Trial Run

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের করোনা স্ট্রেন এবার ভারতে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, চারজনের শরীরে দক্ষিণ আফ্রিকান প্রজাতির ভাইরাস পাওয়া গেছে। আর একজনের শরীরে মিলেছে ব্রাজিলীয় প্রজাতির নমুনা। মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ধরন যুক্তরাজ্যে পাওয়া স্ট্রেনের চেয়েও শক্তিশালী। নতুন এই স্ট্রেনগুলো অনেক সহজে আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসকে সংক্রমিত করতে সক্ষম। ভারতে এখন পর্যন্ত করোনার ব্রিটিশ স্ট্রেনে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১৮৭ জনে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানান, তাদের অধীনস্থ সংস্থা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি-তে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জিনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্লেষণ চলছে। ব্রাজিলীয় স্ট্রেনের নমুনা নিয়েও কাজ চলছে পুনেতে।

তিনি বলেন, অ্যাঙ্গোলা থেকে একজন, তানজানিয়ার একজন ও দুইজন দক্ষিণ আফ্রিকানের শরীর দক্ষিণ আফ্রিকার করোনার নতুন স্ট্রেন পাওয়া গেছে। তাদের শরীরে জানুয়ারি মাসে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ব্রাজিলে যে করোনার স্ট্রেন আছে, সেটি ব্রাজিল থেকে ফেরা এক নাগরিকের শরীরে পাওয়া গেছে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। আক্রান্ত ও তার যাবতীয় কন্ট্যাক্টদের কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। ব্রাজিলের ভাইরাস স্ট্রেনটাকে ইতিমধ্যেই কালচার করা হয়েছে। সেটির ওপর করোনা ভ্যাকসিন কার্যকর কি না, পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আইসিএমআরের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেনটি ৪৪টি দেশে ও ব্রাজিলের স্ট্রেনটি ১৫টি দেশে ছড়িয়েছে।

করোনার নতুন স্ট্রেনের জন্য ব্রিটেন ফ্লাইট বন্ধ করেছিল, সেরকম ভারতে কিছু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সদুত্তর মেলেনি। তবে সেই সব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার যে কড়াকড়ি হবে, সেই ইঙ্গিত মিলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রেইনটি এন৫০১ওয়াই নামক একটি মিউটেশন বহন করেছে যা এটিকে আরও সংক্রামক করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভ্যারিয়েন্ট অ্যান্টিবডি তৈরিতে আগের চেয়ে কম সংবেদনশীল। উল্লেখ্য, সার্স কোভ-২ ভাইরাসের এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট করোনার ব্রিটিশ স্ট্রেইনের চেয়েও বেশি সংক্রামক বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। খুব দ্রুত বিভাজিত হওয়ার ক্ষমতা আছে এটির। জিনগত বদল বা জেনেটিক মিউটেশনের কারণে এই নতুন স্ট্রেইন অধিক সংক্রামক। স্পাইক প্রোটিনের আকারই বদলে দিয়েছে এটি। দ্রুত দেহকোষের রিপেসটর প্রোটিনগুলোকে চিহ্নিত করে ফেলতে পারে। তখন আর শুধু ফুসফুস নয়, শরীরে নানা অঙ্গেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে খুব দ্রুত।

গত ডিসেম্বরে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের এই নতুন স্ট্রেইন বা ধরনটি ধরা পড়ে। অন্য ভাইরাসের চেয়ে এটি দ্রুত ছড়ায়। আর এই ভাইরাস মানবদেহের কোষগুলোকে সহজে কাবু করতে সক্ষম। তবে এটি অন্য করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য এবং ব্রাজিলেও দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায় এমন ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ধরনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী মার্চ নাগাদ এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ভাইরাস হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে দেশটির সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ জানিয়েছে।

বর্তমানে যেসব টিকা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো নতুন ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে বেশি নাকি কম কাজ করবে তা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন সিডিসি প্রধান ড. অ্যান্থনি ফসি। তবে, মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নোভাভ্যাক্সের করোনার টিকা যুক্তরাজ্যের করোনার স্ট্রেইন প্রতিরোধে কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসে ভারতে আক্রান্ত বেড়ে ১ কোটি ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও আগের চেয়ে তা অনেকটাই কম। ভারত এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৭৯ লক্ষের বেশি ও তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে আক্রান্ত ৯৬ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে।

এসডব্লিউ/এমএন/ এফএ/২০০৩

ছড়িয়ে দিনঃ
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

আপনার মতামত জানানঃ