Trial Run

অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় সাবেক ভিসিসহ তিনজন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় কুমিল্লার বেসরকারি ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ও ট্রেজারারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।  গতকাল সোমবার(০৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে তারাসহ পাঁচ আসামি জামিন আবেদন করেন। আদালত এ সময় দুই নারীকে জামিন দেন এবং ওই তিনজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্নীতি ও জালিয়াতির দুইটি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শহীদ আজিজকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আসফিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবদুস সাত্তার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।

অ্যাডভোকেট আসফিকুর রহমান জানান, দুদক কুমিল্লার সহকারী পরিচালক একে এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির দু’টি মামলা দায়ের করেন। প্রথম মামলায় আসামি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান এহসানুল হক, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সাইফুল আলম চৌধুরী, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান ও সাবেক ভিসি ড. আবদুস সাত্তারকে। ২য় মামলায় আসামি করা হয় চেয়ারম্যান এহসানুল হক, ট্রেজারার সিদ্দিকুর রহমান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য শহীদ আজিজ, সদস্য সাইফুল আলম চৌধুরী, সদস্য ফারহানা রহমান, সদস্য মেরিনা জেবিন, ভিসি ড. আবদুস সাত্তার, ইউনিয়ন ব্যাংক কুমিল্লা পদুয়ার বাজার শাখার ম্যানেজার আনিস আহমেদ ও ডেপুটি ম্যানেজার মো. সোলায়মানকে।

প্রথম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা ২০১৩ সালের ২২ জুন থেকে ২০১৭ সালের ২১ জুন পর্যন্ত ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তখন উপাচার্যের বেতন ধরা হয়েছিল মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু উপাচার্যকে প্রতি মাসে দেওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা। ৪৮ মাসে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা করে ৭২ লাখ টাকা বেশি খরচ দেখানো হয়।

আর ২য় মামলায় বলা হয়, আসামিরা বোর্ড অব ট্রাস্টির সব সদস্যকে না জানিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংকে হিসাব খোলেন। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত আসামিরা ওই হিসাব থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৪৮৬ টাকা লেনদেন করেন।

দুইটি মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। ২য় মামলার চার্জশিটে দুই ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়। অন্য আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন আনেন। সোমবার পাঁচ আসামি কুমিল্লার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। এ সময় আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠান। মামলার বিবাদী মেরিনা জেবিন তার শিশুসন্তান নিয়ে আদালতে হাজির হলে পরে দুই নারী বিবাদীকে মানবিক কারণে জামিন দেন জেলা ও দায়রা জজ।

দুদকের আইনজীবী আসফিকুর রহমান বলেন, নথিপত্র ঘেঁটে মনে হচ্ছে উভয় মামলায় সবচেয়ে বড় অপরাধী হলেন কোষাধ্যক্ষ মো. ছিদ্দিকুর রহমান। তার নেতৃত্বে অন্যরা এই ঘটনায় জড়ান।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে পড়ছে, বিষয়টা একদিকে যেমন লজ্জাজনক অন্যদিকে বিপজ্জনক। এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষকদের অধীনে পড়াশোনা করে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কী অর্জন করবে এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করেন। দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এসব একটি রাষ্ট্র কিংবা জাতির ভিত নষ্টের আলামত বলে মনে করেন তারা।

এসডব্লিউ/এমএন/কেএইচ/১৪২৭ 

ছড়িয়ে দিনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আপনার মতামত জানানঃ