Trial Run

মহামারিতে বিশ্বব্যাপী জিডিপি হ্রাস পেলেও বেড়েছে সামরিক ব্যয়

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

মহামারী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) বিধ্বস্ত গোটা বিশ্ব। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে অর্থনীতিতে। মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী জিডিপি হ্রাস পেলেও জিডিপির অংশ হিসেবে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিচ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) একদল গবেষক তাদের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানান।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় বিশ্বব্যাপী জিডিপি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া সত্ত্বেও সামরিক খরচ বৃদ্ধির অর্থ হলো প্রতিরক্ষা খাতে খরচ জোগাতে ঘাটতি বাজেটের বোঝা টানতে হয়েছে অনেক দেশকে।

এ প্রতিবেদন লেখকদের একজন দিগো লোপেজ দ্য সিলভা জানান, এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ধারণা করা হয়েছিল ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় হ্রাস পাবে। কিন্তু অবশেষে দেখা গেল কোভিড-১৯ ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

সামরিক খাতে এমন বিপুল ব্যয়ের ধাক্কা অনেক দেশকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেন এ গবেষক।

২০০৯ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর এত বেশি হারে সামরিক বাজেট বৃদ্ধির ঘটনা এটাই প্রথম।

জিডিপির দুই শতাংশ সামরিক খাতে খরচের লক্ষ্য এ বছর পূরণ করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর ১২টি সদস্য দেশ। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল নয়।

২০২০ সালে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে পাঁচটি দেশ। তাদের সম্মিলিত ব্যয় বিশ্বজুড়ে মোট ব্যয়ের ৬২ শতাংশ। এ দেশগুলো হল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য।

সামরিক খরচে শীর্ষে গত বছরও ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যদিও দেশ দুটির মধ্যে খরচের পার্থক্য বেশ বড়।

গত বছর সামরিক খাতে ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যয় ২০১৯ সাল থেকে চার দশমিক চার শতাংশ বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে ২০২০ সালের বৈশ্বিক মোট সামরিক ব্যয়ের ৩৯ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

এ নিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়লো। এর আগে টানা সাত বছর ধরে দেশটি এ খাতে ব্যয় হ্রাস করেছিল।

গত বছর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় ছিল চীনের। ওই বছর এ খাতে দেশটির মোট হিসাবকৃত ব্যয় ২৫২ বিলিয়ন ডলার, পূর্ববর্তী বছর থেকে যা এক দশমিক নয় শতাংশ বেশি। চীনের সামরিক ব্যয় গত ২৬ বছর ধরে ক্রমাগত বেড়েছে।

এসআইপিআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করা একমাত্র দেশ চীন। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে মোট প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ১৩ শতাংশ করেছে বেইজিং।

সাত বছর প্রতিরক্ষা বাজেট নিম্নমুখী থাকার পর বিগত তিন বছর ধরে এ খাতে খরচ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে টানা ২৬ বছর ধরে ঊর্ধ্বমুখী অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী সামরিক বাজেট চীনের, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।

বিশ্বে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে সংক্রামক এ ভাইরাসে প্রাণ গেছে প্রায় ছয় লাখ মানুষের। সংক্রমিত সোয়া তিন কোটির বেশি।

এসআইপিআরআই বলছে, কিছু দেশে মহামারির কারণে এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও চিলি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে সামরিক বাজেটে কাটছাঁট করে উদ্বৃত্ত অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে।

যদিও চিলি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কিছু দেশ তাদের পরিকল্পিত সামরিক ব্যয়ের কিছু অংশ মহামারী মোকাবেলার জন্য হস্তান্তর করেছে। অপরদিকে ব্রাজিল ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ ২০২০ সালের জন্য তাদের প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত বাজেটের চেয়ে অনেক কম ব্যয় করেছে।

এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো কিছু দেশ আবার মহামারির কারণে সামরিক বাজেট কমানোর ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু ২০২০ সালে সামরিক খাতে খরচের জন্য দেশগুলোর যা বরাদ্দ ছিল, শেষ পর্যন্ত সে পরিমাণ অর্থ তারা খরচ করেনি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের তৃতীয় ও প্রাণহানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় চার লাখ মানুষের। ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে প্রায় দেড় কোটি মানুষের দেহে।

অন্যদিকে তালিকায় সংক্রমণের দিক থেকে পঞ্চম ও মৃত্যুর দিক থেকে সপ্তম শীর্ষ দেশ রাশিয়া। প্রাণহানি এক লাখের বেশি। আক্রান্ত প্রায় ৪৮ লাখ।

আবার হাঙ্গেরি ও অন্য কিছু দেশ মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে সামরিক খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, ২০০৮-০৯ সালে অনেক দেশ অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে মিতব্যয়ী বাজেট ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এবার তেমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৯৫০ 


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগিতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ