Trial Run

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের তালিকা করবে সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসসহ সকল মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের একটি তালিকা প্রকাশের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে মন্ত্রিসভা সোমবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২০ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা ভার্চুয়ালি যোগদান করেন।

সভাশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘রাজাকার, আলবদর ও আল-শামসের একটি তালিকা প্রকাশের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২০ এর খসড়া নীতিগতভাবে আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করেছে।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব আরও বলেন, ২০০২ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ছিল। সেই আইনে রাজাকারের তালিকা করার বিষয়টি ছিল না। ফলে পরিপূর্ণভাবে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না আইনটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী বলতে কী বোঝাবে, রুলে তা বিস্তারিত বলা থাকবে। আইন পাসের পর বিধি করা হবে। নতুন আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২ বাতিল করা হবে বলে সচিব জানান।

তিনি জানান, আইনে বলা হয়েছে- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন বা আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন, তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার ‘ভুয়া’ সনদধারীরা কী ধরনের অপরাধ করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে শাস্তির সুপারিশ করবে কাউন্সিল। শুধু সার্টিফিকেট, নাকি অন্য সুবিধা নিয়েছে, নাকি দুটোই নিয়েছে বা তার সন্তানরাও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন কিনা, তার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নিবন্ধন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান সংগঠনের নিবন্ধন, কাউন্সিলের কার্যকলাপ পরিচালনা, অর্থায়ন, তহবিল ও বাজেট কীভাবে হবে- সেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা আছে বলে সচিব সাংবাদিকদের জানান।

এসডব্লিউ/নসদ/০৮২০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares