Trial Run

জনতা ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকা লোপাট, ডিজিএমসহ ৬কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রায় প্রতিদিনই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আসে। চিত্রটা এমন, যে যেভাবে সুযোগ পেয়েছে তার তার অবস্থান থেকে সেভাবেই অনিয়ম দুর্নীতি করেছে। অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরকারি কোনো দপ্তরই মুক্ত নয়।

জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের প্রায় ১৩ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় জনতা ব্যাংক লিমিটেডের দুই ডিজিএমসহ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান সোমবার (২৩ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন বলে পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান আসামিরা হলেন মেসার্স আসিফ অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং আসিফ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক আসিফ সালাহ উদ্দিন মালিক, জনতা ব্যাংকের এসপিও মো. মোর্তেজা আলম, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এজিএম মো. শাহাব উদ্দিন দাউদ, একই বিভাগের ডিজিএম এমএম আব্দুল হক এবং পিআরএল ভোগরত ডিজিএম মো. শাহনুর হোসেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে মালামাল রপ্তানি না করে রপ্তানি সংক্রান্ত এফডিবিপি নথিপত্র তৈরি করে।

আসামিরা মেসার্স আসিফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে আটটি ও আসিফ ফ্যাশন ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ১০টি জাল এফডিবিপি ডকুমেন্টের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় দেখিয়ে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের করপোরেট শাখা থেকে দুই ধাপে ১২ কোটি ৮১ লাখ ১৪ হাজর ১৯৬ টাকা আত্মসাৎ করে।”

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের ৫(২ ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অনুসন্ধানের তথ্য উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়েছে, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে এই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। তাতে দেখা যায়, আগে রপ্তানি হয়েছে এমন ইস্যু হওয় ইএক্সপি নম্বর পুনরায় রপ্তানি ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে ইস্যু করা হয়েছে; যা রপ্তানি ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে ইস্যুর সময় যাচাই করা হয়নি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ওই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি দপ্তরগুলোও আমাদের সমাজের মতোই ঘুণেধরে আছে। সমাজে সরকারি চাকরি নিয়ে প্রচলিত যেসব ধারণা রয়েছে অর্থাৎ সরকারি চাকরি করলে উপরি আয়ের ব্যবস্থা ভালো, আর এই মতেই অভিভাবকরা উঠেপড়ে লেগে যান সন্তানকে সরকারি অফিসার বানাতে, এটা সমাজ, রাষ্ট্র ও জাতি বিনির্মাণে যেমন বিপজ্জনক তেমনি নৈতিক দিক দিয়ে বেড়ে ওঠাও অনেক চ্যালেঞ্জের। ফলে বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়ম আর দুর্নীতির মতো অভিযোগ উঠে আসে। শুধু মামলা মোকদ্দমা করেই দুর্নীতি থেকে পার নয়, সমাজের রন্ধ্রে সরকারি চাকরি নিয়ে যে ধারণা বিষের মতো ছড়িয়ে আছে এটাও নির্মূলে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নয়তো প্রজন্ম পর প্রজন্ম সরকারি চাকরিতে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৩৫৯


State watch সকল পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত সংবাদ মাধ্যম, যেটি পাঠকদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। যে কোন পরিমাণের সহযোগীতা, সেটি ছোট বা বড় হোক, আপনাদের প্রতিটি সহযোগীতা আমাদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অবদান রাখতে পারে। তাই State watch-কে সহযোগীতার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ