Trial Run

ভারতের টিকা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় আরও উৎসের খোঁজে সরকার

Photo : Business Today

কবির হোসেন : ভারত সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর সময়মত টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, টিকার পরের চালান কবে বাংলাদেশ হাতে পাবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তিনি। সময়মত টিকা না পেলে চলমান টিকাদান কর্মসূচিতেও এর প্রভাব পড়বে। টিকার এই সংকট কাটাতে অন্যান্য উদ্ভাবকদের কাছ থেকে টিকা কেনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, এসব উদ্যোগে এখনও সাড়া মেলেনি। তবে টিকার বিকল্প উৎস পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

সিনোভ্যাক ও স্পুটনিক-ভি

ইতোমধ্যে সরকার ঢাকায় নিযুক্ত চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিবিআইবিপি-করভি ও স্পুটনিক-ভি টিকা কেনার বিষয়ে কথা বলেছে।

বিবিআইবিপি-করভি টিকা চীনের সিনোফার্ম, আর স্পুটনিক-ভি রাশিয়ার গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে।

দুটি টিকাই ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুমোদন পেয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখনো এই দুটি টিকার অনুমোদন দেয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জাতীয় এক দৈনিককে বলেন, ‘সম্প্রতি আমি ব্যক্তিগতভাবে চীন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাদেরকে জানিয়েছি, বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে টিকা কিনতে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলেছি টিকার মূল্য, পরিমাণ, শর্তাবলী ও সরবরাহ করতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে’।

মন্ত্রী আরও জানান, দুটি টিকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কাজের জন্যে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি’ ।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিনোফার্ম জানায়, তাদের টিকাটির কার্যকারিতা ৭৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এরপরই চীন সরকার টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ডিসেম্বরেরই শুরুর দিকে সিনোফার্ম টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় আরব আমিরাত। তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অন্তর্বর্তীকালীন ফলের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, টিকাটির কার্যকারিতা ৮৬ শতাংশ।

নিজ দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য ২০২০ সালের আগস্টে স্পুটনিক-ভি টিকার অনুমোদন দেয় রাশিয়া।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জাতীয় এক দৈনিককে বলেন, ‘মহামারির সময়ে রাশিয়া ও চীনের বানানো টিকা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছে। এই টিকাগুলো বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহৃত হচ্ছে। (বাংলাদেশ) সরকার খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।’

জনসন অ্যান্ড জনসন টিকা

জানা গেছে, ইউএনডিপির অর্থায়নে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার তিন কোটি ডোজ কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এ টিকা কেনা হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় এডিবি বাংলাদেশকে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের অঙ্গীকার করেছে, সেখান থেকে জনসনের ভ্যাকসিন মূল্য পরিশোধ করা হবে। এপ্রিল মাসে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিসেফের প্রকিউরমেন্ট সাপ্লাই ডিভিশনের মাধ্যমে টিকা কেনা হবে। এ ছাড়া টিকা কেনার জন্য জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ৫০ কোটি ডলার, এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ৫০ কোটি ডলার, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ২৫ কোটি ডলার অর্থায়ন করার আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশের টিকা কেনার কাজে অর্থায়নে ফ্রান্স সরকারও আগ্রহী। তবে দেশটি কী পরিমাণ অর্থায়ন করবে, তা বলেনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এ টিকা সাধারণ রেফ্রিজারেটরে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার হার ঠেকাতে ৬৬ ভাগ কার্যকর এই টিকা। বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠান জ্যানসেন এটি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আগামী জুন নাগাদ ১০ কোটি ডোজ দিতে রাজি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ টিকা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। কোভ্যাক্সও ৫০ কোটি ডোজ নিতে চায়। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরের আগে এ প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা পাওয়ার সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, জনসনের টিকার কোল্ডচেইন অক্সফোর্ডের টিকার মতোই, ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা সম্ভব, সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই এই কোল্ডচেইন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একক ডোজের এই টিকার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৬-১০ ডলার। বাংলাদেশ ১০ ডলার দাম ধরে এই টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।

কিন্তু এই টিকা আগামী সেপ্টেম্বরের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে সারাবিশ্বে টিকা সংকটের কারণে সেই প্রচেষ্টাও দ্রুত সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

টিকা উৎপাদন করতে চায় বাংলাদেশ

এর বাইরে টিকা উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে এবং ওষুধ শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে অন্য কয়েকটি টিকা উদ্ভাবকদের কাছে চিঠি দিলেও তাতে সাড়া মেলেনি।

বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রতিষেধক টিকার মধ্যে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। দেশীয় ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালস কাঁচামাল পেলে এ চারটি টিকাই বাংলাদেশে তৈরিতে সক্ষম। ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে টিকা উদ্ভাবক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল সরবরাহের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সাড়া মেলেনি।

ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুকতাদির জাতীয় এক দৈনিককে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শর্ত পূরণ করে টিকা উৎপাদনের জন্য তাদের আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে টিকা উদ্ভাবক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও বিষয়টি চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। সরকার ও ইনসেপ্‌টার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়নি।

আবদুল মুকতাদির বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত কোনো টিকার কাঁচামাল পেলে ইনসেপ্‌টা প্রতিবছর ৫০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনে সক্ষম। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে টিকা উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল সরবরাহ করবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে টিকা সংকট দূর করতে এর বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, শুধু কাঁচামাল পেলেই এ টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে না। এ জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী হতে হবে। সে জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা চেয়ে গত সপ্তাহে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠির জবাব এখনও আসেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশে ওষুধের মান পরীক্ষার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ল্যাবের কেমিক্যাল অংশ গত বছরের মার্চে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে। তবে বায়োলজিক্যাল অংশের কাজ বাকি আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এটি করে দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কারণ, টিকার অনুমোদন পেতে হলে কিংবা বিদেশে রপ্তানি করতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ল্যাবে ওই টিকা তৈরি হতে হবে। এসব কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ল্যাবটি তৈরি করে দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচিতে বিভ্রান্তি

গত নভেম্বরে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ‘কোভিশিল্ড’ টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে সরকার। টিকার দাম পরিশোধ করা হয় অগ্রিম। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার কথা। গত জানুয়ারিতে ৫০ লাখ ডোজ টিকা এলেও ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ২০ লাখ ডোজ। চলতি মাসে কেনা টিকার চালান এসে পৌঁছেনি। তবে দুই দফায় বাংলাদেশকে ৩২ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে দিয়েছে ভারত। আগামী ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টিকা সরবরাহ করতে পারেনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট। এ দুই মাসে ৮০ লাখ ডোজ টিকা কম সরবরাহ হয়েছে। এতে দেশে চলমান টিকা কার্যক্রমে প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা কেনার চুক্তি থাকলেও ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে সময়মত টিকা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্চের শেষে বাংলাদেশকে দুই কোটি ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার কথা ছিল কোভ্যাক্সের।

ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর কোভ্যাক্স ই-মেইলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে, ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করা হবে। টিকার সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশের চলমান টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভ্যাকসিনের মজুত দ্রুত কমতে থাকায় ও সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে সময়মতো পরবর্তী চালান পাওয়ার অনিশ্চয়তার প্রভাব বর্তমানে চলমান টিকাদান কর্মসূচির ওপর পড়তে পারে। তবে, সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত রোববার জাতীয় সংসদে সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে বলে ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা দূর হয়। কিন্তু গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্যের পর টিকাদান নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে প্রথম ডোজের টিকাদান বন্ধ রাখা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জাতীয় এক দৈনিককে বলেছেন, প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হবে না। প্রথম ডোজের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কার্যক্রমও বৃহস্পতিবার শুরু হবে। তবে প্রথম ডোজের টিকাদান কার্যক্রম কিছুটা সীমিত করা হতে পারে।

প্রথম ডোজের টিকাদান স্থগিত করা-সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হচ্ছে।

ডা. খুরশিদ আলম আরও বলেন, কেনা টিকার ৩০ লাখ ডোজ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহের জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই টিকা দ্রুত পৌঁছাবে বলে আশা করছি। আর আমাদের হাতে যে পরিমাণ টিকা মজুদ আছে তা বিতরণের মধ্যেই মে মাসে কোভ্যাক্স থেকে টিকা চলে আসবে। আবার ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও হয়তো উঠে যাবে। সুতরাং টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন না তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জাতীয় এক দৈনিককে বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা একটি মিটিং করেছি এবং আমরা কর্মসূচিটিকে দেশব্যাপী অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। আমরা সবাইকে প্রথম ডোজও দিতে থাকব।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান শুরু হবে।

এখন পর্যন্ত সরকার ৫৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৭২ জনকে টিকা দিয়েছে। আর মোট ৬৯ লাখ ১৫ হাজার ২২২ জন মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে দেশ এখনো টিকা প্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা অবস্থানেই আসছে না অর্থাৎ দেশ টিকা প্রাপ্তি নিয়ে এখনো গভীর ধোঁয়াশার মাঝে আছে। কোথা থেকে টিকা সংগ্রহ করা হবে এই বিষয়েও সরকার এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এতে দেশ ভয়াবহ করোনাক্রান্তি পেতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। একইসাথে অন্যান্য সূত্র থেকে কীভাবে টিকা পাওয়া যেতে পারে সে-বিষয়ে সরকারের এখনোই সিদ্ধান্তে এসে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে একটি টিকার ওপর নির্ভর না থেকে একাধিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে জনসন অ্যান্ড জনসন এর ভ্যাকসিন আমদানির সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক বলে মনে করেন তারা।

তারা বলেন, ‘জনসন অ্যান্ড জনসন এর টিকা আমদানির পরিকল্পনা করা হলে সেটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত। আমাদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো জনসনের টিকা। কারণ এই ভ্যাকসিন সিঙ্গেল ডোজ এবং আমাদের এ টিকা সংরক্ষণের কোল্ড চেইন রয়েছে। জনসনের টিকা দেরিতে তৈরি হওয়ায় এর কার্যকারিতা বেশি। এই ভ্যাকসিনের কার্যক্ষমতা ৯০%’।

তারা বলেন, ‘সরকার ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চেষ্টা করছে। এতে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা পাওয়া গেলে সেটি আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। সিঙ্গেল ডোজের ভ্যাকসিন দেয়া হলে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা আরো সহজ হবে’।

দেশে টিকা উৎপাদন বিষয়ে তারা বলেন, ‘বীজ থেকে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। আমাদের যেটা দরকার তা হলো যথাযথ প্রযুক্তি। কারণ কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে তৈরি করা বেশিরভাগ টিকার ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, উদ্ভাবকদের কাছ থেকে যথাযথ প্রযুক্তি সহায়তা পেলে এই বীজের সঙ্গে অ্যাডজুভেন্ট, স্ট্যাবিলাইজার ও প্রিজারভেটিভ যোগ করে টিকা তৈরি করা আমাদের দেশীয় টিকা প্রস্ততকারকদের জন্য খুব একটা কঠিন হবে না।’

তারা আরও জানান, বাংলাদেশকে যদি বীজ থেকে টিকা উৎপাদন করতে হয়, তাহলে বৈশ্বিক মানের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। যার জন্য প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন। সঙ্গে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদকেও কাজে লাগাতে হবে।

তারা বলেন, বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে তাদের বায়োলজিক্যাল গবেষণাগারটিকে আরও উন্নত করতে হবে।

তারা বলেন, ‘সরকার খুব ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু, একইসঙ্গে তাদের উচিৎ হবে স্পুতনিক ফাইভ এর মতো অন্যান্য টিকা উৎপাদনকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা।’

বলেন, ‘যদি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তিটি পেয়ে যায়, তাহলে সেটি বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো হবে। কারণ আমরা টিকা উৎপাদনে সক্ষম। আমরা চাইলে বিপুল পরিমাণে টিকা এনে এখানে নতুন করে প্যাকেজিংও করতে পারি, যেটি আরেকটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে। আমাদের এখানে বিশ্বমানের কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আছে এবং তারা টিকা উৎপাদনে সক্ষম।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৩৪২ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ