আজ যে পৃথিবীকে আমরা চিনি, ২০ কোটি বছর পর তার চেহারা হয়তো সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়ে যাবে। মহাদেশগুলোর বর্তমান অবস্থান বদলে যাবে, মহাসাগরগুলোর অনেকটাই হারিয়ে যাবে, আর পৃথিবীর মানচিত্রে তৈরি হবে এক বিশাল ভূখণ্ড—একটি নতুন ‘সুপারকন্টিনেন্ট’। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায় এমন একটি পরিবর্তন ভবিষ্যতে ঘটতে পারে। আর এই পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য রূপ যদি বাস্তবে ঘটে, তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী—মানুষসহ অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর অস্তিত্বই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।
পৃথিবীর মহাদেশগুলো স্থির নয়। আমরা যে মানচিত্র দেখে বড় হয়েছি, তা আসলে পৃথিবীর ভূত্বকের চলমান টেকটোনিক প্লেটগুলোর একটি সাময়িক বিন্যাস। কোটি কোটি বছর ধরে এসব প্লেট ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। কখনও মহাদেশগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, আবার কখনও পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এই চলমান প্রক্রিয়ার ফলেই পৃথিবীর ভূখণ্ডের চেহারা যুগে যুগে বদলেছে।
প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ছিল ‘প্যানজিয়া’ নামের একটি বিশাল সুপারকন্টিনেন্ট। পৃথিবীর প্রায় সব বড় স্থলভাগ তখন একসঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে টেকটোনিক প্লেটের গতির কারণে সেই বিশাল ভূখণ্ড ভেঙে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিভিন্ন অংশ এবং তৈরি হয় বর্তমানের এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা। মাঝখানে তৈরি হয় আটলান্টিক, ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন মহাসাগর।
কিন্তু এই বিচ্ছিন্নতার গল্প এখানেই শেষ নয়। পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক গতিবিধি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আবারও মহাদেশগুলো একে অপরের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। গবেষকদের বিভিন্ন মডেল বলছে, প্রায় ২০ কোটি বছর পর পৃথিবী আরেকটি সুপারকন্টিনেন্টের যুগে প্রবেশ করতে পারে। তবে সেই ভবিষ্যৎ পৃথিবী ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সামনে রয়েছে একাধিক সম্ভাব্য চিত্র।
২০১৮ সালে ‘জিওলজিক্যাল ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভবিষ্যৎ সুপারকন্টিনেন্ট গঠনের চারটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নভোপ্যানজিয়া, অরিকা, আমাসিয়া এবং প্যানজিয়া আলটিমা বা প্রক্সিমা। চারটি মডেলেই মহাদেশগুলোর অবস্থান এবং সমুদ্রের বিন্যাস হবে একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে প্যানজিয়া আলটিমা।
নভোপ্যানজিয়া মডেলে প্রশান্ত মহাসাগর ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে একসময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগর আরও বড় হতে থাকবে। আমেরিকা মহাদেশ তখন পূর্ব এশিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার সঙ্গে সংঘর্ষের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারে। এর ফলে একটি বিশাল স্থলভাগ তৈরি হবে, যার বড় অংশ থাকবে উত্তর গোলার্ধে। এই পরিস্থিতিতে বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো উষ্ণ ও শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সমুদ্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঠান্ডা অক্ষাংশের সঙ্গে স্থলভাগের সংযোগ থাকায় সমুদ্রস্রোত ও মেরু অঞ্চলের বরফপ্রবাহও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকতে পারে।
অন্য একটি সম্ভাবনা হলো ‘অরিকা’। পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অব লিসবনের টেকটোনিক্সের সহকারী অধ্যাপক জোয়াও সি. দুয়ার্তের প্রস্তাবিত এই মডেলে প্রশান্ত ও আটলান্টিক—দুই মহাসাগরই শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মহাদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অংশ ভেঙে গিয়ে বিষুবরেখাকে ঘিরে একটি বিশাল বলয় তৈরি করতে পারে। পৃথিবীর ভূখণ্ডের বড় অংশ তখন বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থান করবে। ফলে বর্তমান পৃথিবীর তুলনায় তাপমাত্রা আরও বেশি এবং পরিবেশ আরও শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
‘আমাসিয়া’ মডেলের চিত্রটি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পরিস্থিতিতে আর্কটিক বা উত্তর মহাসাগর বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রায় সব মহাদেশ উত্তর মেরুর দিকে সরে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধের বড় অংশ পরিণত হতে পারে বিশাল এক মহাসাগরে। পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমুদ্রস্রোতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিষুবরেখা থেকে মেরু অঞ্চলে তাপ বহন করার মতো বিস্তৃত সামুদ্রিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে মেরু অঞ্চল আরও ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর মেরুর বিশাল অংশ সারা বছর বরফে ঢাকা থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কার কেন্দ্রবিন্দু ‘প্যানজিয়া আলটিমা’ বা ‘প্যানজিয়া প্রক্সিমা’। এই মডেলে আটলান্টিক মহাসাগর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরও সংকুচিত হয়ে একটি অভ্যন্তরীণ সাগরে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকা ও এশিয়ার সংঘর্ষের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষুবরেখাকে ঘিরে একটি বিশাল বলয় বা রিংয়ের মতো স্থলভাগ তৈরি করতে পারে।
দূর ভবিষ্যতের এই দৃশ্য দেখতে হয়তো চমৎকার মনে হতে পারে। কিন্তু জীবনের জন্য এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। কারণ বিশাল সেই স্থলভাগের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলো সমুদ্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করবে। সমুদ্র থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে। ফলে মহাদেশের অভ্যন্তরীণ বিশাল এলাকা ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে প্রচণ্ড উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমিতে।
গবেষণাভিত্তিক এই সম্ভাবনায় বলা হচ্ছে, প্যানজিয়া আলটিমা তৈরি হলে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে। শুধু মহাদেশের অবস্থানই নয়, তখন সূর্যের উজ্জ্বলতা ও তাপও আজকের তুলনায় বেশি হবে। পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর এই দুই পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ভূতাত্ত্বিক আরেকটি বড় পরিবর্তন। মহাদেশগুলোর সংঘর্ষ এবং টেকটোনিক প্লেটের ব্যাপক স্থানান্তরের কারণে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ বেড়ে যেতে পারে। ধারাবাহিক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড যোগ করতে পারে। এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে এমন একটি পৃথিবীর কল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা অনেক অঞ্চলে ৪০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। শুধু গরমই নয়, বাতাসের আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা এবং বিশাল মরুভূমির বিস্তার পৃথিবীর বাসযোগ্য অঞ্চলকে ব্যাপকভাবে সংকুচিত করে দিতে পারে।
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আসে—মানুষ কি এমন পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারবে?
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দিয়ে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু পরিবেশ যখন অত্যন্ত উষ্ণ হয়ে ওঠে এবং একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যায়, তখন ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে থাকলে শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে। প্যানজিয়া আলটিমার সম্ভাব্য জলবায়ু যদি সত্যিই অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং অনেক এলাকায় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বাসযোগ্য পরিবেশ না থাকে, তাহলে মানুষের অস্তিত্ব গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গবেষণার অনুমান অনুযায়ী, ওই ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী এলাকা মোট ভূখণ্ডের মাত্র ৮ থেকে ১৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ আজকের বিশাল বাসযোগ্য পৃথিবী তখন পরিণত হতে পারে বিচ্ছিন্ন কিছু তুলনামূলক সহনীয় অঞ্চলের সমষ্টিতে।
এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে আগামী ২০ কোটি বছর পর পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে যাবে। বরং সম্ভাবনাটি মূলত বর্তমানের স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য একটি সতর্কতামূলক বৈজ্ঞানিক মডেল। পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্যবার পরিবেশ বদলেছে, প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে এবং নতুন প্রজাতির আবির্ভাব ঘটেছে। জীবনের অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে আজকের মানুষ না থাকলেও ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে অন্য কোনো জীব বা নতুন কোনো প্রজাতি ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—এই পূর্বাভাস আগামী কয়েক শতক বা কয়েক হাজার বছরের জন্য নয়। সময়ের হিসাব প্রায় ২০ কোটি বছর। মানুষের সভ্যতার ইতিহাসের তুলনায় এই সময় এতটাই দীর্ঘ যে বর্তমান মানবজাতির সঙ্গে সেই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর সরাসরি সম্পর্ক কল্পনা করাও কঠিন। আধুনিক মানুষ পৃথিবীতে এসেছে মাত্র কয়েক লাখ বছর আগে। অথচ এখানে আলোচ্য সময় তার চেয়ে শত শত গুণ বেশি দীর্ঘ।
তাই ‘২০ কোটি বছর পর মানবজাতি বিলুপ্ত হবে’—এই বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত ভূতাত্ত্বিক ও জলবায়ুবিষয়ক মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দৃশ্যপট। মহাদেশের গতিবিধি, সমুদ্রের পরিবর্তন, বায়ুমণ্ডলের গঠন, সূর্যের বিবর্তন এবং জীবজগতের অভিযোজন—সবকিছু মিলিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবীর প্রকৃত চেহারা কী হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবু এই গবেষণার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবী কোনো স্থির মঞ্চ নয়। যে মহাদেশকে আজ আমরা স্থায়ী বলে মনে করি, সেটিও আসলে চলমান। যে সমুদ্রকে আমরা চিরস্থায়ী ভাবি, সেটিও ভূতাত্ত্বিক সময়ের হিসাবে একদিন হারিয়ে যেতে পারে। আর পৃথিবীর জলবায়ু ও জীবজগতের ওপর ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য ছবি পাওয়া যায় এসব মডেলের মাধ্যমে।
আজকের পৃথিবীতে মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু প্যানজিয়া আলটিমার সম্ভাব্য পৃথিবী দেখায় আরও অনেক দীর্ঘ সময়ের একটি চিত্র—যেখানে মানুষের তৈরি কোনো শহর, রাষ্ট্র বা সভ্যতার অস্তিত্বের প্রশ্নই থাকবে না; বরং পুরো গ্রহের ভূগোলই বদলে যাবে।
তবে এই ভয়াবহ সম্ভাবনার সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক দিক হলো সময়ের ব্যবধান। প্রায় ২০ কোটি বছর পর যে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, তার মুখোমুখি আজকের মানুষ বা বর্তমান প্রজন্মের কাউকেই হতে হবে না। এমনকি আগামী বহু হাজার প্রজন্মের পরও পৃথিবীর মানুষ বর্তমান রূপে থাকবে কি না, সেটিও বলা কঠিন। মানুষ হয়তো বিবর্তিত হবে, অন্য গ্রহে বসতি গড়বে, কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো সভ্যতার জন্ম হবে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের সেই সুপারকন্টিনেন্ট মানবজাতির জন্য শেষ অধ্যায় হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—পরিবর্তনই একমাত্র স্থায়ী সত্য। প্যানজিয়া একসময় ছিল, তারপর ভেঙে গিয়ে তৈরি হয়েছে আজকের পৃথিবী। আবার কোটি কোটি বছর পর মহাদেশগুলো একত্র হতে পারে। সেই নতুন পৃথিবী হয়তো মানুষের জন্য অনুপযোগী হবে, আবার হয়তো এমন কোনো নতুন প্রাণের জন্ম দেবে, যার কথা আজকের মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
২০ কোটি বছর পরের সেই পৃথিবী তাই শুধু ধ্বংসের গল্প নয়; এটি পৃথিবীর অন্তহীন পরিবর্তনের গল্প। আজকের মহাদেশ, আজকের সমুদ্র, আজকের জলবায়ু—সবই হয়তো মহাজাগতিক সময়ের বিশাল ক্যানভাসে ক্ষণিকের একটি দৃশ্য মাত্র। আর সেই দৃশ্যের পর্দা নামার বহু আগেই মানবসভ্যতা হয়তো অন্য কোনো গল্প লিখে ফেলবে।
আপনার মতামত জানানঃ