Trial Run

টিকা প্রদানে দক্ষিণ এশিয়ায় সবথেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ

করোনা সামলাতে যতটা না হিমশিম খেয়েছে সরকার, টিকা নিয়ে তালগোল পাকিয়েছে তারও বেশি। অব্যবস্থাপনা আর অদক্ষতার প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট প্রাইজটা এক্ষেত্রেও আমাদের। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভাইরাসের টিকা দিয়ে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয় প্রায় চার মাস আগে। অগ্রগতি বলতে অতটুকুই। ইতিমধ্যে যারা সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে 

আর এখনও টিকা জোগাড় করতে বিভিন্ন দেশের কাছে হাত পাতছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। উপহারে টিকা দিয়েই কোনমতে চলছে টিকা কার্যক্রম। তবে জিডেপি আর উন্নয়নের গালভরা কথায় জুরি মেলা ভার বর্তমান সরকারের। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা টিকা প্রদানে সবথেকে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ভারত, পাকিস্তান, এমনকি নেপালের থেকেও পিছিয়ে আছে। 

টিকা প্রদানে দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র

বাংলাদেশে করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ২৮ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ১ কোটি ২৭ হাজার ৭৬০। 

ভারতে করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ১৬ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ২২ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৫।

পাকিস্তানে করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ২ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ৮ কোটি ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৬৩।

নেপাল করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ২৭ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ ৪ হাজার ৫৭৪।

ভুটান করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ২৭ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১৬। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের হিসেবে ভুটানের জনসংখ্যা আনুমানিক ৮ লক্ষ।

শ্রীলঙ্কা করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ২৯ জানুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৪। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের হিসেবে দেশটি জনসংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ১৮ লাখ।

মালদ্বীপে করোনার টিকা দেয়া শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি। এখন অব্দি মোট প্রদত্ত ডোজের সংখ্যা ৪ লাখ ৮২ হাজার ৬২৮ জন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের হিসেবে দেশটি জনসংখ্যা আনুমানিক  ৫ লাখ ৩১ হাজার।

‘সবাই টিকা দেবে বলে, কিন্তু হাতে আসছে না’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকার ঘাটতি পূরণের জন্য বিভিন্ন দেশকে টিকা পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবাই টিকা দেবে বলে। কিন্তু হাতে আসছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের কাছে ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা জানান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আছে জেনে সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনুরোধ জানালাম। পরে জানা গেল, করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে যে দেশগুলোতে টিকা দেওয়া হবে তার অগ্রাধিকারের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। পরে অবশ্য আমরা জেনেছি আমাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে। এ ছাড়া কোভ্যাক্স থেকেও দেবে সেটা বলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আমরা।’

যদিও ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোভ্যাক্সের আওতায় বিভিন্ন দেশে যে টিকা দিচ্ছে, তাতে অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে বাংলাদেশ। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের উপহারের এই টিকা বাংলাদেশে আসবে।

করোনার টিকা সর্বজনীন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম থেকেই বলে আসছেন যে, টিকা যেন সর্বজনীন পণ্য হিসেবে গণ্য হয়। আর সব দেশের লোকের তা বৈষম্যহীনভাবে পাওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোট টিকার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ আছে ধনী দেশের কাছে। মাত্র শূন্য দশমিক তিন শতাংশ আছে গরিব দেশগুলোর কাছে। এ জন্য টিকা নিয়ে হাহাকার। কেউ টিকা পাচ্ছে না। 

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি রিপোর্ট এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন। তারা টিকা সংগ্রহ করেছে ৯৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন। আমরা তাদের কাছে চেয়েছি। আমরা তাদের টিকা দেওয়া জন্য বলেছি। তারা বলেছে দেবে। সবাই বলে দেবে। কিন্তু হাতে আসছে না।’ 

অক্সফোর্ডের টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শুক্রবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ তথ্য জানান।

আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘আমরা কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাচ্ছি।’

কোভ্যাক্সের আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই টিকার চালান শিগগির বাংলাদেশে আসবে বলেন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

৬ লাখ টিকা উপহার দিচ্ছে চীন

ঢাকায় চীনা দূতাবাসের উপ-রাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান আজ শুক্রবার সকালে তার ফেসবুক পেজে জানান, চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ছয় লাখ করোনার টিকা আগামী রোববার ঢাকায় আসছে।

হুয়ালং ইয়ান লিখেছেন, চীনের উপহারের ছয় লাখ টিকা এখন বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পথে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চীনের উপহারের ছয় লাখ ডোজ টিকা আনতে দুটি সি-১৩০ প্লেন পাঠানো হচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দিচ্ছে।

টিকা কিনিতে কর্মকর্তাদের অদক্ষতা

চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক থেকে করোনাভাইরাসের টিকা কিনতে সরকার এ সপ্তাহে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীনের সিনোফার্ম থেকে দেড় কোটি টিকা কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। মে মাসের শেষ সপ্তাহে সরকারের এক অতিরিক্ত সচিব সাংবাদিকদের কাছে সিনোফার্মের টিকার দাম বলে দেন। এতে সিনোফার্ম থেকে জুন মাসে টিকার প্রথম চালান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সিনোফার্মের টিকা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দামে কিনেছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ এ বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশও করেছে।

সরকার ৬ জুন সিনোভ্যাকের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। এর আগে ১ জুন এ টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘সিনোভ্যাকের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশও জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। সিনোভ্যাকের সঙ্গে আমরা এ সপ্তাহেই আলোচনা শুরু করব।’

এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৬৩২ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ