মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপের সংবাদে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চলছে বহুমাত্রিক আলোচনা সমালোচনা। কেননা কিছু কিছু দেশের ওপর তিনি কল্পনাতীত শুল্ক আরোপ করেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ থেকে এক লাফে ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসালেন হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ফিরে আসা ট্রাম্প।
তার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদদাতা অ্যালেক্স ট্রাভেলি।
সংবাদ মাধ্যমটির লাইভ আপডেটে তিনি লিখেছেন, ট্রাম্পের আজকের পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি এবং বেদনাদায়কভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দশম স্থানে থাকা দেশটি গত আগস্টে রাজনৈতিক উত্তেজনার পর থেকে সংকটে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশটির কারাখানগুলোর প্রচুর পোশাক তৈরি করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট পোশাকের প্রায় এক পঞ্চমাংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছেন অ্যালেক্স ট্রাভেলি।
বলেছেন, নতুন করে আরোপ করা ৩৭ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান ১৫ শতাংশের সঙ্গে যোগ করা হোক বা না হোক, আমেরিকায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে অনেক ব্যয়বহুল এবং বিরল করে তুলবে।
প্রসঙ্গত, অ্যালেক্স ট্রাভেলি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদদাতা। ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন এই সাংবাদিক। তিনি দ্য ইকোনমিস্টের সম্পাদক এবং সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। দর্শনের ওপর ডক্টরেট ছেড়ে অ্যালেক্স ১৯৯০ এর দিকে সাংবাদিকতায় আসেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ, যা ইউএসটিআর নামে পরিচিত, তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের পরিমান ছিল আনুমানিক ১০ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশে। আর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের মত।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম এবং ভুট্টা), যন্ত্রপাতি এবং লোহা ও ইস্পাত পণ্য। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইল সামগ্রী ও কৃষিপণ্য।
মি. ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে।
আপনার মতামত জানানঃ