Trial Run

কাদের মির্জার নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলা

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাটে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের গুলিবিদ্ধ নিহত সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের দাফন সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ পর আরেক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ আছে এ হামলায় কাদের মির্জা নিজেই নেতৃত্ব দেন। গতকাল (২১ ফেব্রুয়ারি) রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বসুরহাট রূপালী চত্বরের কাছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কম এবং দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনিরকে মারধর করে কাদের মির্জার সমর্থকরা।

সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বসুরহাট বাজারের তার ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দোকানের সামনের সড়ক দিয়ে কাদের মির্জা যাওয়ার সময় তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দেন। কাদের মির্জা নিজেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ওই সাংবাদিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সঙ্গে থাকা তার কয়েকজন অনুসারী তাকে (গিয়াস উদ্দিন) মারধর করে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার কয়েকজন অনুসারী রনিকে কিল-ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় তার হাতে থাকা দুইটি মুঠোফোন সেট রাস্তায় পড়ে গেলে নিয়ে যায় কাদের মির্জার অনুসারীরা।

ঠিক কি অভিযোগে আপনার ওপর হামলা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি নিজেও জানি না কি কারণে আমার সঙ্গে এমন হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নিবেন কি না তাও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি জায়েদুল হক রনি জানান, এ ধরনের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির। পরে স্থানীয়রা প্রথমে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যানা। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫) দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার এবং অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজারের স্থানীয় প্রতিনিধি ছিলেন। ২০২০ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে দর্শনে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স পাশ করে স্নাতকোত্তরে পড়ছিলেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন মুজাক্কির। তিনি চরফকিরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াব আলী মাস্টারের ছেলে সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।

এদিকে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ছাড়াও আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মুজাক্কিরের খুনিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে এতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন। একই দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/২২০০

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

আপনার মতামত জানানঃ