Trial Run

অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে ইউপি চেয়ারম্যান বহিষ্কার

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদ

ছবি: যুগান্তর

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকারকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রকল্পে ও সরকারি অনুদানপুষ্ট সহায়তা কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগে ইউপির ১২ সদস্যের মধ্যে ১০ সদস্য ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে প্রস্তাব গ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পত্র দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ চেয়ারম্যান রাকিব সরকারকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আবুজাফর রিপন গত ৪ মার্চ এক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলার ০৩ নং পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রকিব সরকার এর বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর কবরস্থানে একাধিক বাউন্ডারি অল নির্মাণ, কাবিখা, টিআর, পরিষদের ১% এবং এলজিএসপি অর্থ হতে একই খাতে একাধিকবার প্রকল্প গ্রহণ, ইউপি সদস্যগণের সাথে সমন্বয়হীনতার, পরিষদ পরিচালনার ক্ষেত্রে অদক্ষতা, পাকা রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রথমে মোঃ জালাল উদ্দিন ৬ নং ওয়ার্ডে সদস্যকে প্রকল্প সভাপতি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে একই তারিখ একই সভায় কার্যবিবরণী পরিবর্তন করে নিজেই প্রকল্প সভাপতি হিসেবে পরিচালনা করার অভিযোগে এবং ১০ জন সদস্য কর্তৃক লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবের সরেজমিনে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী এবং উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা কর্তৃক বিশেষ সভা আহ্বান করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১০ টি ভোট পড়ে যা দুই তৃতীয়াংশের বেশী ছিল।

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ৩ নং পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব সরকারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ তদন্তে প্রমাণিত হওয়া এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না মর্মে বিবেচিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর সুপারিশসহ অনাস্থাপ্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ (১৩) ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ৩ নং পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ওই আইনের ওই ধারার ৩৫ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী আব্দুর রকিব সরকারের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গোদাগাড়ী, রাজশাহীকে আইন মোতাবেক ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এ মর্মে জনস্বার্থে জারি করা হলো।

সদ্য বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার বলেন, এ রকম প্রজ্ঞাপন হয়েছে বলে শুনলাম। ই-মেইলে নাকি ইউনিয়ন পরিষদের পাঠানো হয়েছে। আমি দেখিনি, কোনো চিঠিও পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুর রাকিব সরকার। এ যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদে করসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলে আয়কৃত টাকা জমা না করে পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার সব টাকা আত্মসাৎ করেন।

স্থানীয়রা বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোকজন নিয়ে বাস্তবায়ন করেন। এতে করে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন হয় না। ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার ইউনিয়নের ভোটার হলেও বসবাস করেন কাকনহাট পৌরসভায়। এজন্য ইউনিয়নের উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে লুটপাটে ব্যস্ত থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদে ঠিকমতো আসেন না চেয়ারম্যান। ফলে লোকজন কাজে এসে হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে যায়।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে প্রায়ই বিভিন্ন রকমের অভিযোগ আসে। তারা জনপ্রতিনিধি হয়েও বিভিন্ন দুর্নীতি, সরকারি অনুদান চুরি, জোর করে জমি দখলসহ আরো বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। জনগণের পাশে থাকার জন্য নির্বাচিত হলেও তারা আদতে নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য নির্বাচনে দাঁড়ান বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেরা এতোটাই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী বনে যান তারা মনে করেন তাদের শাসনেই চলতে হবে ইউনিয়নকে। ইউপি চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অভিযোগ আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্ষমতা বলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান বলে তারা স্থানীয় পর্যায়ে নানা অপকর্মে উৎসাহী হয়ে ওঠেন।

তারা মনে করেন, দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাল, গম, অর্থ ইত্যাদি তাদের হাত হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাপ্যরা সহজেই প্রতারিত হন। সরকারদলীয় ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়াতে তাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতেও সাহস পায় না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা সহজেই টাকার কুমির বনে যায়। এসবের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও সুষ্ঠু তদারকির আহ্বান জানান তারা।

এসডব্লিউ/ডিজে/কেএইচ/১৬২৫ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আপনার মতামত জানানঃ