Trial Run

রোজাভা বিপ্লব : পিতৃতান্ত্রিক ধূষর মরুতে নারী মুক্তির মরুদ্যান

কল্লোল দাশ বনি : নারীবাদ, নারীমুক্তি বর্তমান পৃথিবীতে বহুল আলোচিত ও চর্চিত একটি বিষয়। নারীরা যে বহু যুগ ধরে এ পৃথিবীতে পুরুষতন্ত্র দ্বারা নিষ্পেষিত হয়ে চলেছে তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন রাখে না। হাল জামানার প্রায় সকল প্রগতিশীল আন্দোলনের কর্মীরা মনে করেন জগতে বর্তমানে দুই ধরণের শোষণ মোটা দাগে চলে। একদিকে ধনী মানুষ কর্তৃক ধনহীন মানুষের উপর অর্থনৈতিক শোষণ, আরেকদিকে পুরুষের দ্বারা নারীর উপর লিঙ্গভিত্তিক শোষণ। অবশ্য শুধু পুরুষ বললে একটু ভুল হয়ে যায়, বলতে হবে পুরুষতন্ত্র। এই পুরুষতন্ত্র সমাজের মধ্যে এমন একটা ভাব মানস তৈরি করেছে যার কবলে পড়ে নারীরাই নারীদেরকে শোষিত হতে সর্বাধিক ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, নারীরাই নিজেদেরকে পুরুষতন্ত্র দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার পথ করে দেয়। ফলে দিকে দিকে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি পুরুষতন্ত্র থেকে নারীদের মুক্তির আন্দোলনও দানা বেঁধে উঠছে।

কিন্তু এই যে শোষণ মুক্তির আন্দোলন, এর প্রকৃতি কেমন হবে, এর শত্রু-মিত্র কারা হবে তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেশ মতভিন্নতা রয়েছে। নারী মুক্তির প্রশ্নে একদল আন্দোলনকারী মনে করেন নারীর উপর পুরুষতন্ত্রের শোষণ একটি পৃথক সমস্যা। এ নিয়ে পৃথকভাবে কথা বলতে হবে, নিজেদের জন্য পৃথক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, পৃথকভাবে আন্দোলন করতে হবে।  আরেকদল অবশ্য নারী মুক্তির প্রশ্নে আলাদা কোন ভাবনা ভাবার প্রয়োজন মনে করেন না, তাদের বক্তব্য হচ্ছে, অর্থনৈতিক বৈষম্যই প্রধাণ বৈষম্য, দুনিয়া থেকে ধনিক শ্রেণীর নেতৃত্বে পরিচালিত পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা যদি দূর করা যায় তাহলে নারী মুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কমবে, এরজন্য আলাদা করে নারী মুক্তির আন্দোলন করার দরকার নেই।  একই সাথে অর্থনৈতিক শোষণ এবং পুরুষতান্ত্রিক শোষণ দুইটাকে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে দুইয়ের বিরুদ্ধেই যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা খুব বেশি চোখে পড়ে না।  কিন্তু ব্যতিক্রম হিসেবে অল্প কিছু জায়গায় খুব দারুনভাবেই এই দুটিকে সমন্বয় করে কাজ হচ্ছে।  আজ আমি তেমন এক ব্যতিক্রমী আন্দোলনের গল্প শোনাবো।

আমাদের এই গল্পের চরিত্ররা বাস করেন বর্তমান সিরিয়া রাষ্ট্রের উত্তর পূর্ব অংশে আর তাদের পোষাকি নাম হচ্ছে,  The Autonomous Administration of North and East Syria (NES)  তবে তারা নিজেরা এবং শুভানুধ্যায়ীরা এই অংশকে রোজাভা নামেই পরিচয় করিয়ে দেয়।  এই ভৌগলিক এলাকাটি ইরাক, ইরান এবং তুরষ্ক দ্বারা পরিবেষ্টিত।  জাতিতে কুর্দি এই মানুষগুলো এখানে গড়ে তুলেছে একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা, যেখানে আসাদ সরকার কিংবা অন্য কোন শক্তি বিশেষ কোন ভূমিকা পালন করতে পারে না।  সেখানে স্থাপিত হয়েছে জনতার সরকার।  সেই গল্পে যাওয়ার আগে চলুন আমরা ক্ষণিকের জন্য আরব ভূমির ইতিহাসের জানালায় উঁকি মেরে আসি।

আরবের ইতিহাস মোটের উপর পুরুষতন্ত্রেরই ইতিহাস।  বিগত পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করে সৌদি আরব, সিরিয়া, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক এই অঞ্চলগুলিতে নারী প্রধাণ কোন সমাজের খোঁজ পাওয়া যায় নি।  কমবেশি এই অঞ্চলগুলিতে নারীর উপর পুরুষের আধিপত্যই কায়েম রয়েছে মানুষের জ্ঞাত ইতিহাসে।  সেই বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলেই আজ গড়ে উঠছে নারীমুক্তির সবচেয়ে টেকসই সমাধান যা একই সাথে মানুষের বাক স্বাধীণতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

যাইহোক, আমরা আবার চলে যাই, উত্তর পূর্ব সিরিয়াতে যেখানে কুর্দি বিপ্লবীরা এক নতুন ধরণের সমাজ গঠন করেছেন।  কি সেই নতুনত্ব? সেখানে কোন দলীয় সরকার নেই, আছে জনতার সরকার।  কোন বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করে না কিংবা সরকারের বিরোধিতা করে না কিংবা রাস্তায় গিয়ে “জবাব চাই, জবাব দাও” বলে জবাব খুঁজে বেড়ায় না।  আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে খেয়াল করুন, মিছিল মিটিং হরতাল অবরোধ ছাড়া কেউ রাজনীতির কথা ভাবতে পারে? এ এক নতুন ধরণের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা।  সেখানে যা হচ্ছে, পুরো অঞ্চলকে খন্ড খন্ড করে বিভক্ত করে সর্ব কনিষ্ঠ খন্ডের অধিবাসীদের নিয়ে এক একটা পিপলস কমিউন গঠন করে।  সেই ভুখন্ডের সকল অধিবাসীকে ঐ কমিউনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর কমিউনের সদস্যরা একত্রে বসে নির্ধারণ করে তাদের এলাকার স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, শিল্প কারখানা, রাস্তা ঘাট, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকান্ড, জন নিরাপত্তা বজায় ইত্যাদি কিভাবে পরিচালিত হবে।  এই সব কাজের জন্য তারা আলাদা আলাদা কমিটিও করে দেয়, কমিটিগুলি জনগনের সিদ্ধান্তসমুহ বাস্তবায়ন করে।  নতুন কোন আইন প্রণয়ন করতে হলে কিংবা পুরনো আইন সংশোধন করতে হলে তিনশ জন মানুষ সংসদ ভবনে বসে হাত তুলে “হ্যা ভোট জয়যুক্ত হয়েছে” বলে কাজ সেরে ফেলার কোন উপায় নেই।  এইসব তৃণমূলের কমিউনগুলি থেকে প্রতিটা আইন কিংবা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে পাশ হয়ে উপরের স্তরে পৌঁছাবে এবং শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কমিউন থেকে প্রস্তাব জিতে এলে তা কার্যকর হবে।  মজার বিষয় হল, এইরকম কমিটি দেখানোর জন্য আমাদের এখানেও হয়, কিন্তু এইসব কমিটিগুলোতে আমজনতা খুব একটা অংশ গ্রহণ করে না আর জানেও না কিভাবে এরা কাজ করে, কিন্তু ওখানে সকল মানুষকে কোন না কোন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হয় এবং কোন না কোন সামাজিক কাজ করতে হয়।

তো কি কি কাজ আছে এইসব কমিউনের জন্য? এক কথায় সবকিছু।  যেমন, ঐ পৌরসভার আভ্যন্তরীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করবে জনগণের অংশগ্রহণে গঠন করা পুলিশ বাহিনী।  এই পুলিশ বাহিনীতে পৌর এলাকার সকল নাগরিককে রোটেশন অনুযায়ী অংশগ্রহণ করতে হবে।  এরপরে সেই এলাকার রাস্তাঘাটের মেরামত ও উন্নয়ন কাজের জন্য প্রয়োজনে সকল নাগরিককে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে হতে পারে।  রাস্তা কমিউন, মহল্লা কমিউন, ওয়ার্ড কমিউন তাদের আকার আকৃতি অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।  যেমন সবচেয়ে ছোট যে রাস্তা কমিউন সে তার এলাকার স্ট্রিট ল্যাম্প, পয়ো নিষ্কাশন, প্রতিবেশীর সুখ দুঃখের খবর নেয়া, বাচ্চাদের দেখভাল ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করে থাকে।  এভাবে তারা সকল রাষ্ট্রিয় কাজে জনগণকে যুক্ত করে এক অদ্ভুত রকমের সচেতন, সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ নাগরিক সমাজ গঠন করেছে।

কিন্তু যে কাজটি করে তারা সারা পৃথীবির মুক্তিকামী মানুষের নজর কেড়েছে তা হচ্ছে তাদের নারী সম্পর্কিত কাজ।  নারী প্রশ্নে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিবেচনায় কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  যেমন, যেকোন কমিটিতে ন্যুনতম ৪০% নারী সদস্য না থাকলে সে কমিটির স্বীকৃতি দেয়া হয় না।  প্রতিটি কমিটিতে একজন পুরুষ চেয়ারম্যান এবং সম মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী একজন নারী চেয়ারম্যান থাকতে হবে।  তারা তাদের সেনা বাহিনীতে নারীদের জন্য পৃথক ও স্বায়ত্তশাসিত বাহিনী তৈরি করেছে যেখানে নারী বাহিনী যুগপৎভাবে পুরুষদের বাহীনির সাথে লড়াই করলেও নারীরা নিজেদের মত করে সকল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  শুধু নারী সেনাবাহিনী নয়, বিভিন্ন সামাজিক কমিউনের পাশাপাশি পৃথক নারী কমিউনও তারা তৈরি করেছে।  পরিবারের নারী সদস্যকে জোর করে বিয়ে দেওয়া, বহু বিবাহ করা, নারীদের উপর ঘরোয়া নির্যাতন আর অনার কিলিং এর মত ঘটনা যা মধ্যপ্রাচ্যের  দেশগুলোতে আকছার  ঘটে তা করার চিন্তাও কেউ সেখানে করতে পারবে না।  মজার কথা হচ্ছে সেখানকার নারী কমিউনগুলো অন্য যেকোন কমিউনের যেকোন সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারে যদি সে সিদ্ধান্ত নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক হয়েছে বলে মনে করা হয়।  তারা তাদের এলাকায় যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে সেখানে জিনোলজি নামে একটা সাবজেক্ট চালু করেছে যার অর্থ নারীবিজ্ঞান। ভাবা যায়? এমনই এক চমৎকার পরিবেশ তারা নির্মাণ করেছে নারীদের জন্য যেখানে নারীরা অনায়াসেই হাজার বছরের সকল পুরুষতান্ত্রিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছে প্রাণভরে।  নারীদের এভাবে ক্ষমতায়িত করার ফলও পেয়েছে তারা হাতেনাতে।  যে আইএসকে মধ্যপ্রাচ্যের বাঘা বাঘা দেশগুলো হারাতে পারেনি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও চায়নি তাদের কোন পদাতিক সৈনিক আইএসের মুখোমুখি হোক সেই আইএসকে নাকানি চুবানি খাইয়ে হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে নারী পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত কুর্দি পেশমার্গা বাহিনী।

এবার একটু খোঁজ নেয়া যাক এই অদ্ভুত রকমের নারীভিত্তিক সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের মূল হোতা কে? কার চিন্তায় এবং উৎসাহে মধ্যপ্রাচ্যের মত কট্টর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী মুক্তির জয়গান বাজছে? সে সম্পর্কে জানার আগে আমাদের একটু কুর্দি জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে জানতে হবে।  কুর্দিরা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের আরব, তুর্কি, পার্শিদের মতই স্বতন্ত্র একটি জাতি যাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস।  জনসংখ্যার বিচারে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ বৃহত্তম জাতি এবং সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিহীন জাতি।  তুরষ্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়া মিলে ছড়িয়ে রয়েছে এই জাতির মানুষ।  এই কুর্দি জাতির রয়েছে বড় বেদনাদায়ক ইতিহাস।  প্রায় ৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা নিয়ে এই জাতি বিগত ১০০ বছর ধরে একটা নিজস্ব ভূখন্ডের জন্য লড়াই করেই চলেছে কিন্তু কোন দেশই তাদের এই ন্যায্য দাবীর স্বীকৃতি দিতে রাজি হচ্ছে না।  সবচেয়ে বেশি কুর্দি রয়েছে তুরষ্কে কিন্তু তুরষ্কের সংবিধানে তাদের কুর্দি পরিচয় আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  তুরষ্কে কুর্দি ভাষায় কথা বলা, সন্তানের কুর্দি নাম রাখা কিংবা কুর্দি সংস্কৃতি বহন করে এমন যেকোন কর্মকান্ডই নিষিদ্ধ।  এরকম বুলডোজারের মত নিপীড়নের ফলে কুর্দিদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জারি রয়েছে বিদ্রোহ।  বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গ্রুপে বহুবার তুরষ্ক রাষ্ট্রের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে কুর্দিরা।  তেমনই একটা বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা হচ্ছেন আব্দুল্লাহ অচালান।

এই আব্দুল্লাহ অচালানই হচ্ছেন অধুনা রোজাভার নারী কেন্দ্রিক সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের প্রধান কুশীলব।  তুরষ্কে জন্ম নেয়া এই ব্যক্তি সিরিয়ায় অবস্থান করে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা মিলে পিকেকে নামে একটি গেরিলা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তুরষ্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।  আরও অনেক কুর্দি সংগঠন তুরষ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও এই পিকেকের মত এত ক্ষয়ক্ষতি আর কেউ করতে পারেনি।  তুরষ্ক রাষ্ট্রের কয়েক হাজার সৈন্য, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ পিকেকের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় এবং বহু বহু সরকারি স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।  যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট পিকেকে কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৯৮ সালে আব্দুল্লাহ অচালানকে কেনিয়ার নাইরোবিতে তুরষ্কের হাতে তুলে দেয় আমেরিকার গোয়েন্দা বাহিনী।  এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অচালান দীর্ঘ কারাবাসে আছেন।  অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে এই হলেন আব্দুল্লাহ অচালান।  তুরষ্ক রাষ্ট্র ভেবেছিলো তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখলে আন্দোলন আর আগাবে না, কুর্দিস্তানের স্বপ্ন ধুলায় লুটিয়ে যাবে কিন্তু তা যে নেহাতই দুরাশা তা প্রমাণ হয়েছে পরবর্তী সময়ে।  আজকের দিনে কুর্দিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ অচালান।  সিরিয়াতে যতগুলো কুর্দি রাজনৈতিক দল রয়েছে তাদের বড় অংশই আব্দুল্লাহর চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত।  কি তার চিন্তা?

এক হিসেবে দেখতে গেলে খুবই সাধারণ এবং সহজ তার চিন্তা।  তিনি বলেন, “A society can never be free without women’s liberation”. অর্থাৎ, “নারীকে স্বাধীনতা না দিলে কোন সমাজ কখনোই স্বাধীন হতে পারবে না।” এই কথা বলে তিনি নারী স্বাধীনতাকে তিনি নিয়ে এলেন সর্বাগ্রে আর তার সাথে যুক্ত করলেন আরও তিনটা বিষয় যথা, প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, পরিবেশ সুরক্ষা এবং যৌথ উৎপাদন ও বিপণন।  তিনি যদিও এক জীবনে মার্ক্সবাদী লেনিনবাদী রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নৈরাষ্ট্রবাদী রাজনীতিক ও দার্শনিক মুরে বুকচিনের চিন্তা দ্বারা আকৃষ্ট হলেন।  পরবর্তীতে এই ধারার আরও অনেকের চিন্তাধারার সাথে পলিমিক্স করে তিনি তৈরি করলেন তার নিজস্ব রাজনৈতিক তত্ত্ব ও কর্মসূচি যার কেতাবি নাম Democratic Confedarelism আর রচিত হল নতুন ইতিহাস।  আজ তিনি জেলে বন্দী কিন্তু তার চিন্তা মুক্ত করছে আরব ভূমির হাজারো লাখো শৃঙ্খলিত নারীকে।

স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে, নারী মুক্তি আন্দোলন কিংবা সামাজিক মুক্তি আন্দোলন কোনটাকেই আর আলাদা করে দেখতে রাজি নন উত্তর পূর্ব সিরিয়ার বিপ্লবী জনতা।  নারী মুক্তির এজেন্ডাকে সামনে রেখেই তারা এগিয়ে চলেছেন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে চিরতরে দূরীভূত করার মহান লক্ষ্যে।  ভারতীয় উপমহাদেশের যারাই সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নকে লালন করছেন নিজেদের চোখে তাদের জন্য উত্তর পূর্ব সিরিয়ার গল্পটা ভাবনার খোরাক জোগাতে পারে।  এরপর ভবিষ্যৎই বলে দেবে মানব সভ্যতা কোন পথে তার মুক্তির পথ খুঁজে নিয়েছিলো।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 175
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    175
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ