Trial Run

রেল যাচ্ছে কক্সবাজারে

ছবি : বাংলা নিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ১০০ কিলোমিটার রেল পথ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি যৌথ অর্থায়নে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সমীক্ষা শেষে ২০১০ সালের ৬ জুলাই নতুন রেললাইন স্থাপনের জন্য ডিপিপি অনুমোদন দেয় সরকার। ২০১৬ সালে প্রকল্পটি ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার রেলপথে স্টেশন থাকছে ৯টি। এগুলো হলো- সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম। এসব স্টেশনের মধ্যে চকরিয়া স্টেশন নির্মাণের জন্য পাইলিং কাজ শুরু হয়ে গেছে। এর আগে শুরু হয়েছে কক্সবাজার স্টেশন নির্মাণের কাজ এবং যা বর্তমানে দৃশ্যমান অবকাঠামো।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চন্দনাইশে ১০ একর, সাতকানিয়ায় ১৭৬ একর, লোহাগাড়ায় ১৭৭ একর, চকরিয়ায় ৫১৪ একর, কক্সবাজার সদরে ২১০ একর ও রামুতে ২৭৯ একরসহ মোট ১ হাজার ৩৬৬ একরের মধ্যে বন বিভাগের ১৬৫ একর ছাড়া বাকি সব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, করোনার কারণে কাজের গতি একসময় থমকে ছিল। এ ছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে প্রকল্পের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কাজের গতি বাড়িয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে প্রকল্পে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সবাই রাত-দিন পরিশ্রম করছেন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এ লাইন রেল চলাচল উপযোগী হবে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে রেল যাবে কক্সবাজারে। রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে বলে মন্ত্রীর অভিমত।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হলে রাজধানী ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে অনায়াসে কক্সবাজারে আসতে পারবে পর্যটকরা। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত সহজ হওয়ার কারণে অধিক সংখ্যক পর্যটকের কক্সবাজারে আগমন ঘটবে। একই সাথে এই রেল লাইনটি দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত দিয়ে তারা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

ডিই/ফাআ/নসদ/১২১০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares