয়াদ, জামানতের শর্ত, ব্যাংকের ঝুঁকি বিবেচনা এবং পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার জটিলতাও নবায়নযোগ্য প্রকল্পের পথে বড় বাধা। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু আয় আসে দীর্ঘ সময় ধরে। ফলে স্বল্পমেয়াদি বা কঠোর শর্তের ঋণ এসব প্রকল্পের জন্য উপযোগী নয়।
শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতাও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। খানটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির সালিম প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ মেগাওয়াটের একটি ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কোনো ব্যাংক সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেনি। কিন্তু একের পর এক কাগজপত্র চাওয়া, দীর্ঘসূত্রতা এবং ঋণ প্রক্রিয়ার জটিলতায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল করতে হয়। অর্থাৎ কাগজে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন উদ্যোক্তার কাছে ব্যাংকঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি এতটাই জটিল হয়ে উঠতে পারে যে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই পিছিয়ে যান।
অন্যদিকে সবুজ ঋণের অর্থ ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরি বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার কথা বলে ঋণ নেওয়ার পর কেউ কেউ সেই অর্থ কারখানা সম্প্রসারণ কিংবা অন্য খাতে ব্যয় করছেন—এমন অভিযোগ ও তথ্য সামনে এসেছে। কোথাও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আড়ালে ঋণ নেওয়ার পর অর্থ অন্য কাজে ব্যবহারের প্রশ্ন উঠেছে।
সমস্যাটির অন্যতম কারণ স্বচ্ছতার ঘাটতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ঋণগ্রহীতাদের পূর্ণ তালিকা নেই। কোন প্রকল্পে কত টাকা গেছে, প্রকল্প বাস্তবে কতদূর এগিয়েছে, ঋণের অর্থ ঘোষিত কাজে ব্যবহার হয়েছে কি না—এসব তথ্যও একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায় না। ফলে সবুজ ঋণের প্রকৃত প্রভাব পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কিছু ব্যাংক অবশ্য তাদের অর্থায়নের তথ্য প্রকাশ করছে। ২০২৫ সালে ইস্টার্ন ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গেছে ৭৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতা খাতে গেছে ৮৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে ৪০৯ কোটি টাকা।
সিটি ব্যাংক একই সময়ে নবায়নযোগ্য প্রকল্পে প্রায় ৫৮১ কোটি টাকা অর্থায়নের কথা জানিয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ২০২ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক এশিয়া ২০২৪ সালে ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যার মধ্যে ২২৩ কোটি টাকা গেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। ট্রাস্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারা ২ হাজার ৯৩৪টি বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং ৪ হাজার ২০৪টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে।
ব্যাংক এশিয়ার প্রকাশ্য টেকসই অর্থায়ন পোর্টফোলিওতেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্পেকট্রা সোলার পার্ক, ইকোটেক্স, ইকোকনিটস, রবিনটেক্স, ফারিহা স্পিনিং মিলস, অ্যামেক্স নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রি, থার্ম্যাক্স ইয়ার্ন ডাইং, ভালমর্ট সোয়েটার, কোয়েট্রো ফ্যাশন, সোহা অটো রাইস মিল, নিউ মোমেনা অটো রাইস মিল, প্রগতি এগ্রো ফুডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব অর্থায়নের কোনো কোনোটি সৌর প্রকল্প, গ্রিন বিল্ডিং, বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কিংবা বর্জ্যপানি শোধনাগারের মতো পরিবেশবান্ধব কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থায়নও এ খাতে আসছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্র্যাক ব্যাংককে ৬০ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে। বাংলাদেশি কোম্পানি, বিশেষ করে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, সার্কুলার ইকোনমি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এই অর্থ ব্যবহারের কথা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও বাংলাদেশের সবুজ রূপান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এজেন্ডা।
কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অর্থের প্রবাহ এখনো অনেক কম। জ্বালানি অর্থনীতি ও আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আইইইএফএ-এর হিসাবে, ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৯৩৩ থেকে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে। অথচ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বার্ষিক গড় বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঐতিহাসিক গড় বিনিয়োগের তুলনায় প্রয়োজন প্রায় চার গুণ বেশি।
এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে শুধু ব্যাংককে বেশি ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেই হবে না। প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নকে সহজ করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, বাস্তবসম্মত জামানত ব্যবস্থা এবং দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর বিশেষায়িত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এর পাশাপাশি সবুজ ঋণের অর্থ যাতে অন্য খাতে চলে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে যেমন প্রকল্প যাচাই দরকার, তেমনি অর্থ ছাড়ের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যবহারের ওপর নজরদারি প্রয়োজন। একটি প্রকল্পের নামে ঋণ নিয়ে অন্য কাজে অর্থ ব্যয় করলে সেটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং দেশের পরিবেশ ও জ্বালানি নীতির লক্ষ্যকেও দুর্বল করে।
বিশেষ করে ছাদ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো ছোট ও মাঝারি প্রকল্পের জন্য সহজ অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। কতটি ছাদ সৌর প্রকল্প ঋণ পেয়েছে, কত টাকা পেয়েছে, কোথায় প্রকল্প হয়েছে এবং বাস্তবে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে অর্থায়নের কার্যকারিতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব। একইভাবে বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ঋণের পরিমাণ, প্রকল্পের সক্ষমতা, বাস্তবায়নের সময়, উৎপাদন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি প্রতিস্থাপনের পরিমাণ জানানো প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি উন্মুক্ত প্রকল্পভিত্তিক ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে পারে। সেখানে ব্যাংকের নাম, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান, ঋণের পরিমাণ, প্রকল্পের ধরন, ঋণের মেয়াদ, সুদের হার, প্রকল্পের অবস্থান, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং উৎপাদন সক্ষমতার মতো তথ্য রাখা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকরাও বুঝতে পারবেন কোন খাতে অর্থ যাচ্ছে এবং কোন খাতে অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম জাকির হোসেন খানের বক্তব্যও সমস্যাটির মূল জায়গাটি স্পষ্ট করে। তার মতে, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর কেবল অর্থের অভাবে আটকে নেই; বরং নীতিগত ঘোষণা এবং আর্থিক বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বড় বাধা।
এই ব্যবধানই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সবুজ অর্থায়নের পরিমাণ বাড়লেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তার অংশ ৮ শতাংশের নিচে। ফলে শুধু ‘সবুজ ঋণ’ শব্দটি ব্যবহার করলেই অর্থনীতি সবুজ হয়ে যায় না। সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কী তৈরি করছে এবং তার বাস্তব পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ফল কী—সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ। একটি হলো সবুজ ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর পরিসংখ্যান দেখিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। অন্যটি হলো অর্থায়নের প্রতিটি ধাপকে আরও স্বচ্ছ, প্রকল্পভিত্তিক এবং ফলাফলনির্ভর করা। দ্বিতীয় পথটি বেছে নিতে পারলে ব্যাংকের অর্থায়ন শুধু কাগজে সবুজ থাকবে না; বাস্তবেও তৈরি হতে পারে নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ছাদে বসতে পারে হাজার হাজার সৌর প্যানেল, কমতে পারে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কমতে পারে আমদানি করা জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা।
কারণ শেষ পর্যন্ত সবুজ অর্থায়নের সাফল্য কত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব দিয়ে মাপা যাবে না। মাপতে হবে—কত মেগাওয়াট নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা তৈরি হলো, কত জীবাশ্ম জ্বালানি প্রতিস্থাপিত হলো, কত কার্বন নিঃসরণ কমল এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা শক্তিশালী হলো। ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের এই বিশাল প্রবাহ যদি সেই বাস্তব পরিবর্তন তৈরি করতে না পারে, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাবে—সবুজ ঋণের টাকা আসলে কতটা সবুজ পথে যাচ্ছে?
আপনার মতামত জানানঃ