Trial Run

সুপ্রিমকোর্টে বিচারক-আইনজীবী বিরোধের ইঙ্গিত!

ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে বিরোধের ইঙ্গিত মিলছে। সুপ্রিমকোর্টের কোনো কোনো বেঞ্চের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের নানামুখী অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা সংকট নিরসনে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধান বিচারপতির কাছে এক চিঠিতে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, দু-একটি আদালতে আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। যা দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে যুগ যুগ ধরে গড়ে তোলা বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিতে এ চিঠি দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। আইনজীবী ও বিচারকের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলেই শুধু আদালত সুষ্ঠুভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। দেশের বিজ্ঞ আইনজীবীরা আইন ও আদালতের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেদের আইন পেশায় নিয়োজিত করেছেন। এ অনন্য ভূমিকার জন্য আইনজীবীদের আদালতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়ে থাকে। আদালত সহনশীলতার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত মহান দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অথচ ইদানীং দু-একটি আদালতে মামলার শুনানিকালে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীদের বিভিন্নভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের জন্য বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মনে করে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, ৮ নভেম্বর রিট পিটিশন নম্বর ১৩১৪২/২০১৯-এর শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই বিজ্ঞ সদস্য সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এবং ইশরাত হাসানের বিরুদ্ধে ১০০ টাকা করে জরিমানা এবং আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করা হয়েছে। শুনানিকালে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা দায়ের কিংবা পরিচালনার কারণে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য কিংবা আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর ক্ষেত্রে মহামান্য আদালতের কাছে সমিতি আরও সহনশীলতা প্রত্যাশা করে।

পত্রের উপসংহারে মন্তব্য করা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা যেমন আদালতের মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তেমনি আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও আদালতের ওপর বর্তায়। এ অবস্থায় দেশের আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি না হয় এবং উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক বিনষ্ট যাতে না হয়, এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি আপনাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে। চিঠিতে সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ১৪ কর্মকর্তা সই করেছেন।

৮ নভেম্বর আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ এক বিচারকের পুত্রকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী ঘোষণা করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গেজেট প্রকাশ বৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এর বিরুদ্ধে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানকে একশ’ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত। এ ধরনের রিট করে আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য এ জরিমানা করা হয়। এদিকে এ রিট মামলার শুনানির একপর্যায়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করেন আদালত। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মাদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সুপ্রিমকোর্টের কোনো কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যে আইনজীবীরা ক্ষোভ দেখাচ্ছেন, এটিকে সাধারণ ঘটনা মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনজীবী সমিতির একজন নেতা জানান, ‘নিষ্পত্তি না হলে এই বিরোধের ছাপ আদালতে চলমান গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতেও পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। এটা নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে প্রধান বিচারপতির উচিত দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া, যাতে বিচারালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং বিচারবিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।’


Available for everyone, funded by readers. Every contribution, however big or small, makes a real difference for our future. Support to State Watch a little amount. Thank you.

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares