Trial Run

আমেরিকার ক্যাপিটল হিলে আবারো হামলা, পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

ছবি: সংগৃহীত

গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা ক্যাপিটল হিলে ঢুকে ভাঙচুরসহ সহিংসতায় লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় দুইজন পুলিশসহ ৫ জন নিহত হন। তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ক্যাপিটল হিলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার(২ মার্চ) ভবনের উত্তর দিকের প্রবেশমুখে গাড়ি নিয়ে হামলা করা হয়।এ ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার নীল রঙের একটি গাড়ি নিয়ে এক ব্যক্তি কংগ্রেস ভবনের উত্তর দিকের প্রবেশমুখের নিরাপত্তা ব্যারিকেডে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রবেশমুখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। পরে ওই হামলাকারী ছুরি নিয়ে ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ওপর হামলা করে। এ সময় আরেকজন নিরাপত্তাকর্মী তাকে বাধা দেয় এবং গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় হামলাকারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।এ ছাড়া দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। গত জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে রক্তাক্ত দাঙ্গার তিন মাসের কম সময়ের ব্যবধানে আবারো এই হামলা হলো। তবে এ হামলার সাথে সন্ত্রাসী তৎপরতার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করছেন কর্মকর্তারা।

ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রবার্ট কনটে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখন পর্যন্ত এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে তিনি নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম উইলিয়াম বিলি ইভান্স বলে উল্লেখ করেন। ইভান্স ক্যাপিটল পুলিশে ১৮ বছর ধরে কাজ করছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার সকালে ওই ঘটনার পর ক্যাপিটল ভবন এবং কংগ্রেসের অফিস ভবনগুলোতে যাওয়ার সব পথ পুলিশ আটকে দেয়।

মার্কিন কংগ্রেসের একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী ও ক্যাপিটল পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে ক্যাপিটল ভবনের দিকে যাওয়া কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ে নিরাপত্তা প্রতিবন্ধক ভাঙার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। পুলিশ জবাবে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে গুলি করে। এতে হামলাকারী নিহত হন। এর আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই সদস্য ছুরিকাঘাতের শিকার হন।

তবে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঘটনার পরপরই ক্যাপিটল পুলিশ এক টুইটে বলেছে, সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আহত দুই সদস্যকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ঘটনার সময় গুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে।

সিএনএন জানায়, ঘটনার পরপরই ক্যাপিটল ভবন এলাকায় আবারও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে ৬ জানুয়ারির হামলার পরও সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলার চেষ্টার পরপরই ক্যাপিটল ভবন লকডাউন করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ক্যাপিটল ভবন লকডাউনের পাশাপাশি ক্যাপিটল পুলিশ বিভাগের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে গতকালের ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন কংগ্রেসের কোনো অধিবেশন চলছে না। বেশির ভাগ আইনপ্রণেতা ওই সময় ক্যাপিটল ভবন এলাকায় ছিলেনও না। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘটনার আগেই ক্যাম্প ডেভিডের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছেড়ে গেছেন।

ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলকে লকডাউন করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় লকডাউন তুলেও নেওয়া হয়। ক্যাপিটল ভবনে মাইকে সতর্কতা জারি করে লকডাউন তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়, বাইরে থেকে আসা হুমকির কারণে জারি করা লকডাউন শেষ হয়েছে। পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

সিএনএনের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার একটার দিকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীর নাম–পরিচয় জানা গেছে। তার নাম নোয়া গ্রিন (২৫)। তিনি ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। খবর স্কাই নিউজের।

অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারী নোয়া গ্রিনকে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি দলের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে। ইনস্টাগ্রামে নোহা গ্রিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে কৃষ্ণাঙ্গদের এক নম্বর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও নিজেকে লুইস ফারাখানের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এদিকে ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয়বারের আক্রমণের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিলি ইভানসের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় ‘মর্মাহত’ জানিয়ে তার সম্মানে হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অর্ধনমিত পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

হামলার ঘটনা শোনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘আমি আর জিল (আমেরিকার ফার্স্ট লেডি) খুবই মর্মাহত। এটা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা। ক্যাপিটলে হামলায় একজন দক্ষ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উল্লেখ করেছেন, ‘তিনি ঘটনার পর থেকেই সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন। পুরো ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।’

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও ক্যাপিটল হিলে পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়ে শোক জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, ‘নিহত পুলিশ কর্মকর্তা উইলিয়াম বিলি ইভানস যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন।’

ক্যাপিটল পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেসের সুরক্ষা চৌকি অতিক্রম করে হামলাচেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে নিহত উইলিয়াম বিলি ১৮ বছর ধরে ক্যাপিটল পুলিশে কর্মরত ছিলেন। আহত আরেক পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা ক্যাপিটল হিলে ঢুকে ভাঙচুরসহ সহিংসতায় লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় দুইজন পুলিশসহ ৫ জন নিহত হন। ট্রাম্পের নিজেরও এতে সমর্থন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারির ওই হামলার ঘটনায় ৩০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে কট্টর ডানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রাউড বয়েজ এবং ওথ কিপার্সের সদস্যরাও রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১০০ জনকে হামলার ঘটনায় আসামি করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত হয়েছেন। তবে প্রথম অভিশংসন বিচারের মতো এই দফায়ও ট্রাম্প কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে উতরে গেছেন।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৫২২ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ