Trial Run

কারাগার থেকে মুক্ত হলেন হাজী সেলিম পুত্র ইরফান সেলিম

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কাউন্সিলর ইরফান সেলিম কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আজ মুক্তি পেয়েছেন। ঢাকার ধানমন্ডিতে নৌবাহিনী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তিনি কারামুক্ত হন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম।

এর আগে সকালে ইরফান সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ধানমন্ডি থানার মামলায় গত ২৫ এপ্রিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তার জামিন বহাল রাখেন।

সর্বোচ্চ আদালতের সেই আদেশ বুধবার বিচারিক আদালতে আসে। আমরা আসামিপক্ষে এদিন সকালেই জামিননামা জমা দিয়েছি। আশা করছি, আজ বিকেলেই কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিননামা পৌঁছালে তিনি মুক্তি পাবেন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় গত ২৮ মার্চ ইরফান সেলিমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ এপ্রিল আপিল বিভাগে শুনানি হয়। সেখানেও হাইকোর্টের দেওয়া ইরফান সেলিমের জামিন বহাল রাখা হয়। এতে তার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা ছিল না।

ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে করা মোট ৫টি মামলার মধ্য চকবাজার থানায় করা একটি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাকে অব্যাহতি দিয়ে সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বাসায় মাদক রাখার দায়ে একটি মামলায় এক বছর ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে এ দুই মামলায় তিনি নির্বাহী আদালতে আপিল করে জামিনে আছেন। বাকি নৌবাহিনীর অফিসারকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে তার জামিনের আদেশ বহাল রাখায় এখন তিনি মুক্তি পেলেন।

২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটর সাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংসদ হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের গাড়িটি তাকে ধাক্কা মারে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন হাজী সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে ইরফানের সঙ্গে থাকা অন্যরা একসঙ্গে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও পরদিন ভোরে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদ, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ওয়াসিফ আহমদ খান বাদি হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মো. জাহিদকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে গত বছরের ২৭ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ. ন. ম ফয়জুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পূর্ব থেকেই ধারণা করা হয়েছিল, যে শোরগোল তুলে এমপিপুত্র কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা হলো তা সময়ের ব্যবধানে ক্রমশ বিলীন হয়ে যাবে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের জন্য কাজ করে না৷ তারা ক্ষমতারই পক্ষে কাজ করে৷ শুধু মাত্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তারা একটি পক্ষে সক্রিয় হয়৷ সাধারণ মানুষের জন্য নয়৷ এখানে প্রতিকার পেতে ক্ষমতা লাগে৷ যার ক্ষমতা বেশি সেই অন্যায় করে৷ অথচ আইন অন্যদের ক্ষেত্রে একদমই ভিন্ন চিত্র দেখায়।

তারা বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায়ই বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের জড়িয়ে পড়েন এমপি পুত্ররা। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহবোধ না করায় তাদের দৌরাত্ম্য ‍দিন দিন বেড়ে চলেছে, যার উদাহরণ এমপিপুত্র ইরফান সেলিম। তারা মনে করেন, আমাদের রাষ্ট্রে বিচারের এই বৈষম্য দূর না হলে দেশ থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অন্যায়-অপকর্ম হ্রাস পাবে না।

দেশে আইনের কোনো সুশাসন নেই অভিযোগ করে তারা মনে করেন, ইরফান সেলিমের স্থানে অন্যকেউ থাকলে হয়তো মামলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই চলতো। একই সাথে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আইনের ফাঁক দিয়ে রাঘব বোয়ালদের ছুটে যাওয়ার চিরায়ত আরেক ঘটনা এটি। এবিষয়ে প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৯৪১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ