Trial Run

দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী সংবাদ পাঠক শিশির

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশে এই প্রথম টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপক হয়েছেন এক ট্রান্সজেন্ডার নারী। তার নাম তাসনুভা আনান শিশির। আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করবেন শিশির। এছাড়া একইদিনে একটি নাটকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে আরেক ট্রান্সজেন্ডার নারীকে। তার নাম নুসরাত মৌ। শুক্রবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশনটি এই ঘোষণা দেয়। বৈশাখী টিভির উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানান।

টিপু আলম মিলন গণমাধ্যমকে জানান, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বৈশাখী টেলিভিশন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছর, স্বাধীনতার মাস মার্চে নারী দিবস উদযাপনের আগে সংবাদ বিভাগ ও নাটকে দুই জন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে যুক্ত করেছে। দেশের মানুষ এই প্রথম একজন ট্রান্সজেন্ডারকে পেশাদার সংবাদ বুলেটিনে পাঠ করতে দেখবেন। এই ট্রান্সজেন্ডার নারীর নাম তাসনুভা আনান শিশির। আসছে ৮ মার্চ (সোমবার) আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিশির বৈশাখী টেলিভিশনে তার প্রথম সংবাদ বুলেটিন উপস্থাপন করবেন।

তিনি আরও জানান, আমাদের বিনোদন বিভাগের নিয়মিত নাটকের মূল চরিত্রগুলোর একটিতে যুক্ত করেছি আরেকজন ট্রান্সজেন্ডার নারীকে। যার নাম নুসরাত মৌ। যাকে পর্দায় প্রথম দেখা যাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, ধারাবাহিক নাটক ‘চাপাবাজ’ এর একটি পর্বে। যা প্রচারিত হবে ৮ মার্চ রাত ৯টা ২০ মিনিটে।

এই প্রসঙ্গে তাসনুভা আনান শিশির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নাটকের কাজে গিয়েছিলাম। আমার উচ্চারণ উপস্থাপন দেখে বৈশাখী টিভি থেকে আমাকে অডিশন দিতে বলা হয়। তার ফল স্বরূপ আজকের ঘটনা। এখনও শিক্ষিত সমাজ ট্রান্সজেন্ডার বুঝেন না। হিজড়া, তৃতীয়লিঙ্গ আর আমরা এক না। আমরা যতো এই ধরনের কাজগুলোতে যুক্ত হবো, ততোই আমাদের অস্তীত্ব জানবেন সকলে। পরিচয়হীন থাকতে হবে না। আমি আনন্দিত।

তিনি  আরো বলেন, এ অনুভূতি আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশে একটি নতুন মাত্রা তৈরি হলো। নতুনভাবে একটি কমিউনিটির মানুষদের সম্মান করা হলো। আমার ভাবতে অবাক লাগছে, সেই সাথে ভালোও লাগছে যে, মানুষের চিন্তার পরিধিটা বাড়লো। ভাবনার যায়গাটায় মানুষের পরিবর্তনের ছাপ এলো। অন্যান্য ট্রান্সবোন যারা রয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ; যোগ্য হওয়াটা সবচেয়ে বেশি দরকার। আপনার জেন্ডারটা একটা বেরিয়েড একটা সোসাইটিতে। তবে সবার চোখে না, কিছু কিছু মানুষের চোখে। তাই তারা যেন আপনার জেন্ডারটা না দেখে গুণটা দেখেন; সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। সবাই যোগ্যতা দেখেন। কারণ যোগ্য ব্যক্তিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না। তাই যার যতটুকু মেধা আছে, জ্ঞান আছে; ততটুকু কাজে লাগিয়ে যোগত্যা অর্জন করা বেশি জরুরি।

তাসনুভা আনান শিশির একটি আলোচিত নাম। বাবা সামসুল হক, মা জামিরুন বেগম। খুলনার বাগেরহাটে ১৯৯১ সালের ১৬ জুন তার জন্ম। তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন। পাশাপাশি ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে পাবলিক হেলথ বিষয়ে আরও একবছরের জন্য মাস্টার্স করছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় থাকা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘদিন ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মরত বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামক একটি এনজিওতে প্রকল্প কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন তাসনুভা। এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও কাজ করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাসনুভা আনান শিশিরের এই উদাহরণ থেকে অন্যান্য ও ট্রান্সজেন্ডার নারীরা  উত্সাহিত হবে। রূপান্তরকামী নারীদের নিয়ে মানুষের যে বদ্ধমূল ধারণা আছে সেটিরও পরিবর্তন হবে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৩১৫

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ