Trial Run

প্রথম দিন ঢাকায় ঢিলেঢালা ‘লকডাউন’

ছবি:সংগৃহীত

করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হলেও ঢাকায় এর ছিটেফোঁটারও দেখা মেলেনি। শুধু মাত্র গণপরিবহন চলাচল ছাড়া রাজধানীর সবকিছুই স্বাভাবিক। কোথাও কোথাও যানজটও দেখা গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলিগুলো যেন আরও জমজমাট।

সেখানে ইচ্ছেমতো লোকজন ঘোরাফেরা করছে। নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়াও সব ধরনের দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। মাস্ক ছাড়াই অবাধে চলছে বেশিরভাগ লোক। কোথাও কোথাও উঠতি বয়সী তরুণরা আড্ডা দিচ্ছে।

অন্যদিকে লকডাউন কার্যকরে প্রশাসনের কোনো বিশেষ উদ্যোগ চোখে পড়েনি, তেমনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও বালাই ছিল না কোথাও। রাজধানীতে চলছে না গণপরিবহন। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দখল নিয়েছে রাজধানীর সড়কগুলো।

সোমবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী, ফার্মগেট, শনির আখড়া, মতিঝিল, যাত্রাবাড়িসহ একাধিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে ঢাকার বাইরে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারগুলো।

মহাখালী বাস টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়নের জয়েন্ট সেক্রেটারি মানিক মিয়া বলেন, আজকে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার বাইরে কোনো বাস যায়নি এবং যাবেও না। সরকারি নির্দেশনা যতদিন থাকবে আমরা ততদিন বাস চালাবো না।

এদিকে, রাজধানীর রায়েরবাগ, শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকার রাস্তায় বেশ কিছু বাস দেখা গেছে। রায়েরবাগ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বাস চলাচলের দাবিতে আন্দোলন করেছে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা।

নগরীর অলিগলি ছাড়াও প্রধান সড়কে রয়েছে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট। তবে বিপাকে পড়া নগরবাসীকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিকশাচালকদের বিরুদ্ধে। যাত্রীরা বলছেন, সব ক্ষেত্রেই তারা ভাড়া বেশি চাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত চাচ্ছেন। উপায় না পেয়ে সে ভাড়াতেই বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। আবার অনেকেই পায়ে হেঁটেও গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন।

মিরপুর ১০ নম্বরে হাসপাতালে যাবেন নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, ‘মিরপুর গাইনি হাসপাতালে বোন ভর্তি। খাবার নিয়ে যাব। কিন্তু রিকশা ভাড়া চাচ্ছে তিনগুণ। ৩০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১০০ টাকা। এটা তো অন্যায়। লকডাউন ঠিক আছে, কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে আমরা যারা বের হয়েছি তারা বিপদে পড়েছি। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়াই দিতে হয়েছে। ’

তবে রিকশাচালকরা দাবি করেছেন, লকডাউনের সময় তাদের জমা বেড়ে যায়। তাই তাদের অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হয়।

শহিদুল নামের একজন চালক জানান, আজ জমা বেশি। তাই ভাড়া একটু বেশি বলছেন। আবার রাস্তায় রিকশা ধরলে জরিমানাও দিতে হচ্ছে।

তাওহিদ নামে একজন বলেন, ‘বাসা থেকে বের হয়ে কোনো যানবাহন পাইনি। রিকশা ভাড়া চেয়েছে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু অফিসে আসতেই হয়েছে। তাই হেঁটেই চলে এসেছি। ১ ঘণ্টার বেশি হাঁটতে হয়েছে।’

রামপুরার ওয়াপদা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে যত্রতত্র দোকান বসেছে বিভিন্ন ধরনের সবজির। কিছু ক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও বিক্রেতাদের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী খোলা জায়গায় নিত্যপণ্যের বাজার বসানোর কথা থাকলেও মহাখালীর কাঁচাবাজারে প্রতিদিনের মতই বেচা-কেনা চলছে।

মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল রোডে কয়েকজন উঠতি বয়সী তরুণ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের একজনের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ঘরে বসে আছেন তারা। স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। তাই আর ঘরে ভালো লাগে না।

এ সময় মনির নামের এক যুবক বলেন, ‘ঘরে বসে থাকলেই কি করোনা ধরবে না? কপালে করোনা থাকলে কে আটকাবে?’

করোনার সংক্রমণ ফের বাড়ায় সোমবার সকাল ৬টা থেকে আগামী রোববার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৬১৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ