Trial Run

পুলিশের হেফাজতে শিক্ষানবীশ আইনজীবীর মৃত্যু

বরিশালে রেজাউল করিম রেজা নামক এক যুবককে গোয়েন্দা পুলিশ ধরে নেওয়ার কয়েকদিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। ভিক্টিমের স্বজনদের দাবি পুলিশের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার (রেজার) মৃত্যু হয়। ৩০ বছর বয়সী রেজাউল করিম রেজা কিছুদিন আগে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বরিশালের আদালতে শিক্ষানবীশ আইনজীবি হিসাবে কাজ করছিলেন।

মৃত রেজাউল করিম রেজার পিতা ইউনুস মুন্সী বলেন, গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর হামিদ খান সড়কের মুখে মাদ্রাসার সামনে থেকে রেজাকে আটক করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন মাহীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা রেজার কাছে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম জানতে চান। কিন্তু রেজা কোনো মাদক বিক্রেতাকে চিনেন না বললে তার মোবাইল নিয়ে যায় এসআই মহিউদ্দিন। এক পর্যায়ে রেজার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। এসময় রেজা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। এরপর আর ছেলের খোঁজ পাওয়া যায়নি।  শুক্রবার (১ জানুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলা হয় তার ছেলে প্রিজন সেলে ভর্তি আছেন, তার প্রস্রাবের রাস্তা থেকে অতিরিক্ত রক্ত বের হচ্ছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রেজাকে দুই ব্যাগ রক্তও দেয়া হয়।  অতঃপর রেজা মারা যায়।  এসআই মহিউদ্দিনের নির্যাতনের তার ছেলে মারা গেছে বলে দাবি করেন মৃত রেজার পিতা ইউনুস মুন্সী।

ইউনুস মুন্সী অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, “রেজার শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এসআই মহিউদ্দিনের নির্যাতনে রেজার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

ডিবি পুলিশ এই নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন মাহী বলেন, রেজা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার কাছ থেকে গাঁজা ও নেশা জাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে আটকের পর পৌনে ১২টায় কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। মাত্র পৌনে ৩ঘণ্টা রেজা ডিবি পুলিশের হেফাজতে ছিল। এই সময় তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি নূরুল ইসলাম বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাতে রেজাকে মাদকদ্রব্যসহ থানায় সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সবকিছু নিয়ম অনুয়ারী হয়েছে। তবুও পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল ‍সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলেন, ৩০ ডিসেম্বর আসামি রেজা কারাগারে আসেন। কারাগারে আসার কাগজে তার অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। শুক্রবার রাতে তার দুই পায়ের ফাঁক থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেজাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়েছে।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares