Trial Run

টিকার দুই ডোজ গ্রহণের পরও করোনায় আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অনেক দেশেই টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকেই করোনা টিকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু টিকার দুই ডোজ গ্রহণ করার পরেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ভারতের এক ব্যক্তি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই ব্যক্তি ভারতীয় গুজরাট রাজ্যের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী।

সেখানকার স্থানীয় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এমএইচ সোলাঙ্কি ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানান, ওই স্বাস্থ্যকর্মী গত ১৬ জানুয়ারি করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ডোজ নেন। এরপর তার শরীরে জ্বর আসে। পরে তার নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং ২০ ফেব্রুয়ারি জানা যায়, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তিনি আরও বলেন, হালকা লক্ষণ থাকায় বর্তমানে তিনি বাড়িতেই আইসোলেশনে আছেন। আগামীকাল সোমবার (০৮ মার্চ) থেকেই তিনি কাজে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার কারণে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ”পজিটিভ” হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অনেকের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি রয়েছে কারণ, এই টিকা নেয়ার পরেও কারও কারও কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। সেই ভুল ভাঙ্গতে এক স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার কারণে কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া বা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু করোনাভাইরাসের দুইটি ডোজ শেষ হওয়ার পরেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগে। সেই পর্যন্ত সতর্ক না থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

চলমান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে ব্যবহৃত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ গ্রহণের ন্যূনতম ২ সপ্তাহ পর থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি হয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে। তাই এই সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

এই কারণে ভ্যাকসিন গ্রহণের পূর্বে ও পরেও মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাংলাদেশে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড টিকা দেয়া হচ্ছে, যা উৎপাদন করছে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ৬০৬ জন শনাক্তসহ দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জন।

রবিবার দুপুরে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০৩৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৩ হাজার ৩ জন হয়েছে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/১৮৩০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আপনার মতামত জানানঃ