
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ গত ৪ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন তার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউজিসি গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন।
আজ শনিবার(০৬ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনভাবেই এটি প্রত্যাশিত নয়।
উপাচার্য কলিমুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ইউজিসি আরও বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইউজিসিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অনিয়মের অভিযোগটি পরিকল্পনা সংক্রান্ত হওয়ায় ইউজিসি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য, পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পদমর্যাদা অনুসারে তারা কমিটির আহবায়ক, সদস্য ও সদস্য সচিব হয়েছেন।
তদন্ত কমিটি পেশাদার মনোভাব নিয়ে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। তদন্তটি দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর কোনো পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য কেউ প্রভাব বিস্তার করার কোনো ধরনের সুযোগ নেই।
কমিশন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায় যে, বেরোবির বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ শিক্ষামন্ত্রী ও তদন্ত কমিটি নিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। উপাচার্যের মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কোনোভাবেই এটি প্রত্যাশিত নয়।
ইউজিসি আরও বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি কখনো কোনো বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি। কোনো উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে এমন কোনো ধরনের পরামর্শ বা নির্দেশনা তিনি কখনোই প্রদান করেননি। বরং তিনি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গুণগত ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব দিয়েছেন। ইউজিসি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কমিশন সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। এছাড়া ইউজিসি এ ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অনুরোধ জানিয়েছে।
উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ১০তলা ভবন ও একটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি সরেজমিন তদন্ত কমিটি। এর জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার(০৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। সংবাদ সম্মেলন করে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব অভিযোগ ও ইউজিসির ‘এমন তদন্ত’ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়–প্রশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় পরিস্থিতি এ অবস্থায় এসেছে বলেও অভিযোগ করেন অধ্যাপক কলিমউল্লাহ।
ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্য বলেন, ইউজিসির প্রতিবেদন কেন এমন হয়েছে, তার জন্যও পরিপূর্ণভাবে দায়দায়িত্ব শিক্ষামন্ত্রীর। তার পরামর্শে তদন্ত কমিটি এমন আচরণ করেছে বলে অভিযোগ কলিমউল্লাহর।
এদিকে একইদিনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ তার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) শিক্ষামন্ত্রী প্রভাবিত করার যে অভিযোগ তুলেছেন- তা অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়েরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিধায় এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।
ঢাকায় বসে মিথ্যাচার, শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ এনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে ওইদিনই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
ভিসির ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
সংগঠনটি বলেছে, ভিসির মদদে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে এবং ভিসি নিজেও যেভাবে আইন অমান্য করে চলছেন, তাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ পড়াশোনার পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা চাই দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের শাস্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা হোক।
এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৭১২
আপনার মতামত জানানঃ