Trial Run

দ. এশিয়ায় সরকারবিরোধী কথা বলায় লাগাতার খুন-অপহরণের শিকার সাংবাদিকেরা 

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে সাংবাদিকতা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা 

দক্ষিণ এশিয়ায় সংবাদকর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে কাজ করতে পারেন- এমন দেশের সংখ্যা গত এক বছরে কমে গেছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বর্তমানে সাংবাদিকতা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত বড় একটা সময় জুড়েই এশিয়ার এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। তবে শুধুমাত্র নিউজের উপর সেন্সরশিপ চালিয়ে থেমে নেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। ক্ষমতার জন্য হুমকির হতে পারে, এমন সাংবাদিকদের অপহরণ নির্যাতনের মধ্য দিয়েও যেতে হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হাতে হতে হচ্ছে খুন।

এ প্রসঙ্গে, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফ ডেলোয়ের বলেন, গোপন অথবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে যদি সাংবাদিকরা পরিণত হন বলির পাঁঠায়, তা হলে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মহাঝুঁকির মধ্যে আছে।

বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে এক সাংবাদিককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের মূল হোতা স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই ও একজন ইউপি সদস্য৷ তারা ওই এলাকায় প্রশাসনের চোখের সামনেই নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। নির্যাতনে আহত দৈনিক ‘সংবাদ’-এর তাহিরপুর প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন মাথা ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে পান৷ 

তিনি জানান, তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাঘটিয়া এলাকায় যাদুকাটা নদীতে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন শ্রমিক নিয়োগ করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাথর ও বালু তুলছেন৷ তিনি প্রথমে পুলিশকে খবর দেন৷ পুলিশ তাকে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেয়ার অনুরোধ করে৷ এরপর তিনি  খবরের জন্য ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন৷ তখন সেখানে উপস্থিত এই অবৈধ ব্যবসার ‘গডফাদার’ মাহমুদ আলি কোথাও ফোন করে৷ এরপরই সে সাংবাদিক কামালের কাছে গিয়ে জামার কলার ধরে তার হাতে থাকা ভোজালি দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তিনি সরে গেলে তার কপালে লাগে৷

ওই সময় তারা সেখানে ২০-৩০ জন ছিলেন৷ এরপর তাকে  রড দিয়ে আঘাত ও কিল ঘুষি দেয়া হয়৷ তখন তিনি জ্ঞান হারান৷ যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি দেখেন তাকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ পাশের বাদাঘাট চকবাজারে নিয়ে  গিয়ে গাছের সাথে বাঁধা হয়৷ তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে আবারো মারপিট করে৷

ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ ছিলেন ৫৩ দিন৷ এরপর কারাগারে ছিলেন দীর্ঘ সাত মাস৷ ২০২০ সালের ১০ মার্চ নিখোঁজ হয়েছিলেন কাজল৷ ৫৩ দিন পর বেনাপোল সীমান্তের কাছে থেকে তাকে ‘আটকে’র তথ্য জানায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি৷ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে৷ মামলা তিনটি দায়ের করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর এবং যুব মহিলা লীগের দুইজন নেতা৷

শফিকুল ইসলাম কাজল জানান, “বেনাপোলে ছেড়ে দেয়ার আগ পর্যন্ত ৫৩ দিন আমার চোখ বাঁধা ছিল, মুখ আটকানো ছিল আর হাতে ছিল হ্যান্ডকাফ৷ আমি কেবল দিন গুণতাম৷ এই অবস্থাটা বর্ণনা করার মতো না৷ আমি আমার পরিবারের কথা চিন্তা করে সময় কাটিয়েছি৷ খালি মনে হতো ওদের আর দেখতে পাবো কিনা৷ মনে হচ্ছিল মারা গেছি আর কোনোদিন ফিরতে পারবো না৷”

তিনি বলেন, “মনে হচ্ছিল যেন একটি কবরের ভেতরে আছি, খুব ছোট একটা জায়গা, ছিল না কোনো জানালা৷”

কিন্তু কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, কেন বা কোথায় তাকে আটকে রেখেছিল, তা তিনি প্রকাশ করতে চাননি৷ জানাতে চাননি তার অপহরণকারীরা কী চেয়েছিল বা কিসের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দিয়েছে৷

অপহরণের পর উদ্ধার চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সরোয়ারের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছিল তাতে তাকে শুধু বলতে শোনা গেছে, “আমি আর নিউজ করব না প্লিজ, আমি আর নিউজ করব না প্লিজ৷”

অপহরণকারীরা বার বার যখন অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল তখন তারা স্যার স্যার বলছিলো৷ তারা আরো বলছিল, “সাংবাদিকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য সরোয়ারকে তুলে এনেছি, হত্যার জন্য নয়৷” তারা তাকে নির্যাতনের সময় বার বার বলছিল, “আর নিউজ করবি?”

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২১ সালের প্রকাশিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশ গত বছরের তুলনায় আরও এক ধাপ পিছিয়েছে। সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আর্টিকেল নাইনটিনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ১৭২টি মামলার মধ্যে ৭০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৩টি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয় ৮৬ জনকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে আট জন সাংবাদিক, এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ৫০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই জন সাংবাদিক রয়েছেন।

১১ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে। অনলাইনে মত প্রকাশের কারণে ৪১০টি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মধ্যে ৪টি আদালত অবমাননার মামলা৷ করোনার কারণে মিডিয়া হাউজগুলোর আয় সঙ্কুচিত হওয়ায় ২০২০ সালে  এক হাজার ৬০০ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়৷

ভারতের উত্তরপ্রদেশে রাকেশ সিং ও পিন্টু সাহু নামক দুই সাংবাদিককে স্যানিটাইজার ঢেলে ঘরের মধ্যে জীবন্ত দগ্ধ করা হয়। উত্তরপ্রদেশে ‘রাষ্ট্রীয় স্বরূপ’ নামক পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন তারা। 

ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে। রাকেশ এবং পিন্টু যখন নিজেদের বাড়িতে ছিলেন তখন অতর্কিতে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে পিন্টুর মৃত্যু হলেও রাকেশ লড়াই চালিয়েছিলেন। জীবন্ত দগ্ধ রাকেশের দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে লখনউয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় হলে তাকে মৃত হিসেবে ঘোষণা করা হয়!

ভারতের বেঙ্গালুরুর রাজারাজেশ্বরী নগরে নিজের বাসভবনে খুন হয়েছেন ‘‌লঙ্কেশ পত্রিকা’-র সম্পাদক গৌরী লঙ্কেশ৷ মোটর বাইকে করে তিনজন দুষ্কৃতি সামনে থেকে গুলি করে পালায়৷ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার৷ বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর৷

সাপ্তাহিক ট্যাবলয়েডে বিজেপি সংঘ পরিবারের কট্টর সমালোচনা করতেন তিনি৷ ভয়, ডর উপেক্ষা করে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে বারবার কলম ধরেছেন৷ এর আগে ২০০৮ সালে তার সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের জেরে দুই বিজেপি নেতা গৌরী লঙ্কেশের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন৷ সেই মামলায়  ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত৷ সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা৷ 

ভারতের কেরালা রাজ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান পরিচিত নাম। অল্প বয়সী এই সাংবাদিক বিভিন্ন পোর্টালে নিয়মিত লেখালেখি করেন। গত বছর অক্টোবর মাসে দলিত সম্প্রদায়ের এক কিশোরীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের হাথরসে যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানে যাওয়ার পথে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে। সাত মাস পর গত ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগে উত্তর প্রদেশ পুলিশ আদালতে পাঁচ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দিয়েছে।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২১ সালের প্রকাশিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ভারতের অবস্থান ১৪২তম।

ভারতে সংবাদমাধ্যমের জন্য ২০২১ সালের শুরুটা ভালোভাবে হয়নি। জানুয়ারি মাসের ১৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১৫ জন সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। তাদের কাউকে কাউকে কয়েক দিন জেলে রেখে জামিন দেওয়া হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে মণিপুরের তিন সাংবাদিক— পাওজেল চাওবা, সাদকপাম ধীরেন এবং এম জয় লুয়াংকে বিশেষ নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। কৃষকদের প্রতিবাদের সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দিল্লির দুই সাংবাদিক মনদীপ পুনিয়া ও ধর্মেন্দ্র সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সুক্কুর শহরের ঘটনা। সালেহ পত এলাকার একটি সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক অজয় লালওয়ানি। সেখানে দু’টি মোটরবাইক ও একটি গাড়িতে চেপে জনা কয়েক দুষ্কৃতী আচমকা হামলা চালায়। অজয়ের পেট, হাঁটু আর হাতে পরপর কয়েকটি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রক্তাক্ত অজয়কে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। যদি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল ও একটি উর্দু দৈনিকে সাংবাদিকতা করতেন অজয়। বরাবরই পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তের পর সুক্কুরের পুলিশ জানায়, ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা থেকেই অজয়ের ওপরে হামলা হয়েছে। যদিও সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন নিহত সাংবাদিকের বাবা দিলীপ কুমার। তিনি দাবি করেন, তার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না।

২০১২ সালে পাকিস্তানে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন ভয়েস অব আমেরিকায় কর্মরত মুকাররাম খান আতিফ নামের  এক সাংবাদিক। পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে শবকদর শহরে তার বাড়ি। নিহত সাংবাদিকের বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদে বন্দুকধারীরা তার ওপর হামলা চালায়। মাগরিবের নামাজের সময় দুই ঘাতকের একজন মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে সাংবাদিক আতিফের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘাতকের গুলিতে মসজিদের ইমামও গুলিবিদ্ধ হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত এ সাংবাদিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে তিনি মারা যান। 

নিহত সাংবাদিক পাকিস্তানে ভয়েস অব আমেরিকার পরিচালনায় পশতু ভাষার দিয়া রেডিওতে কাজ করতেন। এর পাশাপাশি তিনি সংবাদ পরিবেশনকারী টিভি চ্যানেল দুনিয়ার হয়েও কাজ করতেন। তিনি স্থানীয় মোহমান্দ এজেন্সি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। সাংবাদিক আতিফ মূলত মোহমান্দ উপজাতীয় এলাকার বাসিন্দা। কাজের সুবাদে অতীতেও তিনি জঙ্গিদের তরফে হুমকির সম্মুখীন হয়েছিলেন। 

সম্প্রতি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমালোচনার জেরে দেশটির প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মিরকে তার উপস্থাপিত টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ওই টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে পাকিস্তানি এক সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যের পর সোমবার তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো।

ওই পাকিস্তানি সাংবাদিক যার জন্য সমাবেশ, তিনি হলেন আসাদ আলী তুর, যিনি সর্বদা দেশটির প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। গত সপ্তাহে গভীর রাতে ইসলামাবাদে তার অ্যাপার্টমেন্টে তাকে আক্রমণ করা হয়। হামলাকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাকে আক্রমণ করে। মারধর করে। কাজের জন্য সতর্ক করে। আসাদ আলী তুর দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত ছিলেন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪৫ তম। পাকিস্তানে গত এক দশকে কমপক্ষে ৬০ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কোনও রাষ্ট্র যদি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করে, তবে সেখানে গণমাধ্যমের একশভাগ স্বাধীনতা থাকতেই হবে। যে গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করবে, সেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আবার সেই সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। জনসাধারণের কথাই উঠে আসে গণমাধ্যমে। তাই এই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করতে পারলে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এই বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে সাংবাদিকতা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। সরকারের সমালোচনায় প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি সামনে আনতে গিয়ে নির্যাতিত হন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। মামলাও করা হয় তার নামে। সব মিলিয়ে গণতন্ত্রের নামের আড়ালে স্বৈরতন্ত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই উপমহাদেশ। আর তার সবথেকে দগদগে ক্ষত নিয়ে নির্বিকারভাবে ক্ষমতার গদি এঁটে বসে আছে এই তিনদেশের সরকার। গনতন্ত্রের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় সামিগ্রিকভাবে এতো বড় হুমকি আগে আর দেখা যায়নি। এখানে উন্নয়ন আর ধর্মের নামে স্বৈরতন্ত্রের পেরেক গেঁথে দেয়া হচ্ছে গণতন্ত্রের বুকে। 

এসডব্লিউ/এমএন/এসএস/১৬৫১ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগিতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ