বিশ্ব যেন ক্রমেই এমন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ঘটনা নয়। এক প্রান্তে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্য প্রান্তে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, কোথাও গৃহযুদ্ধ, কোথাও সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অস্থিরতা যেন পরস্পরের সঙ্গে অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক মেরুকরণ, জলবায়ু বিপর্যয়, শরণার্থী সংকট এবং পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি এখনো ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা, নাকি তার সূচনা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে?
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রচলিত অর্থে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু না হলেও বিশ্ব এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে, যেখানে একাধিক আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এই আশঙ্কার পেছনে রয়েছে শুধু যুদ্ধের সংখ্যা নয়; বরং বড় শক্তিগুলোর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এসব সংঘাতে জড়িয়ে পড়া। ফলে একটি অঞ্চলের সংঘাত অন্য অঞ্চলের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে এই উদ্বেগের কারণ কিছুটা স্পষ্ট হয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। যুদ্ধটি কেবল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তা ইউক্রেনকে টিকিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কও ক্রমেই সংঘাতপূর্ণ হয়েছে। ফলে ইউক্রেনের যুদ্ধ একটি আঞ্চলিক সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও একইভাবে উদ্বেগজনক। ২০২৩ সালে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পর এর প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনের পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া কয়েকটি দেশে একসঙ্গে দেখা দিতে পারে।
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনাও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইরান ও তার মিত্রগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা আরও তীব্র হয়েছে। হিজবুল্লাহ ও হুতিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর বাড়িয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশে হামলা বা পাল্টা হামলা দ্রুত অন্য দেশ ও গোষ্ঠীগুলোকে সংঘাতে টেনে আনতে পারে।
এশিয়াতেও একই ধরনের উদ্বেগ বাড়ছে। উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক এবং তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অন্যদিকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কতটা নির্ভর করতে পারবে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকি।
তাইওয়ান প্রশ্নটি শুধু চীন ও তাইওয়ানের বিষয় নয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান, জাপানের নিরাপত্তা, দক্ষিণ কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হলে তা খুব দ্রুত একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি অর্থনীতিও বড় ঝুঁকির মুখে। বৈশ্বিক ঋণ, বাণিজ্যঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং শেয়ারবাজারের অতিরিক্ত মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ঘিরে বিপুল বিনিয়োগও নতুন ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক উচ্চ বাজারমূল্যকে কেউ কেউ সম্ভাব্য বাজার-অস্থিরতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। একই সময়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোও উচ্চ সরকারি ঋণের চাপ সামলাচ্ছে। যদি বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দায় পড়ে, তাহলে তার প্রভাব শুধু অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সামাজিক অসন্তোষ রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও উসকে দিতে পারে।
যুদ্ধের সঙ্গে অর্থনীতির সম্পর্ক এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়বে পরিবহন, বিদ্যুৎ, কৃষি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন পণ্যের দামে। খাদ্যের দাম বেড়ে গেলে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অর্থাৎ একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের অভিঘাত শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বহু দূরের সাধারণ মানুষের জীবনেও পৌঁছে যেতে পারে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, সোমালিয়ায় খরা কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে জলবায়ু সংকট আর ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী সমস্যা নয়। খাদ্য ও পানির সংকট, বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তা লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে। এর ফলে শরণার্থী সংকট বাড়ছে, আর শরণার্থী প্রবাহকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।
যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকট একে অপরকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। যুদ্ধের কারণে কৃষি ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়, খাদ্য উৎপাদন কমে যায় এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্পদের ওপর চাপ বাড়লে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিরাপত্তা শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়; খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও পরিবেশও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গা অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র। বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো তাদের অস্ত্রভান্ডার আধুনিক করছে। শুধু পুরোনো অস্ত্র সংরক্ষণ নয়, নতুন প্রযুক্তি, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতাও চলছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী তুলনামূলক ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, কারণ এগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে দিতে পারে।
কোনো যুদ্ধ যদি পারমাণবিক শক্তিধর দুই বা ততোধিক দেশের সরাসরি সংঘাতে পরিণত হয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একটি ভুল হিসাব, ভুল সংকেত কিংবা সামরিক কমান্ডের কোনো ভুল সিদ্ধান্তও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ কারণেই পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো মানবজাতির জন্য ঝুঁকি।
এর পাশাপাশি দুর্বল হয়ে পড়ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আদালত, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জি-সেভেনের মতো প্রতিষ্ঠান ও জোটগুলো এখন নানা চাপের মুখে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বিতর্ক এবং বড় শক্তিগুলোর নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
গণতন্ত্রের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থী, বর্ণবাদী ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক মেরুকরণ গভীর হয়েছে। বিভিন্ন দেশে নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। যখন জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যায়, তখন উগ্রবাদ ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির জন্য জায়গা তৈরি হয়।
তবু এই অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যেও আশার জায়গা আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো কাজ করছে, আন্তর্জাতিক আদালতগুলো বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোট এখনো সক্রিয়। অর্থাৎ বৈশ্বিক ব্যবস্থা দুর্বল হলেও সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যায়নি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণেরা রাজনৈতিক দুর্নীতি, বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ, যুদ্ধ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামছে। তাদের অনেকেই পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তে আরও ন্যায়সংগত ও মানবিক একটি বিশ্বব্যবস্থার দাবি তুলছে। এই নাগরিক প্রতিরোধই হয়তো ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে—এই কথাটি তাই হয়তো আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এখনো রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তিগুলো সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু একই সঙ্গে অস্বীকার করার উপায় নেই যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাতগুলো ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং বড় শক্তিগুলোও এসব সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে।
আজকের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধ নয়; বরং একাধিক সংকটের একই সময়ে বিস্ফোরিত হওয়া। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, জলবায়ু বিপর্যয়, খাদ্যসংকট, শরণার্থী সমস্যা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র—এসব যদি একসঙ্গে তীব্র হয়, তাহলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ভয়াবহভাবে নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
তাই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তা। বিশ্ব যদি সংঘাতের এই আন্তঃসংযোগকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ছোট একটি আঞ্চলিক সংঘাতও বড় বিপর্যয়ের সূচনা করতে পারে। আবার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কূটনীতি, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক আস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে পরিস্থিতি এখনো সামাল দেওয়া সম্ভব।
শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেবল রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাবাহিনী বা পরাশক্তির হাতে নয়। কোটি কোটি সাধারণ মানুষের মনোভাব, প্রতিবাদ, সহমর্মিতা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষাও ইতিহাসের গতিপথ বদলাতে পারে। যুদ্ধের সম্ভাবনা যতই বাড়ুক, হতাশা কোনো সমাধান নয়। বরং এই অস্থির সময়েই শান্তি, মানবিকতা ও সহাবস্থানের পক্ষে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। কারণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো লেখা হয়নি—এবং সেই সিদ্ধান্ত লেখার ক্ষমতা মানুষের হাতেই রয়েছে।
আপনার মতামত জানানঃ